শ্রীমান গুলাব চন্দ কাটারিয়া জি, কেন্দ্রে আমার সহকর্মী জে. পি. নাড্ডা জি, অশ্বিনী বৈষ্ণব জি, সংসদে আমার সহকর্মী মনীশ তিওয়ারি জি, এখানে উপস্থিত বিধায়ক, মন্ত্রী ও সাংসদবৃন্দ, এবং উপস্থিত সকল বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, ভাই ও বোনেরা,
আজ আপনাদের মাঝে এসে আমার মন এক বিশেষ আনন্দে ভরে উঠেছে।
বন্ধুগণ,
চণ্ডীগড় শুধু একটি শহর নয়; এটি ভারতের উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, উন্নত জীবনযাত্রা, Ease of Living, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা এবং সর্বোপরি মা চণ্ডীর আশীর্বাদ—এই সব কিছুর জন্য চণ্ডীগড় সুপরিচিত। তাই চণ্ডীগড়ের উন্নয়ন বরাবরই এনডিএ সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়।
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেড় বছর আগে দেশ বিচারব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক সংস্কার করেছে। আমরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রবর্তন করেছি। অর্থাৎ, শাস্তিনির্ভর আইনের পরিবর্তে ন্যায়ভিত্তিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই নতুন আইন কার্যকর করার সূচনা হয়েছিল চণ্ডীগড় থেকেই।

বন্ধুগণ,
গত কয়েক বছরে ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, স্মার্ট পার্কিং এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো বহু প্রকল্পের মাধ্যমে চণ্ডীগড়কে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শহরে পরিণত করার কাজ হয়েছে। এই মিশনে আড়াই হাজার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আজও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে। এই উপলক্ষে আমি চণ্ডীগড়ের সকল নাগরিককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
এখানে আসার আগে আমি হরিয়ানার জিন্দে ছিলাম এবং এখান থেকে পাঞ্জাবের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে যোগ দিতে জালন্ধরে যাব। এই দুই কর্মসূচির মাঝখানে আজকে চণ্ডীগড়ের অনুষ্ঠান। কারণ চণ্ডীগড় হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ এবং সমগ্র উত্তরাঞ্চলকে সংযুক্ত করে। চণ্ডীগড়ের উন্নয়নের ফলে শুধু এখানকার মানুষের জীবনই উন্নত হয় না, বরং হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষও এর সুফল ভোগ করেন। বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চণ্ডীগড় সমগ্র অঞ্চলের একটি প্রধান কেন্দ্র।
বন্ধুগণ,
আমি যখন চণ্ডীগড়ে থাকতাম, তখন বহুবার পিজিআই-তে যেতে হতো। কারণ জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ কিংবা হরিয়ানায় আমাদের কোনো সহকর্মী বা তাঁদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতেন, আর তাঁদের দেখতে যাওয়াটা আমার কাছে স্বাভাবিক ছিল। তাই আমি জানি, স্বাস্থ্য পরিষেবার দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রতিষ্ঠান সমগ্র অঞ্চলের মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুগণ,
আজ চণ্ডীগড় পিজিআই-তে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এখানে অ্যাডভান্সড নিউরো-সায়েন্স সেন্টার, অ্যাডভান্সড মাদার অ্যান্ড চাইল্ড সেন্টার এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতাল ব্লকের মতো প্রকল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
আমার মনে আছে, ২০১৫ সালে আমি চণ্ডীগড় পিজিআই-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। আজ ভার্চুয়াল মাধ্যমেও সেই পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। গত এক দশকে পিজিআই-এর ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এর জন্য আমি পিজিআই চণ্ডীগড়ের প্রশাসন, অধ্যাপকবৃন্দ এবং তরুণ চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রশংসা জানাই এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ,
যখন আমরা স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা সবাই জানি যে পরিচ্ছন্নতার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার গঠনের পর আমরা স্বচ্ছ ভারত মিশন শুরু করি। দেশে কোটি কোটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে, ভারত উন্মুক্ত স্থানে শৌচমুক্ত দেশ হয়েছে, জনপরিসর পরিষ্কার রাখার জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে এবং পরিচ্ছন্নতাকে মানুষের জীবনযাত্রার অংশ করে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরের স্বচ্ছ ভারত র্যা ঙ্কিংও এই প্রচেষ্টারই অংশ এবং চণ্ডীগড় বরাবরই এই ক্ষেত্রে ভালো ফল করার চেষ্টা করে আসছে।

বন্ধুগণ,
আজ আমি চণ্ডীগড়ের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা ইন্দরজিৎ সিং সিধুরও প্রশংসা করতে চাই। তিনি ‘ব্রুম ওয়ারিয়র’ নামে পরিচিত। চণ্ডীগড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর আমাদের সরকার তাঁকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করেছে।
বন্ধুগণ,
পরিচ্ছন্নতা কোনো এক দিনের কাজ নয়; পরিচ্ছন্নতা হলো জীবনযাপনের পদ্ধতি। আজকের এই কর্মসূচির সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার বার্তাকেও যুক্ত করা হয়েছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ উদ্যোগের অধীনে আজ এখানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমি সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি—জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য আমি চণ্ডীগড়ের সকল ভাই-বোনকে ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
এক সময় ছিল, যখন ভারতের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র নিয়ে গোটা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করত। কোনো বড় দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিলেই প্রশ্ন উঠত—ভারতের কী হবে? করোনা মহামারির সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে ভারত বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সরকার শুধু ভারতের সক্ষমতাই বাড়ায়নি, বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিয়েছে। করোনা মহামারির সময় ভারত সাহায্যপ্রার্থী দেশ ছিল না; বরং ভারতই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাহায্য পৌঁছে দিয়েছিল। আজ বিশ্বের বহু দেশ থেকে মানুষ গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য ভারতে আসছেন। চিকিৎসা পর্যটনের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে ভারত দ্রুত আত্মপ্রকাশ করছে।
বন্ধুগণ,
গত ১২ বছরের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সুপরিকল্পিত নীতির ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। ১২ বছর আগে আমরা সংকল্প নিয়েছিলাম—দেশের মানুষ আর স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে কষ্ট পাবেন না; তাঁরা উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাবেন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের সাফল্য সেই সংকল্প বাস্তবায়নেরই ফল।
এই সময়ে ভারত দ্রুত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ করেছে। ২০১৪ সালের পর দেশে ১৫টি নতুন AIIMS প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই নতুন AIIMSগুলো সফলভাবে কাজ করছে। সারা দেশে শত শত নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এখানেই চণ্ডীগড়ে, অল্প দূরত্বে হোমি ভাবা ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালে এর উদ্বোধনের সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ এই হাসপাতাল হাজার হাজার রোগীকে সেবা দিচ্ছে।
বন্ধুগণ,
গ্রামাঞ্চলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিটি স্তরে শক্তিশালী করতে আয়ুষ্মান ভারত হেলথ ইনফ্রাস্ট্রাকচার মিশন চালু করা হয়েছে। এর আওতায় সারা দেশে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক, সমন্বিত জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগার এবং জনস্বাস্থ্য ইউনিটের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
আজ শহর, গ্রাম এবং জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল মিলিয়ে দেশে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির কার্যকর রয়েছে। সেখানে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসাই নয়, ১২ ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবাও প্রদান করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলিতে কোটি কোটি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে।
বন্ধুগণ,
প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের সরকার চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে। ই-সঞ্জীবনী মিশন-এর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যেই দেশে ৪৮ কোটিরও বেশি টেলিমেডিসিন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এখন বড় হাসপাতাল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সহজেই পরামর্শ করতে পারছেন।
বন্ধুগণ,
স্বাস্থ্য পরিষেবার এই সম্প্রসারণের ফলে আজ দেশে ৯০% এরও বেশি প্রসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন হচ্ছে। আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর হার ৮৬% কমেছে। একই সঙ্গে শিশুমৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বন্ধুগণ,
রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি আজ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পোষন অভিযান, মিশন ইন্দ্রধনুষ, যোগ, এইচ.পি.ভি. টিকাকরণ, ইউ-উইন প্ল্যাটফর্মে ধরনের বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ফলে কোটি কোটি মানুষের জীবন আরও নিরাপদ হয়ে উঠছে।

রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি আজ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পোষন অভিযান, মিশন ইন্দ্রধনুষ, যোগ, এইচ.পি.ভি. টিকাকরণ, ইউ-উইন প্ল্যাটফর্মে ধরনের বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ফলে কোটি কোটি মানুষের জীবন আরও নিরাপদ হয়ে উঠছে।
বন্ধুগণ,
আমরা দেশকে যক্ষ্মামুক্ত করার সংকল্পও নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই টিবিমুক্ত ভারত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। সময়মতো টিবি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এরই ফলস্বরূপ আজ দেশে টিবি চিকিৎসার আওতা ৯০%এরও বেশি হয়েছে। গত বছর প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে ভারতে টিবি সংক্রমণ ২১% কমেছে।
এই প্রচেষ্টায় সবচেয়ে বেশি উপকার পেয়েছেন দেশের দরিদ্র মানুষ। এর সুফল পেয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারও। তবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন আমাদের মা-বোনেরা। কারণ তাঁরা সবসময় পরিবারের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের আগে স্থান দেন। নিজের অসুস্থতাকে সহ্য করাই যেন তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এই সক্রিয় উদ্যোগের ফলে তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত হয়েছে এবং আজ টিবিমুক্ত হওয়া মানুষের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই আমাদের মা-বোনেরা।
আজ ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা আর কোনো বিশেষ সুবিধাভোগীদের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের অধিকার হয়ে উঠছে।
বন্ধুগণ,
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের এই বিশেষ গুরুত্ব দেশের যুবসমাজেরও বিরাট উপকার করেছে। আমাদের তরুণ চিকিৎসকেরা জানেন, এক সময় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা কত কঠিন ছিল। পর্যাপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও আসন না থাকায় বহু মেধাবী যুবক-যুবতী সেই সুযোগ পেতেন না।
আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছি। আজ দেশে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমবিবিএস এবং স্নাতকোত্তর আসনের সংখ্যাও রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।
এখন তো চণ্ডীগড় পিজিআই-তেও এমবিবিএস কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর ফলে দেশের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী এমন একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবে এবং দেশ আরও বেশি সংখ্যায় দক্ষ চিকিৎসক পাবে।
বন্ধুগণ,
চণ্ডীগড় এমন একটি শহর, যেখানে শিক্ষা, প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং গবেষণার বহু শীর্ষ প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে রয়েছে। খুব কম শহরেরই এমন সক্ষমতা রয়েছে।
আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠানগুলিই নতুন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আজ শিক্ষা ক্ষেত্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও এই যাত্রাকে নতুন গতি দিচ্ছে।
পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কুরুক্ষেত্র বয়েজ হোস্টেল ও মেসের উদ্বোধন হয়েছে। সেক্টর-৪৬ সরকারি কলেজের জন্য নতুন হোস্টেল নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি রিসার্চ স্কলার্স হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য, দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য উন্নত গবেষণাগার এবং দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা। গবেষণার পরিবেশ যত শক্তিশালী হবে, উদ্ভাবনের গতিও তত বাড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ডিপ-টেক—এই সব ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বের অগ্রভাগে নিয়ে যেতে হবে।
আমার পূর্ণ বিশ্বাস, চণ্ডীগড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এখানকার শিক্ষক এবং যুবসমাজ এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বন্ধুগণ,
পরিকাঠামোর উন্নয়ন যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা নির্ধারণ করে। তাই প্রথমবারের মতো দেশে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে।
আজ চণ্ডীগড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। আইটি সিটি থেকে কুরালি পর্যন্ত ছয় লেনের গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দর সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে এবং মোহালি ও খরড়ের বাসিন্দারা যানজট থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।
এছাড়াও অম্বালা-চণ্ডীগড় গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে থেকে পি.আর.-৭ স্পার সংযোগ সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই ধরনের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে নতুন গতি দেবে এবং চণ্ডীগড়ে Ease of Living আরও উন্নত হবে।
বন্ধুগণ,
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আজ জলন্ধরেও রেল-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন হতে চলেছে। এর সুফল শুধু পাঞ্জাব নয়, সমগ্র অঞ্চলই পাবে।
একই সঙ্গে আজ হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে চলা এই ট্রেন ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী সূচনা। এই উপলক্ষে আমি আপনাদের সকলকে এবং সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
বিকশিত ভারতের যাত্রাপথে আমাদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে আধুনিক চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আমাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্মই নয়, আগামী প্রজন্মও ভোগ করবে। আমাদের এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম হয়ে উঠবে।
বিজেপি-এনডিএ সরকার সেই লক্ষ্যেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং সমগ্র অঞ্চলের মানুষকে এই নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য আমি আবারও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার সঙ্গে বলুন—
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।


