শেয়ার
 
Comments
Launch of IN-SPACe is a ‘watch this space’ moment for the Indian space industry
“IN-SPACe is for space, IN-SPACe is for pace, IN-SPACe is for ace”
“The private sector will not just remain a vendor but will play the role of a big winner in the space sector”
“When the strength of government space institutions and the passion of India’s private sector will meet, not even the sky will be the limit”
“Today we can not put the condition of only the government route for carrying out their plans before our youth”
“Our space mission transcends all the differences and becomes the mission of all the people of the country”
“ISRO deserves kudos for bringing momentous transformation”
“India’s space programme has been the biggest identity of Aatmnirbhar Bharat Abhiyan”
“India needs to increase its share in the global space industry and the private sector will play a big role in that”
“India is working on a New Indian Space Policy and the policy for ease of doing business in space sector”
“Gujarat is fast becoming a centre of big institutions of national and international level”

নমস্কার! আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং এই এলাকার সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মাননীয় শ্রী অমিত শাহজি, গুজরাটের জনপ্রিয় ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই প্যাটেলজি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাননীয় শ্রী অজিত দোভালজি, সংসদে আমার সহকর্মী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির গুজরাট শাখার সভাপতি মাননীয় শ্রী সি আর পাটিলজি, INSPACe-এর চেয়ারম্যান মাননীয় শ্রী পবন গোয়েঙ্কাজি, মহাকাশ বিভাগের সচিব শ্রদ্ধেয় শ্রী এস সোমনাথজি, ভারতের স্পেস ইন্ডাস্ট্রির সকল প্রতিনিধি, অন্যান্য শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ।

আজ একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হল। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথারাইজেশন সেন্টার বা সংক্ষেপে INSPACe-এর প্রধান কার্যালয় স্থাপনের জন্য সমস্ত দেশবাসীকে আর বিশেষ করে দেশের সায়েন্টিফিক কমিউনিটিকে আমি অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকাল আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায়ই দেখি যে তরুণ-তরুণীরা কিছু উত্তেজক এবং আকর্ষনীয় পোস্ট দিতে থাকেন, আর তা দেওয়ার আগে তাঁরা অ্যালার্ট করতে থাকেন এবং অ্যালার্টে মেসেজিং করতে থাকেন। তাঁরা লেখেন – ‘ওয়াচ দিস স্পেস’! ভারতের স্পেস ইন্ডাস্ট্রির জন্য INSPACe-এর এই উদ্বোধন এই ‘ওয়াচ দিস স্পেস’ মুহূর্তের মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। INSPACe ভারতের যুব সম্প্রদায়কে, ভারতের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণসম্পন্ন নবীন প্রজন্মের মানুষদের তাঁদের মেধা প্রদর্শনের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ গড়ে দেবে। তাঁরা সরকারের জন্য কাজ করুন, কিংবা বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য, INSPACe সকলের জন্যই উন্নত অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কাজ করার সুযোগ নিয়ে এসেছে। INSPACe-এ ভারতের মহাকাশ শিল্পোদ্যোগে বিপ্লব নিয়ে আসার ক্ষমতা রয়েছে আর সেজন্য আমি আজ অবশ্যই একথা বলব – “ওয়াচ দিস স্পেস, INSPACe ইজ ফর স্পেস, INSPACe ইজ ফর পেস, INSPACe ইজ ফর এস”।

বন্ধুগণ,

অনেক দশক পর্যন্ত ভারতে মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি শিল্পোদ্যোগগুলিকে কেবলই ভেন্ডার হিসেবে দেখা যেত। সরকারই সমস্ত স্পেস মিশন এবং প্রকল্পের কাজ করত। আমাদের বেসরকারি ক্ষেত্রের মানুষেরা প্রয়োজন অনুসারে হয়তো সামান্য কিছু কলকব্জা, বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি কিংবা সরবরাহ করতেন। বেসরকারি ক্ষেত্রটিকে কেবলই ভেন্ডার বানিয়ে দেওয়ার ফলে, তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ সর্বদাই অবরুদ্ধ থাকত, মাঝখানে একটি দেওয়াল দাঁড়িয়ে থাকত। যাঁরা সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন না, তাঁরা বৈজ্ঞানিক হোন কিংবা কোনও নবীন প্রজন্মের মানুষজন, তাঁরা মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত নিজেদের ভাবনাচিন্তা নিয়ে কোনও কাজই করতে পারতেন না, আর এসব ব্যবধানের কারণে ক্ষতি কাদের হত? ক্ষতি দেশের হত, আর আমরা সকলেই নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে জানি, আমরা সকলেই এর সাক্ষী যে বড় বড় ভাবনাচিন্তা যাঁদের থাকে, তাঁরাই অবশেষে জয়ী হন। মহাকাশ ক্ষেত্রে সংস্কার এনে তাকে সমস্ত বাধা-নিষেধ থেকে মুক্ত করে INSPACe এর মাধ্যমে বেসরকারি শিল্পোদ্যোগকে সহায়তা করে দেশ আজ জয়ী হওয়ার অভিযান শুরু করছে। আজ বেসরকারি ক্ষেত্র কেবলই ভেন্ডার হয়ে থাকবে না বরং, মহাকাশ ক্ষেত্রে ‘বিগ উইনার্স’-এর ভূমিকা পালন করবে। ভারতের সরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলির সামর্থ্য আর ভারতের বেসরকারি ক্ষেত্রের আবেগ ও উদ্দীপনা যখন একসঙ্গে যুক্ত হবে তখন তাদের ওড়ার জন্য আকাশও কম পড়ছে বলে মনে হবে। ‘ইভেন স্কাই ইজ নট দ্য লিমিট’! যেভাবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সামর্থ্য আজ গোটা বিশ্ব দেখছে, তেমনই আগামীদিনগুলিতে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের শক্তিও নতুন নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে। INSPACe, স্পেস ইন্ডাস্ট্রি, স্টার্ট-আপস এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা ইসরোর মধ্যে ট্রান্সফার অফ টেকনলজিকেও ফেসিলিটেট করার কাজ করবে। বেসরকারি ক্ষেত্র ইসরোর রিসোর্সগুলিও যাতে ব্যবহার করতে পারে, ইসরোর সঙ্গে যাতে মিলেমিশে কাজ করতে পারে, এটাও সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। 

বন্ধুগণ,

মহাকাশ ক্ষেত্রে এই সংস্কার করার সময় সর্বদাই ভারতের যুব সম্প্রদায়ের অসীম সামর্থ্যের কথা আমার মনে ছিল, আর এখন একটু আগেই যে স্টার্ট-আপগুলিতে গিয়ে আমি দেখে এসেছি অনেক অল্প বয়সের তরুণ-তরুণীরা যেভাবে অত্যন্ত সাহস নিয়ে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের দেখে, তাঁদের কথা শুনে, আমার মন অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে উঠেছে। আমি এই সমস্ত নবীন প্রজন্মের মানুষদের অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মহাকাশ ক্ষেত্রে আগের যত ব্যবস্থা ছিল সেগুলির মধ্যে ভারতের যুব প্রজন্ম ততটা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। দেশের যুবক-যুবতীরা তাঁদের সঙ্গে উদ্ভাবন, প্রাণশক্তি এবং আবিষ্কারের প্রাণশক্তি নিয়ে আসেন। তাঁদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাও যথেষ্ট থাকে। এই প্রাণশক্তি ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা যে কোনও দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়। কিন্তু যদি কোনও তরুণ-তরুণী কোনও বাড়ি তৈরি করতে চান, তাহলে কি আমরা তাঁদেরকে বলতে পারি যে শুধুই পিডব্লিউডি-র মাধ্যমে তৈরি করুন? যদি কিছু তরুণ-তরুণী কিছু উদ্ভাবন করতে চায়,  তাহলে আমরা তাঁদেরকে কি বলতে পারি যে শুধুই সরকারি ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই করতে হবে? এটা শুনতেও অবাক লাগে কিন্তু আমাদের দেশে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এটাই পরিস্থিতি। এটা দেশের দুর্ভাগ্য ছিল যে সময়ের সঙ্গে রেগুলেশন্স বা নিয়মকানুন এবং রেস্ট্রিকশন্স বা বাধানিষেধ - এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকে তা সবাই ভুলে যেত। আজ যখন ভারতের নবীন প্রজন্ম দেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে যত বেশি সম্ভব ততটাই অংশীদার হয়ে উঠতে চায়, তখন তাঁদের সামনে আমরা এই শর্ত রাখতে পারি না যে, যা কিছু করবেন সবই সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে থেকে করুন, সরকারি পথে করুন। এ ধরনের শর্তের সময় চলে গেছে। আমাদের সরকার ভারতের নবীন প্রজন্মের সামনে থেকে সমস্ত ধরনের অবরোধ, বাধা-বিপত্তি সরিয়ে দিচ্ছে। ক্রমাগত সংস্কার আনছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রটিকে বেসরকারি শিল্পোদ্যোগের জন্য খুলে দেওয়া, আধুনিক ড্রোন নীতি রচনা করা, জিও-স্পেশিয়াল ডেটা গাইডলাইন্স তৈরি করা, টেলিকম, আইটি সেক্টরে ‘ওয়ার্ক ফ্রম এনিহোয়্যার’-এর স্বস্তি এনে দেওয়া। সরকার প্রত্যেক দিশায় কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে আমরা ভারতের বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য যত বেশি সম্ভব ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর আবহ গড়ে তুলতে পারি যাতে দেশের বেসরকারি ক্ষেত্র দেশবাসীদের ‘ইজ অফ লিভিং’-এ ততটাই সাহায্য করে।

বন্ধুগণ,

এখানে আসার একটু আগেই আমি INSPACe-এর টেকনিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং ক্লিন রুমও ঘুরে দেখছিলাম। এখানে ভারতীয় কোম্পানিগুলির জন্য মহাকাশযানের ডিজাইন, ফ্যাব্রিকেশন, অ্যাসেম্বলি, ইন্টিগ্রেশন এবং টেস্টিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক উপকরণ রয়েছে। এখানে আরও কিছু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং পরিকাঠামো তৈরি করা হবে যা দেশের স্পেস ইন্ডাস্ট্রির সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। আজ আমার প্রদর্শনী এলাকাটি ঘুরে দেখার, স্পেস ইন্ডাস্ট্রি এবং স্পেস স্টার্ট-আপস-এর লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমার মনে আছে যখন আমরা মহাকাশ ক্ষেত্রের সংস্কার নিয়ে কথাবার্তা বলতাম, তখন কিছু মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করতেন যে, মহাকাশ শিল্পোদ্যোগে কোন প্রাইভেট প্লেয়ার আসবে? কিন্তু আজ মহাকাশ ক্ষেত্রে কিন্তু প্রাইভেট প্লেয়াররা এসেছেন। আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে ৬০টিরও বেশি ভারতীয় প্রাইভেট কোম্পানি আজ ইতিমধ্যেই এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আর তাঁদের দেখে আমার আনন্দ আরও বেড়ে গিয়েছে। আমি গর্বিত যে আমাদের প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা লঞ্চ ভেহিকেল, স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড সেগমেন্ট এবং স্পেস অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রগুলিতে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পিএসএলভি রকেট নির্মাণের ক্ষেত্রেও ভারতের প্রাইভেট প্লেয়ার্সরা এগিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, অনেক প্রাইভেট কোম্পানি আজ নিজেদের রকেটের ডিজাইনও প্রস্তুত করে নিয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সীমাহীন সম্ভাবনার একটি ঝলক মাত্র। এর জন্য আমি আমাদের বৈজ্ঞানিক, নবীন শিল্পোদ্যোগী এবং সমস্ত দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই, আর এই সমগ্র যাত্রাপথে এই যে নতুন মোড় এসেছে, একটি নতুন উচ্চতার পথ আমরা বেছে নিয়েছি, তার জন্য যদি আমার কাউকে সবচাইতে বেশি শুভেচ্ছা জানাতে হয়, তাহলে সবচাইতে বেশি ধন্যবাদ জানাব আমাদের ইসরোর শ্রদ্ধেয় বন্ধুদের। আমাদের ইসরোর প্রাক্তন সচিব এখানে বসে আছেন, যিনি এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর এখন আমাদের সোমনাথজি একে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, আর সেজন্য এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমার এই ইসরোর বন্ধুদেরকেই দিতে হবে। এই ইসরোর বৈজ্ঞানিকদের আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি। এটা ছোট সিদ্ধান্ত ছিল না বন্ধুগণ! এই স্টার্ট-আপ-এর শিল্পোদ্যোগীরাই জানেন যে এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে তাঁরা ভারতকে এবং বিশ্বকে কত কিছু দেওয়ার অদ্যম সাহস রাখেন, আর সেজন্য সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ইসরোকেই দিতে হবে। তাঁরা এই কাজে অনেক বেশি উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। ক্রমাগত  দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সবকিছুকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, আর যেখানে তাঁদের নিজেদেরই মালিকানা ছিল, সেখানে নবীনদের আগ্রহ দেখে তাঁরা বলছিলেন – না না আসুন, দেশের নবীন প্রজন্ম এগিয়ে আসুন। এটা আপনাদেরই প্রতিষ্ঠান, আপনারা এগিয়ে আসুন। এই আহ্বান, এই সিদ্ধান্ত নিজেই একটা অনেক বড় বিপ্লবী সিদ্ধান্ত বন্ধুগণ!

বন্ধুগণ,

এই সময় আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অমৃত মহোৎসব পালন করছি। স্বাধীন ভারতে আমাদের যে সাফল্যগুলি কোটি কোটি দেশবাসীকে প্রেরণা যুগিয়েছে, তাঁদেরকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, সেগুলির মধ্যে আমাদের মহাকাশ ক্ষেত্রের সাফল্যগুলির অনেক বড় অবদান রয়েছে, বিশেষ অবদান রয়েছে। ইসরো যখন কোনও রকেট লঞ্চ করে, মহাকাশে কোনও মহাকাশযান পাঠায়, তখন গোটা দেশ সেই অভিযানে মানসিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে, গর্ব অনুভব করে। দেশবাসী তাঁদের জন্য প্রার্থনা করে। আর যখন তাঁরা সফল হন, তখন প্রত্যেক দেশবাসী আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা এবং গর্ব নিয়ে তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন, আর সেই সাফল্যকে ভারতের প্রত্যেক নাগরিক নিজেদের সাফল্য বলে মনে করেন। আর যদি দুর্ভাগ্যক্রমে কখনও কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায়, অকল্পনীয় কিছু ঘটে যায়, তাহলেও দেশবাসী নিজেদের বৈজ্ঞানিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহস বাড়ানোর কাজ করে। কোনও বৈজ্ঞানিক থেকে শুরু করে কোনও কৃষক কিম্বা মজুর; তিনি বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তিকে বোঝেন কি বোঝেন না – এই সবকিছুর উর্দ্ধে উঠে পাশে দাঁড়ান, তাঁদের অকুন্ঠ সমর্থনে আমাদের স্পেস মিশন দেশের জনগণের মনের মিশন হয়ে ওঠে। ‘মিশন চন্দ্রযান’-এর সময় সারা পৃথিবী আমাদের ভারতের এই মানসিক ঐক্যবদ্ধতার শক্তিকে দেখেছে। ভারতের মহাকাশ অভিযান একভাবে আত্মনির্ভর ভারতের সবচাইতে বড় পরিচয় ছিল। এখন যখন এই অভিযানে ভারতের বেসরকারি ক্ষেত্রের শক্তি যুক্ত হবে, তখন তার শক্তি কত বেশি বৃদ্ধি পাবে আপনারা তা কল্পনা করতে পারেন!

বন্ধুগণ,

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে আপনার, আমার জীবনে প্রতিদিন মহাকাশ প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমবর্ধমান। যত বেশি ভূমিকা, যত বেশি প্রয়োগ, তত বেশি সম্ভাবনা। একবিংশ শতাব্দীর ‘স্পেস-টেক’ একটি বড় বিপ্লবের ভিত্তি হয়ে উঠেছে। ‘স্পেস-টেক’ এখন শুধুই সুদূর মহাকাশের জন্য নয়, বরং আমাদের ব্যক্তিগত স্পেসের প্রযুক্তিতে পরিণত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে মহাকাশ প্রযুক্তির যে ভূমিকা দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে মহাকাশ প্রযুক্তি সামিল রয়েছে, সেদিকে সব সময় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা টিভি খুলি, আমাদের সামনে এত বেশি চ্যানেল, কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে এইসব চ্যানেল কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও আসা-যাওয়া করতে হলে কিংবা এটা বুঝতে হলে যে পথে যানজট রয়েছে কিনা, সংক্ষিপ্ততম পথ কোনটা হবে – এই সবকিছু কিসের সাহায্যে সম্ভব হচ্ছে? কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে সম্ভব হচ্ছে। নাগরিক পরিকল্পনার এত কাজ রয়েছে, কোথাও সড়কপথ তৈরি হচ্ছে, কোথাও সেতু তৈরি হচ্ছে, কোথাও বিদ্যালয়, কোথাও হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে, কোথাও মাটির নিচের জলস্তর মাপতে হবে, পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির তদারকি করতে হবে – এই সমস্ত কাজ কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমেই তো হচ্ছে। আমাদের যত উপকূলবর্তী এলাকা রয়েছে সেগুলির প্ল্যানিং-এর জন্য, সেগুলির ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্রে যাঁরা মাছ ধরতে যান, সেই জেলেরাও মহাকাশ যানের মাধ্যমে মৎস্য শিকার এবং সামুদ্রিক ঝড়গুলি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য পেয়ে যান। আজ বৃষ্টির জন্য যত অনুমান করা হচ্ছে তা প্রায় সবই সঠিক প্রমাণ হচ্ছে। তেমনই যখন ঝড় আসে, ঠিক কোথায় তার ‘ফল পয়েন্ট’ হবে, কোন দিকে ঝড়টি যাবে, কত ঘন্টা, কত মিনিটে সেটি ‘ফল’ করবে – এই সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যেই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কৃষিক্ষেত্রে ফসল বিমা যোজনা থেকে শুরু করে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ডের অভিযান – এই সকল ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। কোনও মহাকাশ প্রযুক্তি ছাড়া আমরা আজকের আধুনিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের কল্পনাও করতে পারি না। এই সকল সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিষয়ে আমাদের কৃত্রিম উপগ্রহগুলি অত্যন্ত সহায়ক হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আপনারা আরও অনেক বেশি তথ্য জানতে পারবেন। এবারের বাজেটে আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে শিশুদের টিউশন দেওয়ার, পড়ানোর একটি বড় অভিযান চালানোর প্রকল্প তৈরি করেছি। শুধু তাই নয়, যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁরা বসতে যাচ্ছেন, আর যে শিশুরা গ্রাম ছেড়ে বড় বড় শহরে অনেক বেশি ফিজ দিয়ে পড়াশোনা করছে তাদেরকেও আমরা এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলির মাধ্যমে তাদের বাড়ি পর্যন্ত, তাদের প্রয়োজন অনুসারে পাঠ্যক্রম রচনা করাচ্ছি যাতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত কোনও খরচ না করতে হয় আর দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম পরিবারের শিশুও ভালো ভালো টিউশন কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের টিভি স্ক্রিনে, নিজেদের ল্যাপটপের স্ক্রিনে, নিজেদের মোবাইল ফোনে খুব সহজেই যাতে পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।

বন্ধুগণ,

ভবিষ্যতে এরকমই অনেক ক্ষেত্রে ‘স্পেস-টেক’-এর ব্যবহার অনেক বেশি বৃদ্ধি পেতে চলেছে। আমরা কিভাবে মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের জন্য বেশি সুলভ করে তুলব, কিভাবে এই ‘স্পেস-টেক’ সাধারণ মানুষের ‘ইজ অফ লিভিং’কে বৃদ্ধি করার মাধ্যম হয়ে উঠবে, আর কিভাবে আমরা এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের উন্নয়ন এবং সামর্থ্যের জন্য করতে পারি এই লক্ষ্যে INSPACe এবং প্রাইভেট প্লেয়ার্সরা ক্রমাগত কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। জিও-স্পেশিয়াল ম্যাপিং-এর সঙ্গে যুক্ত কতো না সম্ভাবনা আমাদের সামনে রয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রও এক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের কাছে আজ সরকারি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের বড় বড় ডেটা অ্যাভেইলেবল রয়েছে। এখন আগামীদিনে বেসরকারি ক্ষেত্রের কাছেও নিজস্ব অনেক ডেটা থাকবে। ডেটার এই পুঁজি আপনাদের বিশ্বে আপনাদেরকে অনেক বড় শক্তিতে বলীয়ান করতে চলেছে। এই সময় বিশ্বে স্পেস ইন্ডাস্ট্রির আকার প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ২০৪০ পর্যন্ত এর ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ আমাদের কাছে মেধাও রয়েছে, অভিজ্ঞতাও রয়েছে, কিন্তু আজ এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের অংশীদারিত্ব, কেবল গণ-অংশীদারিত্ব অর্থাৎ, প্রাইভেট পার্টনারশিপ মাত্র ২ শতাংশ। আমাদের গ্লোবাল স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে, আর এক্ষেত্রে আমাদের বেসরকারি ক্ষেত্রের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি আগামীদিনে মহাকাশ পর্যটন এবং মহাকাশ কূটনীতির ক্ষেত্রেও ভারতের শক্তিশালী ভূমিকা পালনের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। ভারতের মহাকাশ কোম্পানিগুলি কিভাবে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠবে, আমাদের কাছে যত বেশি গ্লোবাল স্পেস কোম্পানি থাকবে তা গোটা দেশের জন্য অনেক গর্বের বিষয় হবে।

বন্ধুগণ,

আমাদের দেশে অনন্ত সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু এই অনন্ত সম্ভাবনাগুলি কখনও সীমিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে না। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, দেশের নবীন প্রজন্মকে আশ্বস্ত করছি, দেশের সায়েন্টিফিক টেম্পারামেন্ট বা বৈজ্ঞানিক মেজাজসম্পন্ন, ঝুঁকি নেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন নবীন প্রজন্মকে আশ্বস্ত করতে চাইছি যে মহাকাশ ক্ষেত্রে সংস্কারের এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও ক্রমাগত চলতে থাকবে। বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রয়োজনগুলি যাতে শোনা যায়, বোঝা যায় আর বাণিজ্যের সম্ভাবনাগুলির যথাযথ পরিমাপ যাতে করা যায়, তা সুনিশ্চিত করতে INSPACe কে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। INSPACe এই লক্ষ্যে বেসরকারি ক্ষেত্রের সমস্ত প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি ‘সিঙ্গল উইন্ডো ইন্ডিপেন্ডেন্ট নোডাল এজেন্সি’ রূপে কাজ করবে। সরকারি কোম্পানিগুলি, মহাকাশ শিল্পোদ্যোগগুলি, স্টার্ট-আপগুলি এবং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত নতুন ভারতীয় মহাকাশ নীতি নিয়েও কাজ করছে। আমরা মহাকাশ ক্ষেত্রে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’কে উৎসাহ যোগানোর জন্যও দ্রুত একটি নীতি নিয়ে এগোতে চলেছি।

বন্ধুগণ,

মানবতার ভবিষ্যৎ, তার উন্নয়নের নিরিখে আগামীদিনগুলিতে দুটি এমন ক্ষেত্র সবচাইতে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে চলেছে। আমরা যত দ্রুত সেগুলিকে এক্সপ্লোর করব, বিশ্বের এই প্রতিযোগিতায় দেরি না করে যত এগিয়ে যেতে পারব, ততই আমরা বিভিন্ন উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারব, নিয়ন্ত্রণও করতে পারব। আর সেই দুটি ক্ষেত্র হচ্ছে ‘স্পেস এন্ড সি’- মহাকাশ এবং সমুদ্র। এই দুটি নিঃসন্দেহে অনেক বড় শক্তিক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে। আজ আমরা আমাদের নীতি সংস্কারের মাধ্যমে তাদের সবাইকে ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা করছি, আর দেশের নবীন প্রজন্মকে একসঙ্গে যুক্ত করার জন্য উৎসাহিত করছি। মহাকাশ ক্ষেত্রের জন্য আমাদের যুব সম্প্রদায়ের মনে, বিশেষ করে, ছাত্রছাত্রীদের মনে যে জিজ্ঞাসা রয়েছে তা ভারতের মহাকাশ শিল্পোদ্যোগগুলির উন্নয়নের জন্য অনেক বড় শক্তি হয়ে উঠবে। সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা হাজার হাজার ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাবস’-এর ছাত্রছাত্রীদের মহাকাশ সংক্রান্ত নানা বিষয়ের সঙ্গে ক্রমাগত পরিচিত করাতে চাইছি, তাদের আপডেট করে রাখতে চাইছি। আমি দেশের স্কুল-কলেজগুলিকেও অনুরোধ করব যে আপনারা নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের মহাকাশের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি এবং কোম্পানিগুলির সম্পর্কে বলবেন, তাদের গবেষণাগারগুলিতে নিয়ে যাবেন, পরিদর্শন করাবেন। এই ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রমাগত ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ বাড়ছে তাদের থেকেও ছাত্রছাত্রীরা অনেক সাহায্য পাবে। আপনাদের হয়তো মনে আছে, আমি জানি না ভারতে আগে এমনটি কেন ছিল? কিন্তু ছিল, আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এর আগের পরিস্থিতি এমনই ছিল যে যখন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হত, তখন সেই গোটা এলাকায় কারোর প্রবেশ নিষেধ ছিল, আর আমাদের মতো যত নেতারা থাকতেন, তাঁদেরকে ভিআইপি-র মতো সেখানে ১০-১৫ জনকে আমন্ত্রণ করে দেখানো হত যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, আর আমরাও অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সেটা দেখতাম। কিন্তু আমার ভাবনা ভিন্ন। আমার কাজ করার পদ্ধতিও ভিন্ন। সেজন্য আমি যখন প্রথমবার সেখানে প্রধানমন্ত্রী রূপে গিয়েছিলাম, তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি দেখেছিলাম যে দেশের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের, ছাত্রছাত্রীদের মনে এই নিয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনা রয়েছে, আগ্রহ রয়েছে, আর একথা মনে রেখে যেখান থেকে আমাদের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হয় সেই শ্রীহরিকোটায় আমরা একটি অনেক বড় উৎক্ষেপণ দেখার উপযোগী মঞ্চ তৈরি করি। যখন কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়, সেগুলি দেখার জন্য ‘ভিউ গ্যালারি’তৈরি করা হয়, আর যে কোনও নাগরিক কিংবা যে কোনও বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী যাতে এই কর্মসূচি চাক্ষুস দেখতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়। আর সেখানে বসার ব্যবস্থাও ছোট নয়, ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে যাতে দেখতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলিকে ছোট মনে হয় কিন্তু এই কর্মসূচিকে খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে এই ব্যবস্থা ছোট নয়। ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে এই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণকে যাতে দেখতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়গুলি ভাবলে ছোট লাগে, কিন্তু ভারতের সামাজিক জীবনে এগুলির অনেক বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। 

বন্ধুগণ,

INSPACE সদর দপ্তরের শুভ উদ্বোধন আজ হচ্ছে। এটি এক প্রকার নানা মহাকাশ গতিবিধির কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। আমি সেজন্য অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ গুজরাটের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় নানা ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র গড়ে উঠছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই এবং তাঁর গোটা টিমকে, আমাদের গুজরাট রাজ্য সরকারের সমস্ত বন্ধুদেরকে, তাঁদের এই উদ্যোগের জন্য, তাঁদের এই সক্রিয়তার জন্য প্রোঅ্যাক্টিভভাবে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত নীতিকে সমর্থন জানানোর জন্য আমি হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাতে চাই, কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনারা জানেন যে কয়েক সপ্তাহ আগেই জামনগরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর গ্লোবাল সেন্টার ফর ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন নামক একটি সংস্থা কাজ শুরু করেছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন থেকে শুরু করে ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটি বা জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়, পণ্ডিত দীনদয়াল এনার্জি ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল চিলড্রেন্স ইউনিভার্সিটি – এরকম কতো না জাতীয় প্রতিষ্ঠান এখানে পাশাপাশি গড়ে উঠেছে। ভাস্করাচার্য ইনস্টিটিউট ফর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন্স অ্যান্ড জিও-ইনফরমেটিক্স অর্থাৎ, বিসাগ-এর স্থাপনও দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য একেকটি প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এই বড় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এখন INSPACe-ও এই এলাকার পরিচয়কে বৃদ্ধি করবে। আমি দেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে, বিশেষ করে, গুজরাটের নবীন প্রজন্মের মানুষদের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে, এই উন্নত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে সম্পূর্ণ লাভবান হোন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও ভরসা রয়েছে যে আপনাদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে ভারত মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন নতুন উচ্চতা হাসিল করবে, আর আজকের এই শুভ উদ্যোগে আমি বিশেষ করে যে বেসরকারি ক্ষেত্রটি উৎসাহ সহকারে করেছে, যে নবীন প্রজন্মের মানুষেরা নতুন সাহস, নতুন সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, তাঁদের শুভেচ্ছাও জানাচ্ছি এবং তাঁদের অনেক শুভকামনাও জানাচ্ছি। আমি ইসরোর সমস্ত বৈজ্ঞানিকদের পাশাপাশি ইসরোর গোটা টিমকেও অনেক অনেক শুভকামনা জানাচ্ছি, অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে গোয়েঙ্কা প্রাইভেট সেক্টরে দীর্ঘকাল ধরেই একজন সফল ব্যক্তি। তাঁর নেতৃত্বে INSPACe প্রকৃত অর্থেই যে স্বপ্ন আমাদের সেই স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়নের সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদও জানাই। 

Explore More
৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ
The Largest Vaccination Drive: Victory of People, Process and Technology

Media Coverage

The Largest Vaccination Drive: Victory of People, Process and Technology
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s address at the India Mobile Congress & launch of 5G services in India
October 01, 2022
শেয়ার
 
Comments
PM inaugurates 6th edition of India Mobile Congress
“5G is a knock on the doors of a new era in the country. 5G is the beginning of an infinite sky of opportunities”
“New India will not remain a mere consumer of technology, but India will play an active role in the development and implementation of that technology”
“With 5G, India is setting a global standard in telecom technology for the first time”
“From exporting zero mobile phones in 2014, today we have become a mobile phone exporting country worth thousands of crores”
“I always had full faith in the understanding, wisdom and inquisitive mind of the common man of the country”
“Digital India has given a platform to small traders, small entrepreneurs, local artists and artisans”
“5G technology will not be limited to speedy internet access, but it has the capability to change lives”

इस ऐतिहासिक अवसर पर उपस्थित मंत्रिमंडल के मेरे सहयोगीगण, देश के उद्योगजगत के प्रतिनिधिगण, अन्य महानुभाव, देवियों और सज्जनों,

ये समिट तो ग्लोबल है लेकिन आवाज लोकल है। इतना ही नहीं आगाज भी लोकल है। आज 21वीं सदी के विकसित होते भारत के सामर्थ्य का, उस सामर्थ्य को देखने का, उसके प्रदर्शन का एक विशेष दिवस है। आजादी के अमृत महोत्सव के इस ऐतिहासिक कालखंड में एक अक्टूबर 2022, ये तारीख इतिहास में दर्ज होने वाली है। दूसरा ये नवरात्र का पर्व चल रहा है। शक्ति उपासना का पर्व होता है और 21वीं सदी की जो सबसे बड़ी शक्ति है उस शक्ति को नई ऊंचाई पर ले जाने का आज भी आरंभ हो रहा है। आज देश की ओर से, देश की टेलीकॉम इंडस्ट्री की ओर से, 130 करोड़ भारतवासियों को 5G के तौर पर एक शानदार उपहार मिल रहा है। 5G, देश के द्वार पर नए दौर की दस्तक लेके आया है। 5G, अवसरों के अनंत आकाश की शुरुआत है। मैं प्रत्येक भारतवासी को इसके लिए बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

मैं गौरव से भरे इन क्षणों के साथ ही, मुझे खुशी इस बात की भी है कि 5G की शुरुआत में ग्रामीण स्कूलों के बच्चे भी हमारे साथ सहभागी हैं, गाँव भी सहभागी हैं, मजदूर-गरीब भी सहभागी हैं। अभी मैं यूपी के एक ग्रामीण स्कूल की बेटी 5G होलोग्राम टेक्नालजी के जरिए रूबरू हो रहा था। जब मैं 2012 के चुनाव में होलोग्राम लेकर के चुनाव प्रसार कर रहा था तो दुनिया के लिए अजूबा था। आज वो घर-घर पहुंच रहा है। मैंने महसूस किया कि नई तकनीक उनके लिए किस तरह पढ़ाई के मायने बदलते जा रही है। इसी तरह, गुजरात, महाराष्ट्र और ओड़िशा के गाँवों के सुदूर स्कूल तक, 5G के जरिए बच्चे बड़े-बड़े विशेषज्ञों के साथ क्लास में नई-नई चीजें सीख रहे हैं। उनके साथ नए दौर की क्लास का हिस्सा बनना, ये वाकई बहुत रोमांचित करने वाला अनुभव है।

साथियों,

5G को लेकर भारत के प्रयासों का एक और संदेश है। नया भारत, टेक्नॉलजी का सिर्फ़ consumer बनकर नहीं रहेगा बल्कि भारत उस टेक्नॉलजी के विकास में, उसके implementation में बहुत बड़ी active भूमिका निभाएगा। भविष्य की wireless टेक्नॉलजी को design करने में, उस से जुड़ी manufacturing में भारत की बड़ी भूमिका होगी। 2G, 3G, 4G के समय भारत टेक्नॉलजी के लिए दूसरे देशों पर निर्भर रहा। लेकिन 5G के साथ भारत ने नया इतिहास रच दिया है। 5G के साथ भारत पहली बार टेलीकॉम टेक्नॉलजी में global standard तय कर रहा है। भारत लीड कर रहा है। आज इन्टरनेट का इस्तेमाल करने वाला हर व्यक्ति इस बात को समझ रहा है कि 5G, Internet का पूरा आर्किटेक्चर बदल कर रख देगा। इसलिए भारत के युवाओं के लिए आज 5G बहुत बड़ी opportunity लेकर आया है। मुझे खुशी है कि विकसित भारत का संकल्प लेकर आगे बढ़ रहा हमारा देश, दुनिया के अन्य देशों के साथ किस तरह कदम से कदम मिलाकर चल रहा है। ये भारत की बहुत बड़ी सफलता है, डिजिटल इंडिया अभियान की बहुत बड़ी सफलता है।

साथियों,

जब हम डिजिटल इंडिया की बात करते हैं तो कुछ लोग समझते हैं कि ये सिर्फ एक सरकारी योजना है। लेकिन डिजिटल इंडिया सिर्फ एक नाम नहीं है, ये देश के विकास का बहुत बड़ा विजन है। इस विजन का लक्ष्य है उस टेक्नॉलजी को आम लोगों तक पहुंचाना, जो लोगों के लिए काम करे और लोगों के साथ जुड़कर काम करे। मुझे याद है, जब मोबाइल सेक्टर से जुड़े इस विजन के लिए strategy बनाई जा रही थी, तो मैंने कहा था कि हमारी अप्रोच टुकड़ों-टुकड़ों में नहीं होनी चाहिए, बल्कि holistic होनी चाहिए। डिजिटल इंडिया की सफलता के लिए जरूरी था कि वो इस सेक्टर के सभी आयामों को एक साथ कवर करे। इसलिए हमने 4 Pillars पर और चार दिशाओं में एक साथ फोकस किया। पहला - डिवाइस की कीमत, दूसरा - डिजिटल कनेक्टिविटी, तीसरा - डेटा की कीमत, चौथा और जो सबसे जरूरी है - ‘digital first’ की सोच।

साथियों,

जब हम पहले पिलर की बात करते हैं, डिवाइस की कीमत की बात करते हैं, तो एक बात बहुत स्पष्ट है। डिवाइस की कीमत तभी कम हो सकती है जब हम आत्मनिर्भर हों, और आपको याद होगा बहुत लोगों ने आत्मनिर्भर की मेरी बात की मजाक उड़ाई थी। 2014 तक, हम करीब 100 प्रतिशत मोबाइल फोन आयात करते थे, विदेशों से इम्पोर्ट करते थे, और इसलिए, हमने तय किया कि हम इस क्षेत्र में आत्मनिर्भर बनेंगे। हमने mobile manufacturing units को बढ़ाया। 2014 में जहां देश में सिर्फ 2 mobile manufacturing units थी, 8 साल पहले 2, अब उनकी संख्या 200 के ऊपर है। हमने भारत में मोबाइल फोन के उत्पादन को बढ़ाने के लिए incentive दिए, प्राइवेट सेक्टर को प्रोत्साहित किया। आज इसी योजना का विस्तार आप PLI scheme में भी देख रहे हैं। इन प्रयासों का नतीजा बहुत पॉजिटिव रहा। आज भारत, मोबाइल फोन उत्पादन करने में दुनिया में नंबर 2 पर हैं। इतना ही नहीं जो कल तक हम मोबाइल इम्पोर्ट करते थे। आज हम मोबाइल एक्सपोर्ट कर रहे हैं। दुनिया को भेज रहे हैं। जरा सोचिए, 2014 में जीरो मोबाइल फोन निर्यात करने से लेकर आज हम हजारों करोड़ के मोबाइल फोन निर्यात करने वाले देश बन गये हैं, एक्सपोर्ट करने वाले देश बन चुके हैं। स्वाभाविक है इन सारे प्रयासों का प्रभाव डिवाइस की कीमत पर पड़ा है। अब कम कीमत पर हमें ज्यादा फीचर्स भी मिलने लगे हैं।

साथियों,

डिवाइस Cost के बाद जो दूसरे पिलर पर हमने काम किया, वो है डिजिटल कनेक्टिविटी का। आप भी जानते हैं कि कम्युनिकेशन सेक्टर की असली ताकत कनेक्टिविटी में है। जितने ज्यादा लोग कनेक्ट होंगे, इस सेक्टर के लिए उतना अच्छा है। अगर हम ब्रॉडबैंड कनेक्टिविटी की बात करें, तो 2014 में 6 करोड़ यूजर्स थे। आज इनकी संख्या बढ़कर 80 करोड़ से ज्यादा हो चुकी है। अगर हम इंटरनेट कनेक्शन की संख्या की बात करें, तो 2014 में जहां 25 करोड़ इंटरनेट कनेक्शन थे, वहीं आज इसकी संख्या करीब-करीब 85 करोड़ पहुंच रही है। ये बात भी नोट करने वाली है कि आज शहरों में इंटरनेट यूजर्स की संख्या के मुकाबले हमारे ग्रामीण क्षेत्रों में इंटरनेट यूजर्स की संख्या तेजी से बढ़ रही है। और इसकी एक खास वजह है। 2014 में जहां देश में 100 से भी कम पंचायतों तक ऑप्टिकल फाइबर पहुंचा था, आज एक लाख 70 हजार से भी ज्यादा पंचायतों तक ऑप्टिकल फाइबर पहुंच चुका है। अब कहां 100, कहां एक लाख 70 हजार। जैसे सरकार ने घर-घर बिजली पहुंचाने की मुहिम शुरू की, जैसे हर घर जल अभियान के जरिए हर किसी तक साफ पानी पहुंचाने के मिशन पर काम किया, जैसे उज्जवला योजना के जरिए गरीब से गरीब आदमी के घर में भी गैस सिलेंडर पहुंचाया, जैसे हमने करोड़ों की तादाद में लोग बैंक अकाउंट से वंचित थे। करोड़ों लोग जो बैंक से नहीं जुड़े थे। आजादी के इतने साल के बाद जनधन एकाउंट के द्वारा हिन्दुस्तान के नागरिकों को बैंक के साथ जोड़ दिया। वैसे ही हमारी सरकार, Internet for all के लक्ष्य पर काम कर रही है।

साथियों,

Digital connectivity बढ़ने के साथ ही डेटा की कीमत भी उतनी ही अहम हो जाती है। ये डिजिटल इंडिया का तीसरा पिलर था, जिस पर हमने पूरी शक्ति से काम किया। हमने टेलीकॉम सेक्टर के रास्ते में आने वाली तमाम अड़चनों को हटाया। पहले विजन की कमी और पारदर्शिता के अभाव में टेलीकॉम सेक्टर को तमाम मुश्किलों का सामना करना पड़ता था। आप परिचित हैं कि कैसे हमने 4G तकनीक के विस्तार के लिए policy support दिया। इससे डेटा की कीमत में भारी कमी आई और देश में डेटा क्रांति का जन्म हुआ। देखते ही देखते ये तीनों फैक्टर, डिवाइस की कीमत, डिजिटल कनेक्टिविटी और डेटा की कीमत – इसका Multiplier Effect हर तरफ नजर आने लगा।

लेकिन साथियों,

इन सबके साथ एक और महत्वपूर्ण काम हुआ। देश में ‘digital first’ की सोच विकसित हुई। एक वक्त था जब बड़े-बड़े विद्वान इलीट क्लास, उसके कुछ मुट्ठी भर लोग, सदन के कुछ भाषण देख लेना, कैसे-कैसे भाषण हमारे नेता लोग करते हैं। वे मजाक उड़ाते थे। उनको लगता था कि गरीब लोगों में क्षमता ही नहीं है, ये डिजिटल समझ ही नहीं सकते, संदेह करते थे। उन्हें शक था कि गरीब लोग डिजिटल का मतलब भी नहीं समझ पाएंगे। लेकिन मुझे देश के सामान्य मानवी की समझ पर, उसके विवेक पर, उसके जिज्ञासु मन पर हमेशा भरोसा रहा है। मैंने देखा है कि भारत का गरीब से गरीब व्यक्ति भी नई तकनीकों को अपनाने में आगे रहता है और मैं एक छोटा अनुभव बताता हूं। शायद ये 2007-08 का कालखंड होगा या 2009-10 का मुझे याद नहीं है। मैं गुजरात में मुख्यमंत्री रहा लेकिन एक क्षेत्र ऐसा रहा जहां मैं कभी गया नहीं और बहुत ही Tribal इलाके में, बहुत ही पिछड़ा, मैं हमारे सरकार के अधिकारियों ने भी मुझे एक बार वहां कार्यक्रम करना ही करना है, मुझे जाना है। तो वो इलाका ऐसा था कोई-कोई बड़ा प्रोजेक्ट की संभावना नहीं थी, फॉरेस्ट लेंड थी, कोई संभावना रही थी। तो आखिर में एक चिलिंग सेंटर, दूध का चिलिंग सेंटर वो भी 25 लाख रुपये का। मैनें कहा भले वो 25 लाख का होगा, 25 हजार का होगा मैं खुद उद्धघाटन करूंगा। अब लोगों को लगता है ना भई चीफ मिनिस्टर को इससे नीचे तो करना नहीं चाहिए। लेकिन मुझे ऐसा कुछ होता नहीं है। तो मैं उस गांव में गया और जब वहां मैं एक पब्लिक मीटिंग करने के लिए भी जगह नहीं थी तो वहां से 4 किलोमीटर दूर स्कूल का छोटा सा मैदान था। वहां पब्लिक मीटिंग आर्गेनाइज की गई।

लेकिन जब वो चिलिंग सेंटर पर गया मैं तो आदिवासी माताएं-बहनें दूध भरने के लिए कतार में खड़ी थीं। तो दूध का अपना बर्तन नीचे रखकर के जब हम लोग गए और उसकी उद्धघाटन की विधि कर रहे थे तो मोबाइल से फोटो ले रही थीं। मैं हैरान था इतने दूर-दराज के क्षेत्र में मोबाइल से फोटो ले रही है तो मैं उनके पास गया। मैंने कहा ये फोटो लेकर क्या करोगी? तो बोली डाउनलोड करेंगे। ये शब्द सुनकर के मैं सचमुच में surprise हुआ था। कि ये ताकत है हमारे देश के गांव में। आदिवासी क्षेत्र की गरीब माताएं-बहनें जो दूध भरने आई थीं वो मोबाइल फोन से अपनी फोटो ले रही थीं और उनको ये मालुम था कि इसमें तो नहीं अब डाउनलोड करवा देंगे और डाउनलोड शब्द उनके मुह से निकलना ये उनकी समझ शक्ति और नई चीजों को स्वीकारने के स्वभाव का परिचय देती है। मैं कल गुजरात में था तो मैं अम्बा जी तीर्थ क्षेत्र पर जा रहा था तो रास्ते में छोटे-छोटे गांव थे। आधे से अधिक लोग ऐसे होंगे जो मोबाइल से वीडियो उतार रहे थे। आधे से अधिक, यानि हमारे देश की जो ये ताकत है इस ताकत को हम नजरअंदाज नहीं कर सकते और सिर्फ देश के इलीट क्लास के कुछ लोगों को ही हमारे गरीब भाई-बहनों पर यकीन नहीं था। आखिरकार हम ‘digital first’ के अप्रोच के साथ आगे बढ़ने में कामयाब हुए।

सरकार ने खुद आगे बढ़कर digital payments का रास्ता आसान बनाया। सरकार ने खुद ऐप के जरिए citizen-centric delivery service को बढ़ावा दिया हैं। बात चाहे किसानों की हो, या छोटे दुकानदारों की, हमने उन्हें ऐप के जरिए रोज की जरूरतें पूरी करने का रास्ता दिया। इसका नतीजा आज आप देख सकते हैं। आज टेक्नॉलजी सही मायने में democratic हो गई है, लोकतांत्रिक हो गई है। आपने भी देखा है कि ‘digital first’ की हमारी अप्रोच ने कोरोना वैश्विक महामारी के इस दौर में देश के लोगों की कितनी मदद की। दुनिया के बड़े-बड़े विकसित देश जब अपने नागरिकों की मदद करने में संघर्ष कर रहे थे। खजाने में रुपये पड़े थे, डॉलर थे, पाउंड थे, सब था, यूरो था और देने का तय भी किया था। लेकिन पहुंचाने का रास्ता नहीं था। भारत एक क्लिक पर हजारों करोड़ रुपए मेरे देश के नागरिकों के खाते में ट्रांसफर कर रहा था। ये डिजिटल इंडिया की ही ताकत थी कि जब दुनिया थमी हुई थी, तो भी हमारे बच्चे ऑनलाइन क्लासेस ले रहे थे, पढ़ाई कर रहे थे। अस्पतालों के सामने असाधारण चुनौती थी, लेकिन डॉक्टर्स अपने मरीजों का इलाज टेली-मेडिसिन के जरिए भी कर रहे थे। ऑफिसेस बंद थे, लेकिन ‘work from home’ चल रहा था। आज हमारे छोटे व्यापारी हों, छोटे उद्यमी हों, लोकल कलाकार हों, कारीगर हों, डिजिटल इंडिया ने सबको मंच दिया है, बाजार दिया है। आज आप किसी लोकल मार्केट में आप सब्जी मंडी में जाकर देखिए, रेहड़ी-पटरी वाला छोटा दुकानदार भी आपसे कहेगा, कैश नहीं है ‘UPI’ कर दीजिए। मैंने तो बीच में एक वीडियो देखा कोई भिक्षुक भी digitally payment लेता है। Transparency देखिए, ये बदलाव बताता है कि जब सुविधा सुलभ होती है तो सोच किस तरह सशक्त हो जाती है।

साथियों,

आज टेलीकॉम सेक्टर में जो क्रांति देश देख रहा है, वो इस बात का सबूत है कि अगर सरकार सही नीयत से काम करे, तो नागरिकों की नियत बदलने में देर नहीं लगती है। 2जी की नीयत और 5जी की नियत में यही फर्क है। देर आए दुरुस्त आए। भारत आज दुनिया के उन देशों में है जहां डेटा इतना सस्ता है। पहले 1GB डेटा की कीमत जहां 300 रुपए के करीब होती थीं, वहीं आज 1GB डेटा का खर्च केवल 10 रुपए तक आ गया है। आज भारत में महीने भर में एक व्यक्ति मोबाइल पर करीब-करीब एवरेज 14 GB डेटा इस्तेमाल कर रहा है। 2014 में इस 14 GB डेटा की कीमत होती थी करीब–करीब 4200 रुपए प्रति महीना। आज इतना ही डेटा वो सौ रुपए, या ज्यादा से ज्यादा डेढ़ सौ रुपए, सवा सौ या डेढ़ सौ रुपये में मिल जाता है। यानि आज गरीब के, मध्यम वर्ग के मोबाइल डेटा के करीब करीब 4 हजार रुपए हर महीने बच रहा है उसकी जेब में। हमारी सरकार के इतने सारे प्रयासों से भारत में डेटा की कीमत बहुत कम बनी हुई है। ये बात अलग है 4000 रुपया बचना कोई छोटी बात नहीं है हर महीना लेकिन जब मैं बता रहा हूं तब आपको ध्यान में आया क्योंकि हमने इसका हो-हल्ला नहीं किया, विज्ञापन नहीं दिए, झूठे-झूठे बड़े गपगोले नहीं चलाए, हमने फोकस किया कि देश के लोगों की सहूलियत बढ़े, Ease of Living बढ़े।

साथियों,

अक्सर ये कहा जाता है कि भारत पहली तीन औद्योगिक क्रांतियों का लाभ नहीं उठा पाया। लेकिन मेरा विश्वास है कि भारत ना सिर्फ चौथी औद्योगिक क्रांति का पूरा लाभ उठाएगा बल्कि उसका नेतृत्व भी करेगा और विद्वान लोग तो कहने भी लगे हैं कि भारत का दशक नहीं ये भारति की शताब्दी है। ये decade नहीं century है। भारत ने किस तरह 4G आने के बाद टेक्नॉलजी की दुनिया में ऊंचाई छलांग लगाई है, इसके हम सभी साक्षी हैं। भारत के नागरिकों को जब टेक्नॉलजी के समान अवसर मिल जाते हैं, तो दुनिया में उन्हें कोई पछाड़ नहीं सकता। इसलिए आज जब भारत में 5जी का लॉन्च हो रहा है, तो मैं बहुत विश्वास से भरा हुआ हूं दोस्तों। मैं दूर का देख पा रहा हूं और जो सपने हमारे दिल दिमाग मे चल रहे हैं। उसको अपनी आंखों के सामने हम साकार होते देखेंगे। हमारे बाद वाली पीढ़ी ये देखेगी ऐसा काम होने वाला नहीं है हम ही हमारे आखों के सामने देखने वाले हैं। ये एक सुखद संयोग है कि कुछ सप्ताह पहले ही भारत विश्व की 5वीं सबसे बड़ी अर्थव्यवस्था बना है। और इसलिए, ये अवसर है हमारे युवाओं के लिए, जो 5 जी टेक्नॉलजी की मदद से दुनिया भर का ध्यान खींचने वाले Innovations कर सकते हैं। ये अवसर है हमारे entrepreneurs के लिए जो 5 जी टेक्नॉलजी का इस्तेमाल करते हुए अपना विस्तार कर सकते हैं। ये अवसर है भारत के सामान्य मानवी के लिए जो इस टेक्नॉलजी का इस्तेमाल करते हुए अपनी skill को सुधार सकता है, up skill कर सकता है, Re-skill कर सकता है, अपने ideas को सच्चाई में बदल सकता है।

साथियों,

आज का ये ऐतिहासिक अवसर एक राष्ट्र के तौर पर, भारत के एक नागरिक के तौर पर हमारे लिए नई प्रेरणा लेकर आया है। क्यों ना हम इस 5जी टेक्नॉलजी का उपयोग करके भारत के विकास को अभूतपूर्व गति दें? क्यों ना हम इस 5 जी टेक्नॉलजी का इस्तेमाल करके अपनी अर्थव्यवस्था को बहुत तेजी से विस्तार दें? क्यों ना हम इस 5 जी टेक्नॉलजी का इस्तेमाल करके अपनी Productivity में रिकॉर्ड वृद्धि करें?

साथियों,

इन सवालों में हर भारतीय के लिए एक अवसर है, एक चुनौती है, एक सपना है और एक संकल्प भी है। मुझे पता है कि आज 5G की इस launching को जो वर्ग सबसे ज्यादा उत्साह से देख रहा है, वो मेरा युवा साथी है, मेरे देश की युवा पीढ़ी है। हमारी टेलीकॉम इंडस्ट्री के लिए भी कितने ही बड़े अवसर इंतज़ार कर रहे हैं, रोजगार के कितने ही नए अवसर बनने जा रहे हैं। मुझे विश्वास है, हमारी इंडस्ट्री, हमारे इंस्टीट्यूट्स और हमारे युवा मिलकर इस दिशा में निरंतर काम करेंगे और अभी जब मैं काफी समय पूरा जो exhibition लगा है तो समझने का प्रयास करता था। मैं कोई टेक्नोलॉजी का विद्यार्थी तो नहीं हूं। लेकिन समझने की कोशिश कर रहा था। ये देखकर के मुझे लगा है कि मैं सरकार में तो सूचना करने वाला हूं। कि हमारी सरकार के सभी विभाग, उसके सारे अधिकारी जरा देखें कहां कहां इसका उपयोग हो सकता है। ताकि सरकार की नीतियों में भी इसका असर नजर आना चाहिए। मैं देश के स्टूडेंट्स को भी चाहुंगा कि पांच दिन तक ये exhibition चलने वाला है। मैं खासकर के टेक्नोलॉजी से जुड़े स्टूडेंट्स से आग्रह करूंगा कि आप आइये, इसे देखिए, समझिए और कैसे दुनिया बदल रही है और आप एक बार देखेंगे तो अनेक चीजें नई आपके भी ध्यान में आएंगी। आप उसमे जोड़ सकते हैं और मैं इस टेलिकॉम सेक्टर के लोगों से भी कहना चाहुंगा मुझे खुशी होती थी, जिस-जिस स्टॉल में मैं गया हर कोई कहता था ये Indigenous है, आत्मनिर्भर है, ये हमने बनाया है।

सब बड़ गर्व से कहते थे। मुझे आनंद हुआ लेकिन मेरा दिमाग कुछ और चल रहा था मैं ये सोच रहा था जैसे कई प्रकार की कार आती हैं। हरेक की अपनी एक ब्रांड होती है। हरेक की अपनी विशेषता भी होती है। लेकिन उसमें जो स्पेयर पार्ट पहुंचाने वाले होते हैं। वो एमएसएमई सेक्टर के होते हैं और एक ही एमएसएमई के ये फैक्ट्री वाला छह प्रकार की गाड़ियों के स्पेयर पार्ट बनाता है, छोटे-मोटे जो भी सुधार करने करे वो देता है। मैं चाहता हूं कि आज हार्डवेयर भी आप लगा रहे ऐसा लगा मुझे आपकी बातों से। क्या एमएसएमई सेक्टर को इसके लिए जो हार्डवेयर की जरूरत है उसके छोटे-छोटे पूर्जे बनाने के लिए उनको काम दिया जाए। बहुत बड़ा इकोसिस्टम बनाया जाए। एक दम से मैं व्यापारी तो नहीं हूं। मुझे रुपयों पैसों से लेना देना नहीं है लेकिन मैं इतना समझता हूं कि कोस्ट एक दम कम हो जाएगी, एक दम कम हो जाएगी। हमारे एमएसएमई सेक्टर की ये ताकत है और वो सप्लाई आपको सिर्फ अपने यूनिकनेस के साथ उसमे सॉफ्टवेयर वगैरह जोड़कर के सर्विस देनी है और इसलिए मैं समझता हूं कि आप सब मिलकर के एक नया और मिलकर के करना पड़ेगा और तभी जाकर के इसकी कोस्ट हम नीचे ला सकते हैं। बहुत से काम हैं हम मिलकर के करते ही हैं।

तो मैं जरूर इस क्षेत्र के लोगों से भी कहुंगा। मैंने ये भी देखा है कि स्टार्टअप में जिन बच्चों ने काम किया है, जिन नौजवानों ने काम किया है। ज्यादातर इस क्षेत्र में उन्हीं स्टार्टप को ऑन कर करके उसको स्किलअप किया गया है। मैं स्टार्टअप वाले साथियों को भी कहता हूं। कि आपके लिए भी इस क्षेत्र में कितनी सेवाएं अधिकतम आप दे सकते हैं। कितनी user friendly व्यवस्थाओं को विकसित कर सकते हैं। आखिरकार इसका फायदा यही है। लेकिन एक और चीज मैं चाहुंगा। ये भी आपका जो एसोशिएसन है वो मिलकर के एक मूवमेंट चला सकता है क्या? Atleast हिन्दुस्तान के सभी district headquarter में ये 5जी जीवन में कैसे उपयोगी हो सकता है। उसके लोगों को एजुकेट करने वाले exhibition उसकी व्यवस्था हो सकती है क्या? मेरा अनुभव है छोटा सा उदाहरण बताता हूं। हमारे देश में 24 घंटे बिजली ये सपना था। मैं गुजरात में जब था तो मैंने एक योजना बनाई ज्योतिग्राम योजना और मेरा सपना था कि मैं गुजरात के हर घर में 24x7 बिजली दूंगा। अब मेरे सारे अफसर कहते थे शायद संभव ही नहीं है, ये तो हम कर ही नहीं सकते हैं। तो मैंने एक सिम्पल से सॉल्यूशन दिया था। मैंने कहा हम agriculture feeder अलग करते हैं, domestic feeder अलग करते हैं और फिर उस काम को किया और एक-एक जिले को पकड़कर के काम पूरा करता था। बाकि जगह पर चलता था लेकिन एक काम पूरा था।

फिर उस जिले का बड़ा समिट करता था। ढाई-तीन लाख लोग आते थे क्योंकि 24 घंटे बिजली मिलना एक बड़ा आनंद उत्सव का समय था वो 2003-04-05 का कालखंड था। लेकिन उसमें मैंने देखा, मैंने देशभर में बिजली से होने वाले काम, बिजली से चलने वाले यंत्र उनकी एक बहुत बड़ी प्रदर्शनी लगाई थी। जब लोगों ने, वरना लोगों को क्या लगता है। बिजली आई यानि रात को खाना खाने समय बिजली मिलेगी। बिजली आई मतलब टीवी देखने के लिए काम आ जायेगा। इसका कई प्रकार से उपयोग हो सकता है, उसका एजुकेशन भी जरूरी था। मैं ये 2003-04-05 की बात कर रहा हूं और जब वो सारा exhibition लगाया तो लोग टेलर भी सोचने लगा, मैं इलेक्ट्रिक मेरा equipment ,ऐसे लुंगा। कुम्हार भी सोचने लगा कि मैं ऐसे इलेक्ट्रिक व्हीकल लुंगा।

माताएं-बहनें भी लगी किचन में हमारे इलेक्ट्रिक वाले इतनी इतनी चीजें आ सकती हैं। यानि एक बहुत बड़ा मार्केट खड़ा हुआ और बिजली का multiple utility जीवन के सामान्य जीवन में 5जी भी उतना जल्दी लोगों को लगेगा हां यार अब तो वीडियो बहुत जल्दी डाउनलोड हो जाता है। रील देखना है तो बहुत इंतजार नही करता है। फोन कट नहीं होता है। साफ-सुथरी वीडियों कांन्फ्रेंस हो सकती है। फोन कॉल हो सकता है। इतने से सीमित नहीं है। ये जीवन को बदलने वाली व्यवस्था के रूप में आ रहा है और इसलिए मैं इस उद्योग जगत के मित्रों के association को कहुंगा कि आप स्कूल, कॉलेज, यूनिवर्सिटी और हिन्दुस्तान के हर डिस्ट्रिक में जाकर के इसके कितने पहलु हैं और आप देखिए कि वो लोग उसमें value addition करेंगे।

तो एक आपके लिए सेवा का काम भी हो जायेगा और मैं चाहुंगा कि इस टेक्नोलॉजी जीवन में सिर्फ बातचीत करने के लिए या कोई वीडियो देखने के लिए सीमित नहीं रहनी चाहिए। ये पूरी तरह एक क्रांति लाने के लिए उपयोग होना चाहिए और हमें 130 करोड़ दिशवासियों तक एक बार पहुंचना है बाद में तो वो पहुंचा देगा आप देख लीजिए, आपकों टाईम नहीं लगेगा। अभी मैंने ड्रोन पॉलिसी अभी-अभी लाया था। आज कई क्षेत्रों में मैं देख रहा हूं। वो ड्रोन से अपना दवाईयां छिड़काव का काम शुरू कर दिया उन्होंने। ड्रोन चलाना सिख लिया है और इसलिए मैं समझता हूं कि हमें इन व्यवस्थाओं की तरफ जाना चाहिए।

और साथियों,

आने वाले समय में देश निरंतर ऐसी technologies का नेतृत्व करेगा, जो भारत में जन्मेंगी, जो भारत को ग्लोबल लीडर बनाएँगी। इसी विश्वास के साथ, आप सभी को बहुत बहुत शुभकामनाएं! एक बार फिर सभी देशवासियों को शक्ति उपासना के पावन पर्व पर शक्ति का एक बहुत बड़ा माध्यम 5 जी लॉन्च होने के लिए बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

बहुत-बहुत धन्यवाद!