আমরাদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রজোট, আসিয়ান এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ২০১৮-র ২৫ জানুয়ারি নতুন দিল্লিতে ‘অভিন্ন মূল্যবোধ ও ভবিতব্য’ শীর্ষকমূল ভাবনার সুরে আসিয়ান-ভারত আলোচনা সম্পর্কের ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একস্মারক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলাম।

আসিয়ান-ভারতআলোচনা সম্পর্ককে নীতি, উদ্দেশ্য, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং নিয়মকানুনের ভিত্তিতে এগিয়েনিয়ে যাওয়ার সঙ্কল্পে আমরা পুনরায় আস্থা ব্যক্ত করেছি। এইসব নীতিগুলিরাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সহযোগিতা এবং মৈত্রী চুক্তি,পারস্পরিকসম্পর্কের নীতিতে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠকের ঘোষণাপত্র এবং ২০১২-র ২০ডিসেম্বর আসিয়ান-ভারত আলোচনা সম্পর্কে বিংশতম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মারকশীর্ষ বৈঠকে গৃহীত দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত বিবৃতি এবং আসিয়ান সনদের মধ্যেই নিহিতরয়েছে।

কয়েকসহস্রাব্দব্যাপী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতের মধ্যে সভ্যতা-ভিত্তিক সম্পর্ক এবংপারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রেক্ষিতকে আসিয়ান এবং ভারতের মধ্যে সহযোগিতার দৃঢ়ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করার কথা আমরা বিশেষভাবে আলোচনা করেছি।

রাজনৈতিক-নিরাপত্তা,অর্থনৈতিক এবং সমাজ-সাংস্কৃতিক – এই তিনটি স্তম্ভের ওপর আসিয়ান-ভারত আলোচনাসম্পর্কে বিগত ২৫ বছরে যে সব কাজের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, আমরা তার সপ্রশংসস্বীকৃতি দিচ্ছি।

শান্তি,প্রগতি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির (২০১৬-২০) জন্য আসিয়ান-ভারত অংশীদারিত্বেরকর্মপরিকল্পনাটি রূপায়ণের ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে আমরা সন্তোষ ব্যক্ত করতে চাই। এছাড়া,আসিয়ান-ভারত কর্মপরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য ২০১৬-১৮-র মধ্যে যে অগ্রাধিকার নির্ধারিতহয়েছে, সে বিষয়েও আমরা সন্তোষ ব্যক্ত করতে চাই।

আঞ্চলিকসম্পর্ক ও কাঠামোর ক্ষেত্রে আসিয়ানকে কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে ভারতেরসমর্থন এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং আসিয়ান অখণ্ডতা ও গোষ্ঠীনির্মাণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অবদানের আমরা প্রশংসা করি। বিশেষ করে, ‘আসিয়ান,২০২৫ : সকলে মিলে এগিয়ে যাওয়া’, ‘আসিয়ান সংযোগেরমাস্টারপ্ল্যান, ২০২৫’ এবং ‘আসিয়ান অখণ্ডতার তৃতীয় কর্মপরিকল্পনা’ রূপায়ণেরক্ষেত্রে ভারতের সদর্থক ভূমিকার কথা প্রশংসনীয় বলে আমরা মনে করি।

আসিয়ানসদস্যভুক্ত দেশগুলিতে এবং ভারতে ২০১৭ জুড়ে এবং ২০১৮-র প্রথম দিকে যে সব স্মারকঅনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের গোষ্ঠীর মধ্যে আসিয়ান-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবংআসিয়ান-ভারত যুব শীর্ষ বৈঠক, আসিয়ান-ভারত যুব পুরস্কার – যুব নেতৃত্ব কর্মসূচি ও আসিয়ান-ভারতসঙ্গীত উৎসব আয়োজনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমরানিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে একমত হয়েছি :

1. রাজনৈতিক-নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক,সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার সমগ্র ক্ষেত্রে আসিয়ান-ভারত কৌশলগতঅংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী এবং গভীর করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এর জন্যপ্রাসঙ্গিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে এবং সরকারি সংস্থাগুলিরমধ্যে নেটওয়ার্ককে আরও প্রসারিত করা হবে। সংসদীয়, বাণিজ্যিক, বৈজ্ঞানিক, শিক্ষাগত,চিন্তাগত, মিডিয়া, যুব ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ মৈত্রী এবং আমাদের অঞ্চলেরগোষ্ঠী সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি।

2. শান্তি, প্রগতি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির (২০১৬-২০) জন্য আসিয়ান-ভারতঅংশীদারিত্বের কর্মপরিকল্পনা যথাযথ সময়ে এবং সুদক্ষভাবে রূপায়ণের জন্য আমরা উদ্যোগগ্রহণ করব এবং সহযোগিতাকে প্রসারিত করব।

3. আসিয়ান-ভারত আলোচনা অংশীদারিত্ব এবং আসিয়ানের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যবস্থাপ্রচলিত কাঠামোর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা এবং সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধি করারলক্ষ্যে কাজ করার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। আসিয়ান-কেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিকব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে – আসিয়ান-ভারত শীর্ষ বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠক,ভারতের সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন-পরবর্তী আলাপ-আলোচনা, আসিয়ান আঞ্চলিকফোরাম, আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক এবং অন্যান্য আসিয়ান-ভারত মন্ত্রীপর্যায়ের এবং ক্ষেত্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

4. আসিয়ান গোষ্ঠী কর্মসূচি, ২০২৫-কে কার্যকরভাবে রূপায়ণের জন্য আমরাআসিয়ান-এর মধ্যে অখণ্ডতা এবং আসিয়ান গোষ্ঠী নির্মাণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানাব এবংঅবদান রাখার চেষ্টা করব।

রাজনৈতিকএবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা

5. আমরা অভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে সবইস্যুগুলির সঙ্গে আমাদের স্বার্থ জড়িয়ে আছে, সেক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়েযাওয়ার সঙ্কল্প গ্রহণ করেছি। আসিয়ান-কেন্দ্রিক প্রচলিত কাঠামো এবং ব্যবস্থা যেমন,ভারতের সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন-পরবর্তী আলাপ-আলোচনা, আসিয়ান আঞ্চলিকফোরাম, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠক, আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক এবং অন্যান্যআসিয়ান-ভারত মন্ত্রী পর্যায়ের এবং ক্ষেত্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও সীমান্তপারের অপরাধ মোকাবিলা বিষয়ে আসিয়ান দেশভুক্ত আধিকারিক ও ভারতেরআলাপ-আলোচনার মাধ্যমেএকটি স্বচ্ছ, খোলামেলা, অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়ম-ভিত্তিক আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলারলক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাব।

6. ১৯৮২ সালের সামুদ্রিক আইন সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘ কনভেনশন, আন্তর্জাতিকবেসামরিক উড়ান সংগঠন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সংগঠন কর্তৃক স্বীকৃতআন্তর্জাতিক আইনকানুন অনুসারে আমরা এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমুদ্রনিরাপত্তা, জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, বিমান চলাচলের সুষ্ঠু ব্যবস্থা এবং সমুদ্রেরঅন্যান্য ব্যবহারিক কাজকর্ম এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে এবং শান্তিপূর্ণউপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।

7. সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায়‘বর্ধিত আসিয়ান মেরিটাইম ফোরাম’ সহ প্রচলিত প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমেসামুদ্রিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি।

8. আন্তর্জাতিক অসামরিক উড়ান সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংগঠন দ্বারাস্বীকৃত প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি অনুসারে সমুদ্রে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আসিয়ান এবংভারতের মধ্যে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে অনুসন্ধান এবং উদ্ধারমূলক তৎপরতার জন্য একযোগেকাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। এছাড়া, সামুদ্রিক গবেষণার সঙ্গে যুক্তসংস্থাগুলির মধ্যে বর্ধিত যোগাযোগ গড়ে তোলা, সামুদ্রিক গবেষণা শিক্ষা, উন্নয়ন এবংউদ্ভাবন বিষয়েও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা কাজ চালিয়ে যেতে একমত হয়েছি।

9. আসিয়ান-কেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আমরা যে কোন ধরনেরসন্ত্রাসবাদ এবং হিংস্র জঙ্গিপন্থা ও জঙ্গিকরণের সমস্যা মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়,আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সংগঠন নির্মাণের ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা আরওগভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছি। আসিয়ান-ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যেরয়েছে – সীমান্ত পারের অপরাধ মোকাবিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির আধিকারিক ও ভারতেরমধ্যে বৈঠক, আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের সন্ত্রাসবাদ বিরোধীকর্মীগোষ্ঠী এবং ২০০৩-এর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত আসিয়ান-ভারত যৌথঘোষণাপত্র, ২০১৫-র হিংস্র জঙ্গিপন্থা বিরোধী পূর্ব এশীয় দেশগুলির বিবৃতি, অর্থপাচার এবং সন্ত্রাসমূলক তৎপরতার জন্য অর্থ সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে পূর্ব এশীয়দেশগুলির নেতৃবৃন্দের ২০১৭ সালের ঘোষণাপত্র এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামেরসন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত পারের অপরাধ বিরোধী কর্মপরিকল্পনা। এর অতিরিক্ত হিসাবেসীমান্ত পারের অপরাধ যথা – চোরাচালান, মানব পাচার, মাদক চালান, সাইবার অপরাধ,জলদস্যুতা এবং জাহাজে সশস্ত্র ডাকাতির মতো সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা আরওশক্তিশালী করার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি।

10. বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষদের কাজেসহযোগিতা, নিরাপত্তা, আইনের শাসন মেনে চলা, সুষম এবং অন্তর্ভুক্ত বিকাশ,সমতা-ভিত্তিক আর্থিক বৃদ্ধি এবং সামাজিক সমন্বয়কে উৎসাহিত করতে ‘ল্যাঙ্কাউইঘোষণাপত্র’কে রূপায়ণের উদ্যোগ বিষয়েও আমাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

11. আমরা নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদমোকাবিলার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার নতুনকরে ব্যক্ত করেছি। সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর কাজ বন্ধ করা, সীমান্ত পারেরসন্ত্রাসবাদী তৎপরতা, বিদেশি সন্ত্রাসবাদী এবং ইন্টারনেট সহ সোশ্যল মিডিয়া ব্যবহারকরে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালানোর বিরুদ্ধে উদ্যোগ গ্রহণে আমরা একমত হয়েছি। এছাড়া,সন্ত্রাসমূলক তৎপরতার জন্য আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করার ক্ষেত্রে এবং সন্ত্রাসবাদীগোষ্ঠীগুলি সংগঠনগুলি যাতে নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এইসবগোষ্ঠী ও তাদের আশ্রয়স্থলগুলিকে লক্ষ্য করে অভিযানের প্রতি আমরা সমর্থন ব্যক্তকরছি। অন্যদিকে, কোনভাবেই যাতে সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসমূলক তৎপরতা বিস্তার লাভকরতে না পারে, সেই লক্ষ্যে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোন যুক্তিতেই যাতেসন্ত্রাসমূলক তৎপরতাকে কেউ সমর্থন না করে, সে বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি।

12. সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার ক্ষেত্রেরাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলিকে মান্যতা দেওয়ারক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একযোগে কাজ করা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিকসন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কনভেনশনের ক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও একযোগেকাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা একমত হয়েছি।

13. আসিয়ান সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্তসহযোগিতা কৌশল, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তিব্যবস্থা এবং আসিয়ান-এর বিভিন্ন ক্ষেত্রীয় সংস্থাগুলি কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপেরমাধ্যমে আঞ্চলিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার বিষয়েও আমরা একমতহয়েছি। ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত প্রথম আসিয়ান-ভারত সাইবার আলোচনা বৈঠকে সাইবারনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৫ সালের আসিয়ান-ভারত সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলনেরসিদ্ধান্তগুলিকে সক্রিয়ভাবে রূপায়ণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও আমাদেরঐকমত্য হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা

14. আমরা আসিয়ান-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরওশক্তিশালী করে তুলতে চাই। আসিয়ান-ভারত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সংক্রান্ত চুক্তিটিরসম্পূর্ণ ব্যবহার এবং সুষ্ঠু রূপায়ণ ও ২০১৮ সালে সংশ্লিষ্ট সবকটি দেশের পক্ষেসুবিধাজনক আঞ্চলিক, সার্বিক, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক আলোচনাকে দ্রুত চূড়ান্তকরতে ঐকমত্য হয়েছে।

15. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামুদ্রিক আইন সংক্রান্তকনভেনশনের ভিত্তিতে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ভারত মহাসাগর এবংপ্রশান্ত মহাসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সুষম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতাবৃদ্ধি করার বিষয়েও আমরা রাজি হয়েছি। সমুদ্রের এইসব সম্পদকে বেআইনিভাবে নষ্ট করা,অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা বন্ধ করা, উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা, দূষণনিয়ন্ত্রণ, সমুদ্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক বর্জ্য পদার্থ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করাএবং সামুদ্রিক পরিবেশের পক্ষে প্রতিকূল বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবিস্তার প্রতিরোধ করার বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। এই লক্ষ্যে নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রেসহযোগিতার বৃদ্ধির বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য একটিসম্ভাব্য রূপরেখা তৈরির জন্য ভারত সরকারের প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করাহয়েছে।

16. আসিয়ান-ভারত উড়ান সহযোগিতা ব্যবস্থা সংক্রান্তযে সমঝোতা ২০০৮-এর ৬ নভেম্বর ম্যানিলায় আসিয়ান দেশগুলির পরিবহণ মন্ত্রীদের চতুর্দশবৈঠকে গৃহীত হয়েছে তার আওতায় এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে।আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা ব্যবস্থা এবং টেকনিক্যাল, অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রণমূলকব্যবস্থা সংক্রান্ত বিমান পরিবহণ সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য আঞ্চলিক বিমান পরিষেবাসংক্রান্ত আসিয়ান-ভারত কর্মীগোষ্ঠীতে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়েও কথাএগিয়েছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলি ও ভারতের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্যকে উৎসাহ দিতেসংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে আরও বেশি করে বিমান যোগাযোগ গড়ে তোলার বিষয়ে এবারেরশীর্ষ বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।

17. ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে সামুদ্রিক পরিবহণক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও এর জন্য সমুদ্র বন্দর, সামুদ্রিক পরিবহণ নেটওয়ার্ক ওপরিষেবা ক্ষেত্রে আরও বেশি করে বেসরকারি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা নিয়েও কথাহয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলিতে ভারত ও আসিয়ানআলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে স্থির হয়েছে।

18. বিমান উড়ান এবং সামুদ্রিক পরিবহণ ক্ষেত্রেসহযোগিতা শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে আসিয়ান-ভারত বিমান পরিবহণ চুক্তি এবংআসিয়ান-ভারত সামুদ্রিক পরিবহণ সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনারঅগ্রগতি হয়েছে।

19. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেসহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণ, পরিকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটালযোগাযোগ গড়ে তোলা এবং পরিষেবা উন্নয়নের মাধ্যমে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।সফট্‌ওয়্যার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির মানবসম্পদ গড়ে তোলার কথাও হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রেস্টার্ট আপ সংস্থাকে উৎসাহিত করা, নতুন নতুন প্রযুক্তিকে এই কাজে ব্যবহার করারমধ্য দিয়ে ‘আসিয়ান যোগাযোগ ২০২৫’-এর মাস্টারপ্ল্যান এবং ‘আসিয়ান তথ্য ও যোগাযোগসংক্রান্ত মাস্টার প্ল্যান ২০২০’কে দ্রুত রূপায়ণের উদ্যোগের বিষয়েরও ঐকমত্য হয়েছে।

20. অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পোদ্যোগগুলির স্থিতিশীল ও সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসিয়ান দেশগুলির মধ্যেপ্রযুক্তি হস্তান্তর সহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন, টেকনিক্যাল সহায়তা,পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা, আর্থিক সহায়তা কেন্দ্র প্রভৃতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশেরএই ধরণের শিল্পোদ্যোগগুলিকে আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্তকরার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্প উন্নয়ন তহবিল ও দ্রুত উন্নয়নেরপ্রকল্প তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়েও কথা হয়েছে।

21. কৃষি ও শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিরমাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে খাদ্য ও শক্তি নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির উন্নয়নে আন্তর্জাতিকসৌরজোটের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।

22. আসিয়ান-ভারত উদ্ভাবন মঞ্চ, আসিয়ান-ভারতগবেষণা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত ফেলোশিপ প্রকল্প এবং আসিয়ান-ভারত সহযোগিতামূলকগবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির ভিত্তিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্ষেত্রীয়সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১৬-২০২৫ সালের জন্য বিজ্ঞান,প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন বিষয়ে আসিয়ান পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যানোপ্রযুক্তি, বস্তু বিজ্ঞান এবং জৈব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাহয়েছে।

23. আসিয়ান-ভারত মহাকাশ সহযোগিতা কর্মসূচিরূপায়ণের মধ্য দিয়ে বহির্মহাকাশকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছে।এই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলির মধ্যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকরে তার ওপর নজরদারি এবং এইসব উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ছবি ব্যবহার করেভূ-গর্ভ, সমুদ্র, পরিবেশগত এবং ডিজিটাল সম্পদকে সুষম-ভিত্তিতে কাজে লাগানোর বিষয়েওকথা হয়েছে। এছাড়া, ছোট ছোট উপগ্রহ ব্যবহার করে আন্তঃউপগ্রহ যোগাযোগ সহ সংশ্লিষ্টঅন্যান্য ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য সহযোগিতার বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্যআলোচনা হয়েছে।

24. আসিয়ান-ভারত বাণিজ্য পরিষদের মাধ্যমেব্যবসায়ী থেকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা, বেসরকারি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণবৃদ্ধি, আসিয়ান ও ভারতীয় পণ্যের ব্র্যান্ড বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাণিজ্যমেলার আয়োজন সহ অর্থনৈতিক যোগাযোগকে গভীরতর করার কথা হয়েছে। আমরা আসিয়ান-ভারতবাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আশাবাদী।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক সহযোগিতা

25. আসিয়ান ও ভারতের মধ্যে সভ্যতাগত এবংঐতিহাসিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতা বিষয়ক এবারের বৈঠকে সদর্থক আলোচনাহয়েছে। এই সহযোগিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ’ল নীতি-নির্ধারক, পরিচালক এবং শিক্ষামহলের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ – এগুলিকে সুরক্ষিতরাখার লক্ষ্যে আসিয়ান-ভারত সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সংযোগের প্রতিফলন ঘটে এই ধরণেরপারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি। এছাড়া রয়েছে – মেকং নদীরখাদ বরাবর বিভিন্ন প্রত্নসৌধে খোদাই করা লিপিগুলির মানচিত্র তৈরি এবং আসিয়ান-ভারতসাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের বিষয়ে সম্মেলনের আয়োজন।

26. ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যেস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের পর আসিয়ানের স্বাস্থ্য উন্নয়নকর্মসূচির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা, সবার কাছে স্বাস্থ্যপরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, সুলভে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা এবং চিরাচরিতচিকিৎসা ব্যবস্থাগুলিকে উন্নত করা।

27. দিল্লি আলোচনা, আসিয়ান-ভারত ভাবনাচিন্তাসংক্রান্ত নেটওয়ার্ক, আসিয়ান-ভারত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তৃতামালা, সংশ্লিষ্টদেশগুলির কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ, ছাত্রছাত্রী, আইনসভার সদস্য, কৃষক, মিডিয়ারসদস্যদের জন্য সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করা ও মানুষেমানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও এবারের বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।

28. শিক্ষা ও যুব ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে জোরদারকরার জন্য ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, উদ্যোগপতি উন্নয়ন, বৃত্তিগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগড়ে তোলা, স্কলারশিপের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হয়েছে। বিশেষ করে, ইন্ডিয়ানটেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন স্কলারশিপ, আসিয়ান-ভারত গুডউইল স্কলারশিপ,নালন্দা স্কলারশিপ-এর সুবিধা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ছাত্র-যুবদের দেওয়ার জন্য কথাহয়েছে। এবারের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য একটি আসিয়ান-ভারত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাগড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কবৃদ্ধি করার বিষয়েও কথা হয়েছে।

29. প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা ও মানবিকসহায়তার ক্ষেত্রে আসিয়ান-ভারত সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রাকৃতিকবিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত একটি সমন্বয়কারী কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে কথাবার্তাঅনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে। আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেএকযোগে তা মোকাবিলার জন্য যে ঘোষণাপত্র জারি হয়েছে, তাকে সফল করে তুলতে আঞ্চলিকপ্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্রগুলির মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় ও সহযোগিতার কথাহয়েছে।

30. আসিয়ান ও ভারতের মধ্যে মহিলাদের ক্ষমতায়ন,মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের বিরুদ্ধে সব ধরণের হিংসাত্মক ঘটনার মোকাবিলা ওমহিলা উদ্যোগপতিদের উৎসাহিত করতে ২০১৬-২০২০’র জন্য আসিয়ান-ভারত কর্মপরিকল্পনাঅনুসারে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেপরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ বিষয়েওসদর্থক আলোচনা হয়েছে।

31. পরিবেশ পরিচালন ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আসিয়ানকর্মীগোষ্ঠীর ২০১৬-২০১৫ – এর কর্মপরিকল্পনা ও অন্যান্য এই ধরণের পরিকল্পনারভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।

32. যৌথ গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমেজৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিচালনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে নেতৃবৃন্দেরমাধ্যমে আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছে। জৈববৈচিত্র্য ধ্বংস প্রতিরোধ, বাস্তুতন্ত্রসংরক্ষণের ক্ষেত্রে জৈববৈচিত্র্য সংক্রান্ত আসিয়ান কেন্দ্রের কাজে সবরকমেরসহযোগিতা করার বিষয়েও আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

33. ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে সিভিলসার্ভিস সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে নেটওয়ার্কিং এবংঅংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে এই বৈঠকে স্থির হয়েছে।আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির সিভিল সার্ভিসে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মীদের উপযুক্তপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বিষয়েও কথা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়েই ‘আসিয়ানলক্ষ্য ২০২৫’কে রূপায়ণের জন্য এগিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।

যোগাযোগ

34. ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যেপ্রত্যক্ষ বস্তুগত যোগাযোগ এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে আরও উন্নত করে তোলার লক্ষ্যে এসংক্রান্ত দুটি কর্মপরিকল্পনা রূপায়ণের কথা হয়েছে। বস্তুগত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবংডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সরকার যে ১০০ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে,তা কাজে লাগিয়ে এই কর্মপরিকল্পনাগুলি রূপায়ণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে স্থিরহয়েছে।

35. ভারত-মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড, এই তিনটিদেশের মধ্যে একটি তৃদেশীয় মহাসড়ক প্রকল্প রূপায়ণের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা দ্রুতসম্পূর্ণ করার বিষয়েও নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই মহাসড়ককে কম্বোডিয়া, লাওএবং ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত করার বিষয়েও সদর্থক আলোচনা হয়েছে।

উন্নয়নের পার্থক্য দূর করার ক্ষেত্রেসহযোগিতা

36. আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে উন্নয়নেরক্ষেত্রে পার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে ভারত যেভাবে সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং তাঅব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের শীর্ষ বৈঠকে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালে ২৫ জানুয়ারি ভারতের নতুন দিল্লিতে এইঘোষণাপত্র গৃহীত হ’ল।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'Will walk shoulder to shoulder': PM Modi pushes 'Make in India, Partner with India' at Russia-India forum

Media Coverage

'Will walk shoulder to shoulder': PM Modi pushes 'Make in India, Partner with India' at Russia-India forum
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Today, India is becoming the key growth engine of the global economy: PM Modi
December 06, 2025
India is brimming with confidence: PM
In a world of slowdown, mistrust and fragmentation, India brings growth, trust and acts as a bridge-builder: PM
Today, India is becoming the key growth engine of the global economy: PM
India's Nari Shakti is doing wonders, Our daughters are excelling in every field today: PM
Our pace is constant, Our direction is consistent, Our intent is always Nation First: PM
Every sector today is shedding the old colonial mindset and aiming for new achievements with pride: PM

आप सभी को नमस्कार।

यहां हिंदुस्तान टाइम्स समिट में देश-विदेश से अनेक गणमान्य अतिथि उपस्थित हैं। मैं आयोजकों और जितने साथियों ने अपने विचार रखें, आप सभी का अभिनंदन करता हूं। अभी शोभना जी ने दो बातें बताई, जिसको मैंने नोटिस किया, एक तो उन्होंने कहा कि मोदी जी पिछली बार आए थे, तो ये सुझाव दिया था। इस देश में मीडिया हाउस को काम बताने की हिम्मत कोई नहीं कर सकता। लेकिन मैंने की थी, और मेरे लिए खुशी की बात है कि शोभना जी और उनकी टीम ने बड़े चाव से इस काम को किया। और देश को, जब मैं अभी प्रदर्शनी देखके आया, मैं सबसे आग्रह करूंगा कि इसको जरूर देखिए। इन फोटोग्राफर साथियों ने इस, पल को ऐसे पकड़ा है कि पल को अमर बना दिया है। दूसरी बात उन्होंने कही और वो भी जरा मैं शब्दों को जैसे मैं समझ रहा हूं, उन्होंने कहा कि आप आगे भी, एक तो ये कह सकती थी, कि आप आगे भी देश की सेवा करते रहिए, लेकिन हिंदुस्तान टाइम्स ये कहे, आप आगे भी ऐसे ही सेवा करते रहिए, मैं इसके लिए भी विशेष रूप से आभार व्यक्त करता हूं।

साथियों,

इस बार समिट की थीम है- Transforming Tomorrow. मैं समझता हूं जिस हिंदुस्तान अखबार का 101 साल का इतिहास है, जिस अखबार पर महात्मा गांधी जी, मदन मोहन मालवीय जी, घनश्यामदास बिड़ला जी, ऐसे अनगिनत महापुरूषों का आशीर्वाद रहा, वो अखबार जब Transforming Tomorrow की चर्चा करता है, तो देश को ये भरोसा मिलता है कि भारत में हो रहा परिवर्तन केवल संभावनाओं की बात नहीं है, बल्कि ये बदलते हुए जीवन, बदलती हुई सोच और बदलती हुई दिशा की सच्ची गाथा है।

साथियों,

आज हमारे संविधान के मुख्य शिल्पी, डॉक्टर बाबा साहेब आंबेडकर जी का महापरिनिर्वाण दिवस भी है। मैं सभी भारतीयों की तरफ से उन्हें श्रद्धांजलि अर्पित करता हूं।

Friends,

आज हम उस मुकाम पर खड़े हैं, जब 21वीं सदी का एक चौथाई हिस्सा बीत चुका है। इन 25 सालों में दुनिया ने कई उतार-चढ़ाव देखे हैं। फाइनेंशियल क्राइसिस देखी हैं, ग्लोबल पेंडेमिक देखी हैं, टेक्नोलॉजी से जुड़े डिसरप्शन्स देखे हैं, हमने बिखरती हुई दुनिया भी देखी है, Wars भी देख रहे हैं। ये सारी स्थितियां किसी न किसी रूप में दुनिया को चैलेंज कर रही हैं। आज दुनिया अनिश्चितताओं से भरी हुई है। लेकिन अनिश्चितताओं से भरे इस दौर में हमारा भारत एक अलग ही लीग में दिख रहा है, भारत आत्मविश्वास से भरा हुआ है। जब दुनिया में slowdown की बात होती है, तब भारत growth की कहानी लिखता है। जब दुनिया में trust का crisis दिखता है, तब भारत trust का pillar बन रहा है। जब दुनिया fragmentation की तरफ जा रही है, तब भारत bridge-builder बन रहा है।

साथियों,

अभी कुछ दिन पहले भारत में Quarter-2 के जीडीपी फिगर्स आए हैं। Eight परसेंट से ज्यादा की ग्रोथ रेट हमारी प्रगति की नई गति का प्रतिबिंब है।

साथियों,

ये एक सिर्फ नंबर नहीं है, ये strong macro-economic signal है। ये संदेश है कि भारत आज ग्लोबल इकोनॉमी का ग्रोथ ड्राइवर बन रहा है। और हमारे ये आंकड़े तब हैं, जब ग्लोबल ग्रोथ 3 प्रतिशत के आसपास है। G-7 की इकोनमीज औसतन डेढ़ परसेंट के आसपास हैं, 1.5 परसेंट। इन परिस्थितियों में भारत high growth और low inflation का मॉडल बना हुआ है। एक समय था, जब हमारे देश में खास करके इकोनॉमिस्ट high Inflation को लेकर चिंता जताते थे। आज वही Inflation Low होने की बात करते हैं।

साथियों,

भारत की ये उपलब्धियां सामान्य बात नहीं है। ये सिर्फ आंकड़ों की बात नहीं है, ये एक फंडामेंटल चेंज है, जो बीते दशक में भारत लेकर आया है। ये फंडामेंटल चेंज रज़ीलियन्स का है, ये चेंज समस्याओं के समाधान की प्रवृत्ति का है, ये चेंज आशंकाओं के बादलों को हटाकर, आकांक्षाओं के विस्तार का है, और इसी वजह से आज का भारत खुद भी ट्रांसफॉर्म हो रहा है, और आने वाले कल को भी ट्रांसफॉर्म कर रहा है।

साथियों,

आज जब हम यहां transforming tomorrow की चर्चा कर रहे हैं, हमें ये भी समझना होगा कि ट्रांसफॉर्मेशन का जो विश्वास पैदा हुआ है, उसका आधार वर्तमान में हो रहे कार्यों की, आज हो रहे कार्यों की एक मजबूत नींव है। आज के Reform और आज की Performance, हमारे कल के Transformation का रास्ता बना रहे हैं। मैं आपको एक उदाहरण दूंगा कि हम किस सोच के साथ काम कर रहे हैं।

साथियों,

आप भी जानते हैं कि भारत के सामर्थ्य का एक बड़ा हिस्सा एक लंबे समय तक untapped रहा है। जब देश के इस untapped potential को ज्यादा से ज्यादा अवसर मिलेंगे, जब वो पूरी ऊर्जा के साथ, बिना किसी रुकावट के देश के विकास में भागीदार बनेंगे, तो देश का कायाकल्प होना तय है। आप सोचिए, हमारा पूर्वी भारत, हमारा नॉर्थ ईस्ट, हमारे गांव, हमारे टीयर टू और टीय़र थ्री सिटीज, हमारे देश की नारीशक्ति, भारत की इनोवेटिव यूथ पावर, भारत की सामुद्रिक शक्ति, ब्लू इकोनॉमी, भारत का स्पेस सेक्टर, कितना कुछ है, जिसके फुल पोटेंशियल का इस्तेमाल पहले के दशकों में हो ही नहीं पाया। अब आज भारत इन Untapped पोटेंशियल को Tap करने के विजन के साथ आगे बढ़ रहा है। आज पूर्वी भारत में आधुनिक इंफ्रास्ट्रक्चर, कनेक्टिविटी और इंडस्ट्री पर अभूतपूर्व निवेश हो रहा है। आज हमारे गांव, हमारे छोटे शहर भी आधुनिक सुविधाओं से लैस हो रहे हैं। हमारे छोटे शहर, Startups और MSMEs के नए केंद्र बन रहे हैं। हमारे गाँवों में किसान FPO बनाकर सीधे market से जुड़ें, और कुछ तो FPO’s ग्लोबल मार्केट से जुड़ रहे हैं।

साथियों,

भारत की नारीशक्ति तो आज कमाल कर रही हैं। हमारी बेटियां आज हर फील्ड में छा रही हैं। ये ट्रांसफॉर्मेशन अब सिर्फ महिला सशक्तिकरण तक सीमित नहीं है, ये समाज की सोच और सामर्थ्य, दोनों को transform कर रहा है।

साथियों,

जब नए अवसर बनते हैं, जब रुकावटें हटती हैं, तो आसमान में उड़ने के लिए नए पंख भी लग जाते हैं। इसका एक उदाहरण भारत का स्पेस सेक्टर भी है। पहले स्पेस सेक्टर सरकारी नियंत्रण में ही था। लेकिन हमने स्पेस सेक्टर में रिफॉर्म किया, उसे प्राइवेट सेक्टर के लिए Open किया, और इसके नतीजे आज देश देख रहा है। अभी 10-11 दिन पहले मैंने हैदराबाद में Skyroot के Infinity Campus का उद्घाटन किया है। Skyroot भारत की प्राइवेट स्पेस कंपनी है। ये कंपनी हर महीने एक रॉकेट बनाने की क्षमता पर काम कर रही है। ये कंपनी, flight-ready विक्रम-वन बना रही है। सरकार ने प्लेटफॉर्म दिया, और भारत का नौजवान उस पर नया भविष्य बना रहा है, और यही तो असली ट्रांसफॉर्मेशन है।

साथियों,

भारत में आए एक और बदलाव की चर्चा मैं यहां करना ज़रूरी समझता हूं। एक समय था, जब भारत में रिफॉर्म्स, रिएक्शनरी होते थे। यानि बड़े निर्णयों के पीछे या तो कोई राजनीतिक स्वार्थ होता था या फिर किसी क्राइसिस को मैनेज करना होता था। लेकिन आज नेशनल गोल्स को देखते हुए रिफॉर्म्स होते हैं, टारगेट तय है। आप देखिए, देश के हर सेक्टर में कुछ ना कुछ बेहतर हो रहा है, हमारी गति Constant है, हमारी Direction Consistent है, और हमारा intent, Nation First का है। 2025 का तो ये पूरा साल ऐसे ही रिफॉर्म्स का साल रहा है। सबसे बड़ा रिफॉर्म नेक्स्ट जेनरेशन जीएसटी का था। और इन रिफॉर्म्स का असर क्या हुआ, वो सारे देश ने देखा है। इसी साल डायरेक्ट टैक्स सिस्टम में भी बहुत बड़ा रिफॉर्म हुआ है। 12 लाख रुपए तक की इनकम पर ज़ीरो टैक्स, ये एक ऐसा कदम रहा, जिसके बारे में एक दशक पहले तक सोचना भी असंभव था।

साथियों,

Reform के इसी सिलसिले को आगे बढ़ाते हुए, अभी तीन-चार दिन पहले ही Small Company की डेफिनीशन में बदलाव किया गया है। इससे हजारों कंपनियाँ अब आसान नियमों, तेज़ प्रक्रियाओं और बेहतर सुविधाओं के दायरे में आ गई हैं। हमने करीब 200 प्रोडक्ट कैटगरीज़ को mandatory क्वालिटी कंट्रोल ऑर्डर से बाहर भी कर दिया गया है।

साथियों,

आज के भारत की ये यात्रा, सिर्फ विकास की नहीं है। ये सोच में बदलाव की भी यात्रा है, ये मनोवैज्ञानिक पुनर्जागरण, साइकोलॉजिकल रेनसां की भी यात्रा है। आप भी जानते हैं, कोई भी देश बिना आत्मविश्वास के आगे नहीं बढ़ सकता। दुर्भाग्य से लंबी गुलामी ने भारत के इसी आत्मविश्वास को हिला दिया था। और इसकी वजह थी, गुलामी की मानसिकता। गुलामी की ये मानसिकता, विकसित भारत के लक्ष्य की प्राप्ति में एक बहुत बड़ी रुकावट है। और इसलिए, आज का भारत गुलामी की मानसिकता से मुक्ति पाने के लिए काम कर रहा है।

साथियों,

अंग्रेज़ों को अच्छी तरह से पता था कि भारत पर लंबे समय तक राज करना है, तो उन्हें भारतीयों से उनके आत्मविश्वास को छीनना होगा, भारतीयों में हीन भावना का संचार करना होगा। और उस दौर में अंग्रेजों ने यही किया भी। इसलिए, भारतीय पारिवारिक संरचना को दकियानूसी बताया गया, भारतीय पोशाक को Unprofessional करार दिया गया, भारतीय त्योहार-संस्कृति को Irrational कहा गया, योग-आयुर्वेद को Unscientific बता दिया गया, भारतीय अविष्कारों का उपहास उड़ाया गया और ये बातें कई-कई दशकों तक लगातार दोहराई गई, पीढ़ी दर पीढ़ी ये चलता गया, वही पढ़ा, वही पढ़ाया गया। और ऐसे ही भारतीयों का आत्मविश्वास चकनाचूर हो गया।

साथियों,

गुलामी की इस मानसिकता का कितना व्यापक असर हुआ है, मैं इसके कुछ उदाहरण आपको देना चाहता हूं। आज भारत, दुनिया की सबसे तेज़ी से ग्रो करने वाली मेजर इकॉनॉमी है, कोई भारत को ग्लोबल ग्रोथ इंजन बताता है, कोई, Global powerhouse कहता है, एक से बढ़कर एक बातें आज हो रही हैं।

लेकिन साथियों,

आज भारत की जो तेज़ ग्रोथ हो रही है, क्या कहीं पर आपने पढ़ा? क्या कहीं पर आपने सुना? इसको कोई, हिंदू रेट ऑफ ग्रोथ कहता है क्या? दुनिया की तेज इकॉनमी, तेज ग्रोथ, कोई कहता है क्या? हिंदू रेट ऑफ ग्रोथ कब कहा गया? जब भारत, दो-तीन परसेंट की ग्रोथ के लिए तरस गया था। आपको क्या लगता है, किसी देश की इकोनॉमिक ग्रोथ को उसमें रहने वाले लोगों की आस्था से जोड़ना, उनकी पहचान से जोड़ना, क्या ये अनायास ही हुआ होगा क्या? जी नहीं, ये गुलामी की मानसिकता का प्रतिबिंब था। एक पूरे समाज, एक पूरी परंपरा को, अन-प्रोडक्टिविटी का, गरीबी का पर्याय बना दिया गया। यानी ये सिद्ध करने का प्रयास किया गया कि, भारत की धीमी विकास दर का कारण, हमारी हिंदू सभ्यता और हिंदू संस्कृति है। और हद देखिए, आज जो तथाकथित बुद्धिजीवी हर चीज में, हर बात में सांप्रदायिकता खोजते रहते हैं, उनको हिंदू रेट ऑफ ग्रोथ में सांप्रदायिकता नज़र नहीं आई। ये टर्म, उनके दौर में किताबों का, रिसर्च पेपर्स का हिस्सा बना दिया गया।

साथियों,

गुलामी की मानसिकता ने भारत में मैन्युफेक्चरिंग इकोसिस्टम को कैसे तबाह कर दिया, और हम इसको कैसे रिवाइव कर रहे हैं, मैं इसके भी कुछ उदाहरण दूंगा। भारत गुलामी के कालखंड में भी अस्त्र-शस्त्र का एक बड़ा निर्माता था। हमारे यहां ऑर्डिनेंस फैक्ट्रीज़ का एक सशक्त नेटवर्क था। भारत से हथियार निर्यात होते थे। विश्व युद्धों में भी भारत में बने हथियारों का बोल-बाला था। लेकिन आज़ादी के बाद, हमारा डिफेंस मैन्युफेक्चरिंग इकोसिस्टम तबाह कर दिया गया। गुलामी की मानसिकता ऐसी हावी हुई कि सरकार में बैठे लोग भारत में बने हथियारों को कमजोर आंकने लगे, और इस मानसिकता ने भारत को दुनिया के सबसे बड़े डिफेंस importers के रूप में से एक बना दिया।

साथियों,

गुलामी की मानसिकता ने शिप बिल्डिंग इंडस्ट्री के साथ भी यही किया। भारत सदियों तक शिप बिल्डिंग का एक बड़ा सेंटर था। यहां तक कि 5-6 दशक पहले तक, यानी 50-60 साल पहले, भारत का फोर्टी परसेंट ट्रेड, भारतीय जहाजों पर होता था। लेकिन गुलामी की मानसिकता ने विदेशी जहाज़ों को प्राथमिकता देनी शुरु की। नतीजा सबके सामने है, जो देश कभी समुद्री ताकत था, वो अपने Ninety five परसेंट व्यापार के लिए विदेशी जहाज़ों पर निर्भर हो गया है। और इस वजह से आज भारत हर साल करीब 75 बिलियन डॉलर, यानी लगभग 6 लाख करोड़ रुपए विदेशी शिपिंग कंपनियों को दे रहा है।

साथियों,

शिप बिल्डिंग हो, डिफेंस मैन्यूफैक्चरिंग हो, आज हर सेक्टर में गुलामी की मानसिकता को पीछे छोड़कर नए गौरव को हासिल करने का प्रयास किया जा रहा है।

साथियों,

गुलामी की मानसिकता ने एक बहुत बड़ा नुकसान, भारत में गवर्नेंस की अप्रोच को भी किया है। लंबे समय तक सरकारी सिस्टम का अपने नागरिकों पर अविश्वास रहा। आपको याद होगा, पहले अपने ही डॉक्यूमेंट्स को किसी सरकारी अधिकारी से अटेस्ट कराना पड़ता था। जब तक वो ठप्पा नहीं मारता है, सब झूठ माना जाता था। आपका परिश्रम किया हुआ सर्टिफिकेट। हमने ये अविश्वास का भाव तोड़ा और सेल्फ एटेस्टेशन को ही पर्याप्त माना। मेरे देश का नागरिक कहता है कि भई ये मैं कह रहा हूं, मैं उस पर भरोसा करता हूं।

साथियों,

हमारे देश में ऐसे-ऐसे प्रावधान चल रहे थे, जहां ज़रा-जरा सी गलतियों को भी गंभीर अपराध माना जाता था। हम जन-विश्वास कानून लेकर आए, और ऐसे सैकड़ों प्रावधानों को डी-क्रिमिनलाइज किया है।

साथियों,

पहले बैंक से हजार रुपए का भी लोन लेना होता था, तो बैंक गारंटी मांगता था, क्योंकि अविश्वास बहुत अधिक था। हमने मुद्रा योजना से अविश्वास के इस कुचक्र को तोड़ा। इसके तहत अभी तक 37 lakh crore, 37 लाख करोड़ रुपए की गारंटी फ्री लोन हम दे चुके हैं देशवासियों को। इस पैसे से, उन परिवारों के नौजवानों को भी आंत्रप्रन्योर बनने का विश्वास मिला है। आज रेहड़ी-पटरी वालों को भी, ठेले वाले को भी बिना गारंटी बैंक से पैसा दिया जा रहा है।

साथियों,

हमारे देश में हमेशा से ये माना गया कि सरकार को अगर कुछ दे दिया, तो फिर वहां तो वन वे ट्रैफिक है, एक बार दिया तो दिया, फिर वापस नहीं आता है, गया, गया, यही सबका अनुभव है। लेकिन जब सरकार और जनता के बीच विश्वास मजबूत होता है, तो काम कैसे होता है? अगर कल अच्छी करनी है ना, तो मन आज अच्छा करना पड़ता है। अगर मन अच्छा है तो कल भी अच्छा होता है। और इसलिए हम एक और अभियान लेकर आए, आपको सुनकर के ताज्जुब होगा और अभी अखबारों में उसकी, अखबारों वालों की नजर नहीं गई है उस पर, मुझे पता नहीं जाएगी की नहीं जाएगी, आज के बाद हो सकता है चली जाए।

आपको ये जानकर हैरानी होगी कि आज देश के बैंकों में, हमारे ही देश के नागरिकों का 78 thousand crore रुपया, 78 हजार करोड़ रुपए Unclaimed पड़ा है बैंको में, पता नहीं कौन है, किसका है, कहां है। इस पैसे को कोई पूछने वाला नहीं है। इसी तरह इन्श्योरेंश कंपनियों के पास करीब 14 हजार करोड़ रुपए पड़े हैं। म्यूचुअल फंड कंपनियों के पास करीब 3 हजार करोड़ रुपए पड़े हैं। 9 हजार करोड़ रुपए डिविडेंड का पड़ा है। और ये सब Unclaimed पड़ा हुआ है, कोई मालिक नहीं उसका। ये पैसा, गरीब और मध्यम वर्गीय परिवारों का है, और इसलिए, जिसके हैं वो तो भूल चुका है। हमारी सरकार अब उनको ढूंढ रही है देशभर में, अरे भई बताओ, तुम्हारा तो पैसा नहीं था, तुम्हारे मां बाप का तो नहीं था, कोई छोड़कर तो नहीं चला गया, हम जा रहे हैं। हमारी सरकार उसके हकदार तक पहुंचने में जुटी है। और इसके लिए सरकार ने स्पेशल कैंप लगाना शुरू किया है, लोगों को समझा रहे हैं, कि भई देखिए कोई है तो अता पता। आपके पैसे कहीं हैं क्या, गए हैं क्या? अब तक करीब 500 districts में हम ऐसे कैंप लगाकर हजारों करोड़ रुपए असली हकदारों को दे चुके हैं जी। पैसे पड़े थे, कोई पूछने वाला नहीं था, लेकिन ये मोदी है, ढूंढ रहा है, अरे यार तेरा है ले जा।

साथियों,

ये सिर्फ asset की वापसी का मामला नहीं है, ये विश्वास का मामला है। ये जनता के विश्वास को निरंतर हासिल करने की प्रतिबद्धता है और जनता का विश्वास, यही हमारी सबसे बड़ी पूंजी है। अगर गुलामी की मानसिकता होती तो सरकारी मानसी साहबी होता और ऐसे अभियान कभी नहीं चलते हैं।

साथियों,

हमें अपने देश को पूरी तरह से, हर क्षेत्र में गुलामी की मानसिकता से पूर्ण रूप से मुक्त करना है। अभी कुछ दिन पहले मैंने देश से एक अपील की है। मैं आने वाले 10 साल का एक टाइम-फ्रेम लेकर, देशवासियों को मेरे साथ, मेरी बातों को ये कुछ करने के लिए प्यार से आग्रह कर रहा हूं, हाथ जोड़कर विनती कर रहा हूं। 140 करोड़ देशवसियों की मदद के बिना ये मैं कर नहीं पाऊंगा, और इसलिए मैं देशवासियों से बार-बार हाथ जोड़कर कह रहा हूं, और 10 साल के इस टाइम फ्रैम में मैं क्या मांग रहा हूं? मैकाले की जिस नीति ने भारत में मानसिक गुलामी के बीज बोए थे, उसको 2035 में 200 साल पूरे हो रहे हैं, Two hundred year हो रहे हैं। यानी 10 साल बाकी हैं। और इसलिए, इन्हीं दस वर्षों में हम सभी को मिलकर के, अपने देश को गुलामी की मानसिकता से मुक्त करके रहना चाहिए।

साथियों,

मैं अक्सर कहता हूं, हम लीक पकड़कर चलने वाले लोग नहीं हैं। बेहतर कल के लिए, हमें अपनी लकीर बड़ी करनी ही होगी। हमें देश की भविष्य की आवश्यकताओं को समझते हुए, वर्तमान में उसके हल तलाशने होंगे। आजकल आप देखते हैं कि मैं मेक इन इंडिया और आत्मनिर्भर भारत अभियान पर लगातार चर्चा करता हूं। शोभना जी ने भी अपने भाषण में उसका उल्लेख किया। अगर ऐसे अभियान 4-5 दशक पहले शुरू हो गए होते, तो आज भारत की तस्वीर कुछ और होती। लेकिन तब जो सरकारें थीं उनकी प्राथमिकताएं कुछ और थीं। आपको वो सेमीकंडक्टर वाला किस्सा भी पता ही है, करीब 50-60 साल पहले, 5-6 दशक पहले एक कंपनी, भारत में सेमीकंडक्टर प्लांट लगाने के लिए आई थी, लेकिन यहां उसको तवज्जो नहीं दी गई, और देश सेमीकंडक्टर मैन्युफैक्चरिंग में इतना पिछड़ गया।

साथियों,

यही हाल एनर्जी सेक्टर की भी है। आज भारत हर साल करीब-करीब 125 लाख करोड़ रुपए के पेट्रोल-डीजल-गैस का इंपोर्ट करता है, 125 लाख करोड़ रुपया। हमारे देश में सूर्य भगवान की इतनी बड़ी कृपा है, लेकिन फिर भी 2014 तक भारत में सोलर एनर्जी जनरेशन कपैसिटी सिर्फ 3 गीगावॉट थी, 3 गीगावॉट थी। 2014 तक की मैं बात कर रहा हूं, जब तक की आपने मुझे यहां लाकर के बिठाया नहीं। 3 गीगावॉट, पिछले 10 वर्षों में अब ये बढ़कर 130 गीगावॉट के आसपास पहुंच चुकी है। और इसमें भी भारत ने twenty two गीगावॉट कैपेसिटी, सिर्फ और सिर्फ rooftop solar से ही जोड़ी है। 22 गीगावाट एनर्जी रूफटॉप सोलर से।

साथियों,

पीएम सूर्य घर मुफ्त बिजली योजना ने, एनर्जी सिक्योरिटी के इस अभियान में देश के लोगों को सीधी भागीदारी करने का मौका दे दिया है। मैं काशी का सांसद हूं, प्रधानमंत्री के नाते जो काम है, लेकिन सांसद के नाते भी कुछ काम करने होते हैं। मैं जरा काशी के सांसद के नाते आपको कुछ बताना चाहता हूं। और आपके हिंदी अखबार की तो ताकत है, तो उसको तो जरूर काम आएगा। काशी में 26 हजार से ज्यादा घरों में पीएम सूर्य घर मुफ्त बिजली योजना के सोलर प्लांट लगे हैं। इससे हर रोज, डेली तीन लाख यूनिट से अधिक बिजली पैदा हो रही है, और लोगों के करीब पांच करोड़ रुपए हर महीने बच रहे हैं। यानी साल भर के साठ करोड़ रुपये।

साथियों,

इतनी सोलर पावर बनने से, हर साल करीब नब्बे हज़ार, ninety thousand मीट्रिक टन कार्बन एमिशन कम हो रहा है। इतने कार्बन एमिशन को खपाने के लिए, हमें चालीस लाख से ज्यादा पेड़ लगाने पड़ते। और मैं फिर कहूंगा, ये जो मैंने आंकडे दिए हैं ना, ये सिर्फ काशी के हैं, बनारस के हैं, मैं देश की बात नहीं बता रहा हूं आपको। आप कल्पना कर सकते हैं कि, पीएम सूर्य घर मुफ्त बिजली योजना, ये देश को कितना बड़ा फायदा हो रहा है। आज की एक योजना, भविष्य को Transform करने की कितनी ताकत रखती है, ये उसका Example है।

वैसे साथियों,

अभी आपने मोबाइल मैन्यूफैक्चरिंग के भी आंकड़े देखे होंगे। 2014 से पहले तक हम अपनी ज़रूरत के 75 परसेंट मोबाइल फोन इंपोर्ट करते थे, 75 परसेंट। और अब, भारत का मोबाइल फोन इंपोर्ट लगभग ज़ीरो हो गया है। अब हम बहुत बड़े मोबाइल फोन एक्सपोर्टर बन रहे हैं। 2014 के बाद हमने एक reform किया, देश ने Perform किया और उसके Transformative नतीजे आज दुनिया देख रही है।

साथियों,

Transforming tomorrow की ये यात्रा, ऐसी ही अनेक योजनाओं, अनेक नीतियों, अनेक निर्णयों, जनआकांक्षाओं और जनभागीदारी की यात्रा है। ये निरंतरता की यात्रा है। ये सिर्फ एक समिट की चर्चा तक सीमित नहीं है, भारत के लिए तो ये राष्ट्रीय संकल्प है। इस संकल्प में सबका साथ जरूरी है, सबका प्रयास जरूरी है। सामूहिक प्रयास हमें परिवर्तन की इस ऊंचाई को छूने के लिए अवसर देंगे ही देंगे।

साथियों,

एक बार फिर, मैं शोभना जी का, हिन्दुस्तान टाइम्स का बहुत आभारी हूं, कि आपने मुझे अवसर दिया आपके बीच आने का और जो बातें कभी-कभी बताई उसको आपने किया और मैं तो मानता हूं शायद देश के फोटोग्राफरों के लिए एक नई ताकत बनेगा ये। इसी प्रकार से अनेक नए कार्यक्रम भी आप आगे के लिए सोच सकते हैं। मेरी मदद लगे तो जरूर मुझे बताना, आईडिया देने का मैं कोई रॉयल्टी नहीं लेता हूं। मुफ्त का कारोबार है और मारवाड़ी परिवार है, तो मौका छोड़ेगा ही नहीं। बहुत-बहुत धन्यवाद आप सबका, नमस्कार।