প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইমপ্রুভমেন্ট ইন টেকনিক্যাল এডুকেশন’-এমইআরআইটিই প্রকল্প রূপায়ণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ১৭৫টি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান এবং ১০০টি পলিটেকনিক মিলিয়ে মোট ২৭৫টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এর রূপায়ণ করা হবে। এর লক্ষ্য হল, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়ন।
এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ সময়কাল পর্যন্ত মোট ৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২,১০০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাঙ্কের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা বাবদ পাওয়া যাবে।
সুবিধা
আনুমানিক ২৭৫টি সরকারি/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মধ্যে নির্বাচিত ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, রাজ্য ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান, পলিটেকনিক এবং অনুমোদিত কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি রয়েছে। এছাড়া রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যেসব দপ্তর কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে, তাদেরও এর আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে। মোট সাড়ে ৭ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহ প্রভাব
এই প্রকল্পের ফলে যেসব সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে, তা হল :
১. রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ডিজিটাইজেশন কৌশল
২. কারিগরি পাঠক্রমে বহুমুখী কর্মসূচি সংযুক্ত করার দিশানির্দেশ
৩. পড়ুয়াদের শিক্ষা ও কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন
৪. বিভিন্ন পড়ুয়া গোষ্ঠীর মধ্যে রূপান্তরের হার বৃদ্ধি
৫. গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ
৬. গুণগত মান ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন
৭. অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি
৮. শ্রম বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত পাঠক্রম
৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিচালক তৈরি করা, এক্ষেত্রে মহিলাদের বিশেষ উৎসাহদান
রূপায়ণের কৌশল ও লক্ষ্য
সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিকগুলিতে এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির গুণগত মান ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো। এটি একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এরজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একটি কেন্দ্রীয় নোডাল এজেন্সির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।
আইআইটি, আইআইএম, এআইসিটিই, এনবিএ প্রভৃতির মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এই প্রকল্পের রূপায়ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
এই প্রকল্পের আওতায় সার্বিক ও বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাজের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহ দেওয়া হবে। এখানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকবে। শিল্প মহলের চাহিদা অনুযায়ী পাঠক্রম স্থির করা হবে। শিক্ষকদের গুণগতমানের উন্নয়নে নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি রিসার্চ হাবের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া থাকবে ইনকিউবেশন ও ইনোভেশন সেন্টার।


