PM Modi describes India’s democratic system of governance as a great teacher, which inspires over 125 crore people
The teachings of the Vedas, which describe the entire world as one nest, or one home, are reflected in the values of Visva Bharati University: PM
India and Bangladesh are two nations, whose interests are linked to mutual cooperation and coordination among each other: PM Modi
Gurudev Rabindranath Tagore is respected widely across the world; he is a global citizen: PM Modi
Institutions such as Visva Bharati University have a key role to play in the creation of a New India by 2022: PM Modi

মঞ্চে উপবিষ্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী শেখ হাসিনা মহোদইয়া, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল মাননীয় কেশরী নাথ ত্রিপাঠী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জি, বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক সবুজকলি সেন এবং রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউটের উপাচার্য শ্রদ্ধেয় স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ এবং এখানে উপস্থিত বিশ্বভারতীর অধ্যাপকবৃন্দ ও আমার প্রিয় নবীন বন্ধুরা।

আমি প্রথমেই বিশ্বভারতীর আচার্য হিসাবে আপনাদের সকলের কাছ থেকে ক্ষমা চাইছি। আমি যখন আসছিলাম কিছু শিশু ইঙ্গিতে বোঝাচ্ছিল যে, খাওয়ার জলও নেই। আপনাদের সকলের যে অসুবিধা হয়েছে, আচার্য হিসাবে আমি সেই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না, সেজন্য সবার আগে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেখানে আমি বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকি। কিন্তু এখানে আমি অতিথি নই, আচার্য রূপে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। এখানে আমার এই ভূমিকার পেছনে রয়েছে মহান গণতন্ত্র এবং প্রধানমন্ত্রী পদ। এমনিতে এই গণতন্ত্র এই পদকে ১২৫ কোটিরো বেশি জনগণকে ভিন্নভিন্ন প্রকারে প্রেরণা যোগানোর জন্য আচার্যের ভূমিকাই দিয়ে রেখেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যসমূহের আলোয় যাঁরাই লালিত-পালিত হন, তাঁরাই শ্রেষ্ঠ ভারত ও শ্রেষ্ঠ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়ক হন।

আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে, আচার্যত বিদ্যাবিহিতা সাধিষ্ঠতম প্রাপ্যুতি ইতি অর্থাৎ আচার্যের কাছে না গেলে বিদ্যা শ্রেষ্ঠতা ও সাফল্য পাওয়া যায় না। আমার সৌভাগ্য যে, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই পবিত্র ভূমিতে এতজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মাঝে আজ কিছু সময় কাটাতে পারছি।

কোনও মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণ শুনে যে প্রাণশক্তি অনুভব করা যায়, তেমনই প্রাণশক্তি আমি বিশ্বভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাড়িয়ে অনুভব করছি। গাড়ি থেকে নেমে যখন আমি মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছিলাম, তখন ভাবছিলাম, এখানকার মাটির প্রতিটি কণায় গুরুদেবের পদস্পর্শ লেগে আছে। এখানেই আশেপাশে কোথাও বসে তিনি অনেক শব্দ লিখে গেছেন। অনেক ধুন, অনেক সঙ্গীত গুণগুণ করে গেয়েছেন। কখনও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় আবার কখনও ছাত্রদের জীবনের মানে ভারত তথা দেশের আত্মাভিমান সম্পর্কে বুঝিয়েছেন।

বন্ধুগণ, আজ এই প্রাঙ্গণে আমরা ঐতিহ্যপালনের জন্য একত্রিত হয়েছি। এই আম্রকুঞ্জ প্রায় শতাব্দীকাল ধরে এই ধরণের অসংখ্য অনুষ্ঠানের সাক্ষী। বিগত কয়েক বছর ধরে আপনারা এখানে যা শিখেছেন তার একটি পর্যায় সম্পূর্ণ হচ্ছে। আপনাদের মধ্যে যাঁরা আজ ডিগ্রি পেলেন, তাঁদেরকে আমি অন্তর থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আর ভবিষ্যতের জন্যও শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের এই ডিগ্রি আপনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ। এদিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আপনারা এখানে শুধুই ডিগ্রি অর্জন করেননি, এখানে যা শিখেছেন, যা পেয়েছেন, তা অমূল্য। যার মাধ্যমে আপনারা একটি সমৃদ্ধ পরম্পরার উত্তরাধিকারী হয়ে উঠেছেন। আপনাদের সম্পর্ক একটি গুরু-শিষ্য পরম্পরার সঙ্গে, এটি যতটাই প্রাচীন ততটাই আধুনিক।

বৈদিক ও পৌরাণিক সময়ে আমাদের মুনি-ঋষিরা এরকম ভেবেছিলেন। আধুনিক ভারতে এই ঐতিহ্যকেই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মণীষীরা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজ আপনাদেরকে যে সপ্তপর্ণ গুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে, তা কেবলই গাছের পাতা নয়, এটি একটি মহান বার্তা। প্রকৃতি কিভাবে আমাদের একজন মানুষ হিসাবে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারে, তার একটি প্রতীক একটি উদাহরণ এই সপ্তপর্ণের গুচ্ছ। এটাই এই অতুলনীয় প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষিত। এটাই গুরুদেবের দর্শন,যা বিশ্বভারতীর ভিত্তি স্থাপন করেছে।

ভাই ও বোনেরা, যত্র বিশ্বম ভবেতেক নিরম অর্থাৎ গোটা বিশ্ব একটি ঘর – এটাই বেদের শিক্ষা। এই মূল্যবান শিক্ষাকে গুরুদেব বিশ্বভারতীর প্রাণবাক্য-এর মর্যাদা দিয়েছেন। এই বেদমন্ত্রে ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সংক্ষিপ্তসার লুকিয়ে আছে। গুরুদেব চাইতেন, এখানে এমন উদাহরণ স্থাপন করবেন, যেখানে গোটা বিশ্ব নিজের বাড়ি বলে ভাববে। এখানে পাখির নীড় এবং মানুষের বাড়িকে একই রূপে দেখা হয়। এই গোটা বিশ্বকে সমাহিত করার ভাবনাই ভারতীয়ত্ব। এটাই বসুধৈব কুটুম্বকম্‌ মন্ত্রের মূল কথা, যা হাজার হাজার বছর ধরে এই ভারতভূমিতে গুঞ্জরিত হচ্ছে এবং এই মন্ত্রের জন্য গুরুদেব সারা জীবন সমর্পণ করে গেছেন।

বন্ধুগণ, বেদ ও উপনিষদের ভাবনাকে সংহত করে গুরুদেব যেভাবে শান্তিনিকেতন গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকট সমস্যাগুলির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। আজ সীমায় আবদ্ধ রাষ্ট্র একটি বাস্তব। কিন্তু এটাও সত্য যে, এই ভূখন্ডের মহান পরম্পরাকে আজ বিশ্ব ভুবনায়নের রূপে আত্মিকৃত করেছে। আজ এখানে আমাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাজি রয়েছেন। এরকম সুযোগ খুব কমই আসে যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এসে হাজির হয়েছেন।

ভারত ও বাংলাদেশ দুটি ভিন্ন রাষ্ট্র হলেও আমরা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে জুড়ে রয়েছি। সংস্কৃতি কিংবা সরকারি নীতির ক্ষেত্রেও আমরা পরস্পরের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। এর একটি উদাহরণ হ’ল বাংলাদেশ ভবন। একটু পরই আমরা দু’জন গিয়ে ঐ ভবনটি উদ্বোধন করব। ঐ ভবনটি গুরুদেবের দর্শন প্রতিফলিত হবে।

বন্ধুগণ, আমি ভেবে অবাক হয়ে যাই, যখন দেখি, গুরুদেবের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সফরের বিস্তার কত ব্যাপক ছিল। বিদেশ যাত্রার সময় আমি এরকম অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যাঁরা বলেছেন যে, কত বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁদের দেশ সফরে গিয়েছিলেন। সেই দেশগুলি আজও অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গুরুদেবকে মনে রেখেছে। সেখানকার মানুষ আজও গুরুদেবের দর্শনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রাখার চেষ্টা করে।

আমি যখন আফগানিস্তানে গিয়েছিলাম, প্রায় প্রত্যেক আফগানবাসী অত্যন্ত গররবের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পটির কথা বলেছেন। বছর তিন আগে তাজাকিস্তানে গুরুদেবের একটি মর্মর মূর্তি উদ্বোধনের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সেখানকার জনগণের চোখে গুরুদেবের প্রতি যে সম্মান আমি দেখেছি, তা কখনও ভুলতে পারব না।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজও অধ্যায়নের বিষয়। তাঁর নামে বিশেষ চেয়ার রয়েছে। আমি যদি বলি যে, গুরুদেব আগেও বিশ্বনাগরিক ছিলেন এবং আজও রয়েছেন – তা হলে ভুল হবে না। আজ এই উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে গুজরাটের যে সম্পর্ক ছিল, সে সম্পর্কে অত্যন্ত শ্রদ্ধা সহ কিছু না বলে আমি থাকতে পারছি না। তাঁর বড়দা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগদানকারী প্রথম ভারতীয় ছিলেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি আমেদাবাদে কর্মরত ছিলেন। আমি কোথাও পড়েছি, সম্ভবত তিনি যখন আমেদাবাদের কমিশনার ছিলেন, তখনই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়াশুনার জন্য ইংল্যান্ড যাওয়ার আগে মাস ছয়েক তাঁর কাছে থেকে ইংরাজি শিখেছেন। তখন গুরুদেবের বয়স ১৭ বছর ছিল। সেই সময়েই তিনি তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ক্ষুদিত পাষাণ’-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে পৌঁছনোর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে চিত্তের প্রসার ঘটছিল, তার মধ্যে গুজরাটবাসেরও ভূমিকা রয়েছে।

বন্ধুগণ, গুরুদেব মনে করতেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্ম কোনও না কোনও লক্ষ্যসাধনের জন্য হয়। প্রত্যেক বালক যাতে তার সেই লক্ষ্যপ্রাপ্তির জন্য যথাযথভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তা সুনিশ্চিত করে শিক্ষা। তিনি শিশুদের জন্য কেমন শিক্ষা চাইতেন, তার ঝলক আমরা তাঁর কবিতায় অনুভব করতে পারি। তিনি লিখেছেন যে, শিক্ষা শুধু তাই নয়, যা বিদ্যালয়ে প্রদান করা হয়। শিক্ষা ব্যক্তির সার্বিক ভারসাম্যযুক্ত বিকাশ, যাকে সময় ও স্থানের গণ্ডীতে বাধা যায় না। সেজন্য গুরুদেব সর্বদা চাইতেন যে, ভারতীয় ছাত্ররা বহির্বিশ্বে যা কিছু হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানুক। অন্যান্য দেশের মানুষ কেমনভাবে থাকেন, তাঁদের সামাজিক মূল্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কি – এসব সম্পর্কে জানাকে তিনি জোর দিতেন। পাশাপাশি তিনি বলতেন, ভারতীয়ত্বকেও ভুলবে না।

আমাকে বলা হয়েছে যে, একবার আমেরিকায় কৃষি নিয়ে পড়তে যাওয়া তাঁর জামাইকে চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, ওখানে শুধু কৃষি নিয়ে পড়লেই চলবে না, স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশা করাও তোমার শিক্ষার অঙ্গ। কিন্তু তাঁদেরকে জানতে গিয়ে তুমি যদি নিজের ভারতীয় পরিচয় হারাতে থাকো, তার চেয়ে ভালো নিজেকে ঘরে বন্দী করে রাখা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কবির এই শিক্ষা এবং ভারতীয় দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর জীবন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবনার সম্মিলন, যা আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের অঙ্গস্বরূপ। সেজন্য তিনি বিশ্বভারতীতে শিক্ষার একটি স্বতন্ত্র বিশ্ব গড়ে তুলেছেন। এখানে শিক্ষার মূল মন্ত্র হচ্ছে সারল্য। আজও এখানে গাছের নীচে খোলা বাতাসে পঠন-পাঠনের রীতি চালু রয়েছে, যেখান মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে সহজ বার্তালাপ সম্ভব। সঙ্গীত, চিত্রকলা, নাট্য, অভিনয় সহ মানব জীবনের যতগুলি সাংস্কৃতিক মাত্রা রয়েছে, এখানে প্রকৃতির কোলে বসেই প্রত্যক্ষ করা যায়।

আমি অত্যন্ত আনন্দিত, যে স্বপ্নগুলি নিয়ে গুরুদেব এই মহান প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠান নিরন্তর এগিয়ে চলেছে, শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নকে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের জীবনমানকে উপরে তোলার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংনীয়।

আমাকে বলা হয়েছে যে, এখানকার প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে যুক্ত থেকে আপনারা সেই গ্রামগুলির উন্নয়নযজ্ঞেও অংশগ্রহণ করেন। একথা শুনে আপনাদের প্রতি আমার আশা-আকাঙ্খা একটু বেড়ে গেছে। যাঁরা কিছু করেন, তাঁদের প্রতি আশা জন্মায়।

বন্ধুগণ, ২০২১ সালে এই মহান প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদযাপনের আগে আগামী দু-তিন বছরে আপনারা নিজেদের এই কর্মযজ্ঞকে ৫০টি গ্রাম থেকে বাড়িয়ে ১০০ কিংবা ২০০টি গ্রামে বিস্তারিত করতে পারেন। আমার অনুরোধ যে, আপনাদের প্রচেষ্টাগুলিকে আরও দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে জুড়ুন। যেমন আপনারা সংকল্প নিতে পারেন যে, ২০২১ সালে এই প্রতিষ্ঠানের শতাব্দী উদযাপনের আগে আপনারা যে ১০০টি গ্রামের উন্নয়নে সামিল হবেন, সেগুলির প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস সংযোগ, শৌচালয়, মা ও শিশুদের টিকাকরণ এবং প্রত্যেককে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তোলা সুনিশ্চিত করবেন। তাঁরা যাতে কমনসার্ভিস সেন্টারে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম অনলাইনে ভরতে পারেন

আপনারা খুব ভালোভাবেই জানেন যে, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে প্রদত্ত রান্নার গ্যাস সংযোগ এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে নির্মিত শৌচালয় দেশের সর্বত্র মহিলাদের জীবন সহজ করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। গ্রামগুলিতে আপনাদের প্রচেষ্টা এই শক্তির উপাসক অঞ্চলে নারী শক্তির ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই ১০০টি গ্রামকে প্রকৃতি পূজন গ্রাম করে গড়ে তুলুন। এই গ্রামগুলিতে জল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বিকশিত করা, কাঠ না জ্বালিয়ে বায়ু দূষণ রোধ করা এবং জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমি সংরক্ষণে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

ভারত সরকারের গোবর্ধন যোজনার চেক লিস্ট অনুসরণ করে এর সমস্ত লাভ আপনারা এই গ্রামগুলিতে পৌঁছে দিতে পারেন।

বন্ধুগণ, আজ আমরা একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ১২৫ কোটি ভারৎবাসী ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশকে নতুন ভারত-এ রূপান্তরিত করার সংকল্প নিয়েছে। এই সংকল্পকে বাস্তবায়িত করতে শিক্ষা এবং আপনাদের মতো মহান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরণের প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা দেশকে নতুন প্রাণশক্তি ও দিশা প্রদান করে। সেজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেন নিছকই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না হয়ে সামাজিক জীবনে তার সক্রিয় অংশীদারিত্ব থাকে, তার নিরন্তর প্রয়াস জারি রয়েছে।

সরকার দ্বারা উন্নত ভারত অভিযানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে গ্রামোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। গুরুদেবের দর্শনের পাশাপাশি নতুন ভারতের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে।

এ বছরের বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা উজ্জীবন বা ‘রাইস’ নাম একটি নতুন প্রকল্প সূচনার ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী চার বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার আনতে ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হবে। গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অফ অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক বা ‘জ্ঞান’ প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ানোর জন্য বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে পর্যাপ্ত পরিষেবা পায়, তা সুনিশ্চিত করতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে হায়ার এডুকেশন, ফিনান্সিং এজেন্সি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উচ্চ মানের পরিকাঠামো গঠনের জন্য বিনিয়োগ সহজ হবে। কম বয়সে উদ্ভাব মনোবৃত্তি গড়ে তোলার জন্য আমরা সারা দেশে ২,৪০০টি বিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি। সেই বিদ্যালয়গুলিতে অটল টিঙ্কারিং ল্যাবের মাধ্যমে আমরা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

বন্ধুগণ, আপনাদের এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের জীবন্ত উদাহরণ। আমি চাইব যে, বিশ্বভারতীর ১১ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীরা উদ্ভাবনকে উৎসাহ যোগাতে গোড়া থেকেই সরকারের কিছু প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত হন। আপনার সবাই এখান থেকে পড়াশুনো করে গুরুদেবের আশীর্বাদে একটি দর্শনে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আপনারা নিজের সঙ্গে বিশ্বভারতীর পরিচয় নিয়ে যাচ্ছেন। আমার অনুরোধ, আপনারা এর গৌরবকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দিতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যখন খবরে শুনি যে, অমুক প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা নিজের উদ্ভাবন ও উদ্যোগের মাধ্যমে ৫০০ কিংবা ১,০০০ জন মানুষের জীবন বদলে দিয়েচভহেন, তখন আমি মনে মনে সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রণাম জানাই।

আপনারা মনে রাখবেন যে, গুরুদেব বলেছিলেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে। আপনারা যদি সঙ্গে কাউকে না পান, তবু নিজের লক্ষ্যে অটল থেকে একাই এগিয়ে যাবেন। কিন্তু আজ আমি এখানে আপনাদের বলতে এসেছি যে, আপনারা যদি এক পা এগিয়ে যান, তা হলে সরকার চার পা এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।

গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই আমাদের দেশকে একবিংশ শতাব্দীর সেই উচ্চতায় পৌঁছে দেবে, যার স্বপ্ন গুরুদেবও দেখতেন।

বন্ধুগণ, গুরুদেব নিজের মহাপ্রয়াণের কিছুদিন আগে গান্ধীজিকে বলেছিলেন, বিশ্বভারতী সেই জাহাজ, যাতে তাঁর জীবনের সর্বাপেক্ষা বহুমূল্য গুপ্তধন রয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন যে, আমরা ভারতবাসী এই বহুমূল্য ভাণ্ডারকে সঞ্জীবিত রাখবো। এই সঞ্জীবনের এবং তাকে আরও সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব এখন আমাদের সকলের ওপর বর্তেছে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ভারতের পাশাপাশি বিশ্বকে নতুন পথ দেখাতে থাকুক – এই কামনা নিয়ে আমি নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি।

আপনারা নিজেদের, নিজের পিতা-মাতার, এই প্রতিষ্ঠানের এবং এই দেশের স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়িত করুন। সেজন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
UP's exports to BRICS nations, partners cross $5.36 billion in FY26: Govt

Media Coverage

UP's exports to BRICS nations, partners cross $5.36 billion in FY26: Govt
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Odisha is emerging as a gateway to growth and prosperity in eastern India: PM Modi in Pahadpur
June 20, 2026
I extend my heartfelt birthday greetings to President Smt. Droupadi Murmu Ji, I wish her long life and excellent health: PM
Pahadpur village will now be rapidly developed as a solar village, that is, solar power will be ensured in every home here: PM
The vision of the Central Government is the development of India through the development of Eastern India: PM
To uplift tribal society, we are connecting tribal youth with opportunities for education and employment: PM
These children should get better facilities for studies; for this, around 500 Eklavya Model Schools have been opened across the country: PM

जॉय जगन्नाथ! जॉय मां किचकेश्वरी! मोर सबू भाई,भौणी,मां,मौसी मानंकु मोर नमोस्कार।

माननीय राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू जी, राज्यपाल श्री हरि बाबु जी, यहां के लोकप्रिय मुख्यमंत्री मोहन चरण माझी जी, उप मुख्यमंत्री कनक वर्धन सिंह देव जी, प्रवती परीदा जी, ओडिशा के मंत्री गणेश सिंह खूंटिया जी, कृष्ण चंद्र महापात्र जी, सांसद नबा चरण माझी जी, मनमोहन सामल जी, बैजयंत पांडा जी, अन्य महानुभाव, भाइयों और बहनों।

हमारा ओडिशा इन दिनों उत्सवों के आनंद में डूबा हुआ है। यहाँ का गणपर्व रज, पिछले हफ्ते ही धूमधाम से मनाया गया है। महाप्रभु जगन्नाथ जी की रथ यात्रा की तैयारियां भी पुरजोश चल रही है। मयूरभंज के बारीपदा रथ यात्रा को लेकर भी उत्साह का माहौल है। और, इस सबके बीच ही लोकतन्त्र का विकास का उत्सव भी चल रहा है। ओडिशा की बीजेपी सरकार ने अपने 2 साल भी पूर्ण किए हैं। इस मौके पर, आप सबके बीच आना, मयूरभंज आने का ये सौभाग्य, और इतनी बड़ी संख्या में आप सबकी उपस्थिति, ये अवसर मेरे लिए बहुत खास है। आपका अपनापन मुझे बार-बार यहां खींच लाता है। मैं आप सभी का हृदय से बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूँ। और ओडिशा की जनता को डबल इंजन सरकार में विकास यात्रा की भी बधाई देता हूँ, शुभकामनाएं देता हूं। साथ ही, इस अवसर पर मैं पंडित रघुनाथ मुर्मू जी, डॉ. दमयंती बेश्रा जी, और श्री चरण हेम्ब्रम जी जैसी विभूतियों को भी नमन करता हूँ। रघुनाथ मुर्मू जी ने संथाली भाषा के लिए ओल चिकी लिपि का निर्माण किया था। हमारी सरकार ने संथाली भाषा में भारत के संविधान को प्रस्तुत किया है। ओडिशा की संतानों को पद्म सम्मान देकर सम्मानित किया है। पिछले 2 वर्षों में ओडिशा सरकार भी इन सभी विभूतियों के सपनों को पूरा करने में दिन रात पुरुषार्थ कर रही है।

साथियों,

आज का ये अवसर इसलिए भी विशेष है, क्योंकि मयूरभंज की धरती पर पली-बढ़ीं, ओडिशा की बेटी, माननीय राष्ट्रपति जी हमारे बीच उपस्थित हैं। आज उनका जन्मदिन भी है। मैं राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू जी को जन्मदिन की हार्दिक बधाई और शुभकमानाएं देता हूं, मैं उनके दीर्घायु होने और उत्तम स्वास्थ्य की कामना करता हूं। जनगन्नाथ जी भगवान के श्री चरणों में प्रार्थना करता हूं। ओडिशा की बेटी आज देश के इतने बड़े पद पर पहुंची हैं, हमारा मार्गदर्शन कर रही हैं, ये हम सभी के लिए बहुत गौरव की बात है। राष्ट्रपति जी का व्यक्तित्व, उनका उदार और सहृदय स्वभाव, राष्ट्र और समाज की सेवा के लिए उनका अटल समर्पण, उन्होंने मयूरभंज ही नहीं, पूरे ओडिशा की पहचान सशस्त की है। मैं इस अवसर पर, उनका विशेष रूप से अभिनंदन करता हूँ।

साथियों,

ये कार्यक्रम जब बना, तो इसमें मूल कारण तो लॉजिस्टिक था, लंबे अर्से से यहां आने के लिए चर्चा चल रही थी, लेकिन कोई तालमेल नहीं बैठता था। 21 जून को अंतर्राष्ट्रीय योगा दिवस कोलकाता में तय हुआ, तो फिर मैंने कहा अच्छा है, आज बंग दिवस भी है, तो क्यों न मैं सुबह मयूरभंज होकर के शाम को फिर कोलकाता के कार्यक्रम में जाऊं। और इसके कारण ये 20 जून तय हुई। लेकिन कुछ चीजें ऐसी होती हैं, जिसकी मंगल कामनाएं ईश्वरआधीन होती हैं, और इसलिए आज एक शुभ मंगल हो गया, कि राष्ट्रपति का जन्मदिन भी, मुझे आज उनके गांव में जाकर के, उनको शुभकामनाएं देने का अवसर मिला।

साथियों,

आज मैं राष्ट्रपति जी के साथ पहाड़पुर भी गया था। मैं इस क्षेत्र के बच्चों के लिए उनके द्वारा बनवाए गए स्कूल भी गया। बच्चों के साथ कुछ यादगार समय बिताने का अवसर मुझे मिला। मैं देख रहा था, बच्चों के चेहरों की चमक, राष्ट्रपति जी की उपस्थिति और आत्मीयता, वहां मुझे ऐसा कुछ भी नहीं लगा, किसी बच्चे को ये लगा हो कि राष्ट्रपति जी आई हैं, हर बच्चे को लगता था उनकी मां आई है। वे बच्चे भी बहुत भाग्यवान हैं, कैसे इस क्षेत्र के गरीब, वंचित और आदिवसी समाज के बच्चों को प्रेरणा मिल रही है, उन्हें देश के लिए कुछ बड़ा करने का आत्मविश्वास मिल रहा है। मैं राष्ट्रपति जी का आभारी हूं कि उन्होंने इन अनुभवों से गुजरने का आज मुझे अवसर दिया। ये मेरा दिन, एक प्रकार से मेरी शिक्षा का दिवस था, कुछ सीखने का अवसर था मेरे लिए।

साथियों,

मैं आपको सरकार का ये निर्णय भी बताना चाहता हूं कि पहाड़पुर गांव को, अब तेजी से सुर्यग्राम, सोलर विलेज के रूप में विकसित किया जाएगा। यानी यहां हर घर में सोलर बिजली बने, इसे सुनिश्चित किया जाएगा। और हम तो बड़ा गर्व के साथ कह सकते हैं कि यही ओडिशा है, जहां कोणार्क में सुर्य मंदिर की एक पहचान है, वैसे ही पहाड़पुर सुर्यग्राम की पहचान बन जाएगा। सुर्यग्राम, से पूरा गांव सोलर विलेज के रूप में पहचाना जाए, इस दिशा में काम तुरंत शुरू हो ऐसा मेरा प्रयास रहेगा। इस अभियान से, पहाड़पुर के लोगों को मुफ्त सोलर बिजली भी मिलेगी और जो ज्यादा बिजली होगी, वो उनकी आय भी बढ़ाएगी।

साथियों,

ओडिशा में डबल इंजन सरकार के 2 साल कई मायनों में ऐतिहासिक रहे हैं। मुख्यमंत्री मोहन चरण माझी जी के नेतृत्व में, आज ओडिशा तेज गति से विकास के रास्ते पर आगे बढ़ रहा है। आज यहां गरीब कल्याण की योजनाओं से सामान्य मानवी का जीवन बदल रहा है। ओडिशा में आर्थिक गतिविधियाँ निवेश और उद्योगों को आकर्षित करने का सामर्थ्य आज नज़र आ रहा है। यहाँ रोजगार के नए अवसरों के लिए तेजी से काम हो रहा है।

साथियों,

केंद्र सरकार का विज़न है- पूर्वी भारत के विकास से भारत का विकास। इसीलिए, हम पूर्वोदय की नीति पर काम कर रहे हैं। जिस पूर्वी भारत को काँग्रेस के दौर में पिछड़ेपन का पर्याय बना दिया गया था, आज वो प्रगति का प्रवेश द्वार बन रहा है। आज ओडिशा खुद इस बदलाव का साक्षी बन रहा है।

साथियों,

ओडिशा के पास समुद्र है, खनिज संपदा है, कृषि की शक्ति है और सबसे सामर्थ्यवान यहां युवा प्रतिभा है। इस सामर्थ्य का पूरा उपयोग करने के लिए हम मिलकर काम कर रहे हैं। इसीलिए, आज ओडिशा में रेलवे इनफ्रास्ट्रक्चर में रिकॉर्ड निवेश हो रहा है। नई सड़कें और आर्थिक कॉरिडोर बन रहे हैं। पोर्ट्स का विस्तार हो रहा है। ऊर्जा, सेमीकंडक्टर, ग्रीन एनर्जी और आधुनिक उद्योगों में निवेश आ रहा है। आज भी यहां ओडिशा के विकास से जुड़ी अनेक महत्वपूर्ण परियोजनाओं का लोकार्पण और शिलान्यास हुआ है। इन परियोजनाओं पर लगभग 47 हजार करोड़ रुपये खर्च किए जाएंगे। बिजली, सड़क, रेलवे, स्वास्थ्य और शिक्षा से जुड़ी इन परियोजनाओं से, आप सभी लोगों को बहुत सुविधा होने वाली है। मैं इन परियोजनाओं के लिए ओडिशा के लोगों को बहुत बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

हमारी सरकार ओडिशा के संसाधनों को, ओडिशा की संभावनाओं में बदल रही है। ओडिशा में बड़ा निवेश आए, यहाँ नए उद्योग लगें, इसके लिए उत्कर्ष ओडिशा जैसे अभियान चलाए जा रहे हैं। इसके तहत, अब तक करीब 20 लाख करोड़ रुपए के निवेश प्रस्ताव मिल चुके हैं। साढ़े 3 लाख करोड़ रुपए से ज्यादा की अनेक मेगा परियोजनाओं पर भी काम चल रहा है। उद्योगों के लिए अनुकूल वातावरण बने, इसके लिए ओडिशा के समग्र विकास पर ध्यान दिया जा रहा है। पावर सेक्टर में 6 हजार करोड़ रुपए से ज्यादा का निवेश हो रहा है। समृद्ध शहर योजना के तहत शहरी विकास को गति दी जा रही है। आने वाले वर्षों में इन प्रयासों का परिणाम हमें देखने को मिलने वाला है।

साथियों,

डबल इंजन सरकार की बड़ी विशेषता ये है कि वो खुद जनता तक पहुँचती है। हमारा प्रयास है कि सामान्य नागरिक को किसी समस्या के समाधान के लिए अनावश्यक चक्कर न लगाने पड़े। इन्हीं प्रयासों का परिणाम है कि युवाओं, महिलाओं, किसानों और आम लोगों की अपेक्षाएँ आज पूरी हो रही हैं। आप देखिए, धान खरीद में किसानों को 3,100 रुपये प्रति क्विंटल देने का निर्णय लिया गया। सुभद्रा योजना के माध्यम से एक करोड़ से अधिक माताओं और बहनों तक आर्थिक सहायता पहुंचाई गई। आयुष्मान भारत को लागू करके ओडिशा के परिवारों के लिए देशभर के अस्पतालों में इलाज का रास्ता खोला गया। आदिवासी विद्यार्थियों की पढ़ाई बीच में न छूटे, इसके लिए माधो सिंह हाथ-खर्चा योजना शुरू की गई। महाप्रभु श्री जगन्नाथ जी के भक्तों की भावनाओं का सम्मान करते हुए श्रीमंदिर के श्रद्धालुओं के लिए सारे द्वार खोल दिए गए, चारों-चार द्वार खोल दिए गए। डबल इंजन की ताकत मिलने से आज यहां चारों दिशाओं में विकास सुनिश्चित हो रहा है।

साथियों,

यहां बीते दिनों स्वच्छता को लेकर जो विशेष अभियान चला है, उसकी भी मुझे जानकारी मिली है। और मैं देख रहा था सोशल मीडिया में तो सफाई अभियान छाया हुआ है, यानी स्वच्छता से स्वागत, मैं ओडिशा की इस पहल के लिए, यहां के नगारिको का, सरकार का, मुख्यमंत्री जी का, इस प्रशंसनीय पहल के लिए बहुत ही प्रशंसा करता हूं, संतोष व्यक्त करता हूं।

साथियों,

स्वच्छता हमारे जीवन शैली का हिस्सा होनी चाहिए, हर रोज की आदत होनी चाहिए। मैं यहां स्वच्छता अभियान से जुड़े सभी लोगों का हृदय से बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

मैंने अपने जीवन का कुछ महत्वपूर्ण कालखंड जनजातीय क्षेत्रों में एक वालंटियर के रूप में काम करते हुए बिताया है। माननीय राष्ट्रपति जी तो बरसों तक ऐसे क्षेत्रों में चुनौतियां का सामना करती रही हैं। आप और हम जानते हैं कि जनजातीय क्षेत्रों में जीवन की सुविधाएं आसानी से नहीं पहुंचती थीं। इसलिए, हमारी सरकार ने जनजातीय विकास को बहुत प्राथमिकता दी है। हमने ऐसे इलाकों को सुविधाओं से जोड़ने के लिए धरती आबा जनजातीय ग्राम उत्कर्ष अभियान शुरू किया। इसके तहत स्वास्थ्य, शिक्षा, सड़क, आवास से जुड़े विभाग मिलकर के सर्वागीण विकास के लिए काम कर रहे हैं। ताकि वहां रहने वाले लोगों की कठिनाइयां दूर हो सकें। इसी तरह, पीएम जनमन अभियान तो राष्ट्रपति जी के साथ हुई चर्चाओं का, उनके मार्गदर्शन का ही परिणाम है। ये विशेष रूप से देश के ऐसे जनजातीय समूहों के लिए है, जो जनजातीय समुदाय में भी सबसे पीछे रह गए हैं। ऐसे जनजातीय समुदायों तक अब सरकार स्वयं चलकर उनके गांव, उनके दरवाजे तक पहुंच रही है।

साथियों,

आदिवासी समाज के उत्थान के लिए हम आदिवासी युवाओं को शिक्षा और रोजगार के अवसरों से जोड़ रहे हैं। इन बच्चों को पढ़ाई की बेहतर सुविधा मिले, इसके लिए देश में करीब 500 एकलव्य मॉडल स्कूल खोले गए हैं। करीब साढ़े सात सौ एकलव्य स्कूल स्वीकृत किए गए हैं। प्री-मैट्रिक और पोस्ट मैट्रिक लेवल पर, डेढ़ करोड़ से अधिक आदिवासी बच्चों को सैकड़ों करोड़ रुपए की स्कॉलर्शिप दी गई है। मुझे ये बताते हुए भी खुशी है कि यहां मयूरभंज में एक और नवोदय विद्यालय बनाने के लिए भी स्वीकृति दे दी गई है।

साथियों,

दूर-दराज इलाकों में रहने के कारण, जनजातीय समाज स्वास्थ्य से जुड़ी कठिनाइयों का भी शिकार रहा है। सिकल सेल एनीमिया जैसी बीमारियाँ एक बहुत बड़ी चुनौती रही हैं। हमने इनके खिलाफ देश भर में अभियान चलाया, चार करोड़ से ज्यादा हेल्थ कार्ड बांटे, मुफ्त इलाज के लिए करोड़ों आदिवासी लाभार्थियों को आयुष्मान कार्ड दिये। जल जीवन मिशन के तहत घर-घर साफ पानी पहुंचाया जा रहा है। इन प्रयासों का परिणाम आज हमें दिख रहा है। आदिवासी समाज दशकों पुरानी कठिनाइयों से बाहर आ रहा है, और, विकास की मुख्यधारा का हिस्सा बन रहा है।

साथियों,

आने वाले समय में हमारे सामने दो महत्वपूर्ण पड़ाव हैं। 2036 में ओडिशा के गठन के 100 वर्ष पूरे होंगे। और, 2047 में भारत की स्वतंत्रता के 100 वर्ष पूरे होने वाले हैं। यानी, ओडिशा और देश का लक्ष्य एक ही दिशा में है। ओडिशा की अर्थव्यवस्था मजबूत होगी, तो भारत मजबूत होगा। मुझे ओडिशा के सामर्थ्य पर भरोसा है। हमें मिलकर ओडिशा को विकास की बुलंदियों पर पहुंचाना है।

साथियों,

कल 21 जून को अंतर्राष्ट्रीय योग दिवस भी मनाया जाना है। ज्ञान और योग की धरती ओडिशा, योग यहाँ के संस्कारों का हिस्सा रहा है। मैं ओडिशा की धरती से पूरे देश से, पूरी दुनिया के लोगों से आह्वान करता हूँ, आप सब ज्यादा से ज्यादा संख्या में योग दिवस में हिस्सा लें। मैं एक बार फिर आप सभी को आज के अवसर, और विकास परियोजनाओं की बहुत-बहुत बधाई देता हूं। मैं माननीय राष्ट्रपति जी का विशेष रूप से आभार प्रकट करता हूं, कि मुझे उनके साथ उनकी कर्मभूमि को देखने का मौका मिला। एक बार फिर उन्हें जन्मदिन की बहुत-बहुत बधाई। बहुत-बहुत धन्यवाद।

जय जगन्नथ।

जय जगन्नथ।

जय जगन्नथ।