২০১৪ সাল থেকে দেশের বর্তমান মেডিকেল কলেজগুলির কাছাকাছি নার্সিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে রোগীদের দেখভাল এবং সেবাশুশ্রূষার কাজে যুক্ত নার্সিং কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টাকে সফল করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ১৫৭টি নতুন নার্সিং কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর ১৫,৭০০ জনের মতো শিক্ষার্থী নার্সিং-এর ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করবেন। শুধু তাই নয়, এই প্রচেষ্টার সূত্র ধরে দেশে সুলভ অথচ উন্নতমানের নার্সিং পঠনপাঠনের বিষয়টিও প্রসার লাভ করবে। বিশেষত, দেশের যে সমস্ত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জেলাগুলিতে নার্সিং শিক্ষা ও নার্সিং কর্মীর বিশেষ অভাব রয়েছে সেগুলি বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এই কলেজগুলি স্থাপনে ১,৫৭০ কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই উদ্যোগ গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভেদে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে তা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য পরিষবা’র জাতীয় প্রতিশ্রুতি পূরণে এই পদক্ষেপ এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগকে সফল করে তুলতে এগিয়ে এসেছে জাতীয় দক্ষতা বিকাশ নিগম (এনএসডিসি)। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশে দক্ষ নার্সিং কর্মীর অভাব ক্রমশ হ্রাস পাবে বলে সরকার মনে করে। দেশের মেডিকেল কলেজগুলির আশেপাশে এই নার্সিং কলেজগুলি প্রতিষ্ঠিত হলে হাসপাতালগুলির উন্নত পরিকাঠামো, পরীক্ষা ও গবেষণাগার, চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা এবং পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে নার্সিং কর্মীদের বিশেষ সুবিধা হবে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নার্সিং কলেজগুলিতে ব্যবহার করা হবে উন্নতমানের পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি যাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাতাসে কার্বন নির্গমনের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
সরকারের লক্ষ্য হল আগামী দু’বছরের মধ্যে এই নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা। এজন্য কেন্দ্রের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।


