‘দিল কি বাত’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি ছত্তিশগড়ের নব রায়পুরের শ্রী সত্য সাই সঞ্জীবনী হাসপাতালে অনুষ্ঠিত ‘গিফ্ট অফ লাইফ’ অনুষ্ঠানে জন্মগত হৃদরোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ২৫০০ শিশুর সঙ্গে আলাপচারিতায় মগ্ন হন।
এক তরুণ কৃতি হকি খেলোয়াড় জানান, তিনি পাঁচটি পদক জিতেছেন এবং বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁর হৃদরোগ ধরা পড়ে। ছ মাস আগে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং এখন তিনি আবার হকি খেলছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ডাক্তার হয়ে শিশুদের চিকিৎসা করতে চান। প্রধানমন্ত্রী মজার ছলে জিজ্ঞেস করেন সে কি বড়দের চিকিৎসা করবে না? উত্তরে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে “হ্যাঁ” বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমবার দেখে তিনি মুগ্ধ।

আরও এক শিশু জানায়, তার অস্ত্রোপচার এক বছর আগে হয়েছে এবং সেও ডাক্তার হয়ে সকলের সেবা করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, চিকিৎসার সময় সে কেঁদেছিল কি না। শিশুটি জানায়, সে কাঁদেনি। এরপর সে একটি অনুপ্রেরণামূলক কবিতা পাঠ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা অর্জন করে।
একটি ছেলে জানায়, ২০১৪ সালে মাত্র ১৪ মাস বয়সে তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ। এমনকি, সে এখন নিয়মিত ক্রিকেট খেলে। প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কিনা, এবং উত্তরে সন্তুষ্ট হন। ছেলেটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধকে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেন।
আরও এক কিশোরের সঙ্গে কথাবার্তার সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি ও ইনজেকশন নেওয়ার সময় সে কেমন অনুভব করত জিজ্ঞেস করেন। সে জানায় তার ভয় করত না, আর সেই সাহসই তাকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, শিক্ষকরা তার সম্পর্কে কী বলেন। ছেলেটি জানায়, শিক্ষকরা তার মেধার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সততার প্রশংসা করেন।

সপ্তম শ্রেণির একটি মেয়ে জানায়, দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করতে সে বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চায়। তার বিশ্বাস, শিক্ষাই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জানে কার শতবর্ষ উদ্যাপন শুরু হয়েছে। তিনি জানান, এটি শ্রী সত্য সাই বাবার শতবর্ষ। প্রধানমন্ত্রী বলেন কীভাবে বাবা পুট্টাপার্থি ও আশপাশের এলাকায় পানীয় জলের সংকট দূর করতে প্রায় ৪০০টি গ্রামে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জল সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের বার্তা দেন এবং তাঁর প্রচারাভিযান “এক পেঢ় মা কে নাম” এর কথা বলেন। এই অভিযানে প্রত্যেককে নিজের মায়ের নামে একটি গাছ পোঁতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের অভীক নামের এক শিশু জানায়, দেশের সেবা করতে সে বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী কেন সে এই পথ বেছে নিতে চায় জানতে চাইলে অভীক জানায়, সে আমাদের সৈনিকদের মত দেশকে রক্ষা করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তার দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন।
এক কিশোরী জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে দেখা তার বহুদিনের স্বপ্ন, এবং সে টিভিতে তাঁকে বহুবার দেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় আনন্দ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যেকোনো ভালো কাজ সফল সম্পাদনের জন্য সুস্বাস্থ্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি শিশুদের যোগব্যায়াম ও নিয়মিত,পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকতে অনুরোধও জানান।


