প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, মার্কিন রাষ্ট্রপতি যোসেফ বাইডেন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনি অ্যালবানেস সহ কোয়াড জোটের নেতৃবৃন্দের শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। ২০২১-এর সেপ্টেম্বরে এই জোটের নেতৃবৃন্দের প্রথম ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর এটি চতুর্থ বৈঠক। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২১ এর সেপ্টেম্বরে এবং এবছরের মার্চে ভার্চ্যুয়ালি দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নেতৃবৃন্দ একটি মুক্ত ও সমন্বিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব, ভূখন্ডের অখন্ডতা এবং বিভিন্ন বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। তাঁরা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং ইউরোপে সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানের কথা আবারও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোন সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক স্তরে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে হবে। বৈঠকে নেতৃবৃন্দ কোয়াড জোটের অংশীদারিত্বের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কোয়াড নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায়, জঙ্গী সংগঠনগুলির মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। কোন গোষ্ঠীকে পণ্য, অর্থ বা সামরিক সাহায্য করলে সেই গোষ্ঠী যদি সেই সম্পদ নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করে তাহলে সেই সাহায্য বন্ধ করার উপর জোর দেওয়া হয়।
কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোয়াড গোষ্ঠীর বিভিন্ন উদ্যোগের পর্যালোচনার সময় নেতৃবৃন্দ ভারতের বায়োলজিক্যাল-ই সংস্থার উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ইইউএল খাতে তহবিল বরাদ্দ কার্যকর করার জন্য তারা আহ্বান জানান- এর ফলে টিকা সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। কোয়াড টিকা অংশীদারিত্ব কর্মসূচির আওতায় এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার মেড ইন ইন্ডিয়া টিকা উপহার হিসেবে পাঠানোয় নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মহামারী ব্যবস্থাপনায় একটি সর্বাঙ্গীন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের কাছে যাতে টিকা পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা এবং ওষুধ ও টিকা সরবরাহের বিভিন্ন সংকটের মোকাবিলা, জিন বিন্যাস সংক্রান্ত নজরদারি, ওষুধের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সহ স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।
কোয়াড ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাকশন অ্যান্ড মিটিগেশন প্যাকেজ (কিউ-সিএইচএএমপি)-এর মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে জাহাজ চলাচল, হাইড্রোজেন জ্বালানীর ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও বিপর্যয় প্রতিরোধী পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কপ২৬-এর অঙ্গীকার পূরণে এই অঞ্চলের দেশগুলিকে সাহায্যের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্য ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।
কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তার পরিকাঠামো শক্তিশালী করে তোলার জন্য চারটি দেশ তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। একাজে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিয়ে নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা এবং ভারতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যে জাতীয় স্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ক্ষয়-ক্ষতি আটকাতে নেতৃবৃন্দ কোয়াড পার্টনারশিপ অন হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাসিসট্যান্স অ্যান্ড ডিজাসটার রিলিফ (এইচএডিআর)-এর ঘোষণা করেন। তাঁরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ওপর নজরদারি, বিপর্যয়ের ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং সামুদ্রিক সম্পদের স্থিতিশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলের দেশগুলিকে পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের জন্য একটি কোয়াড কৃত্রিম উপগ্রহ পোর্টাল তৈরিতে সহমত পোষণ করেন। মহাকাশ ভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ ও সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য যেসব প্রযুক্তির প্রয়োজন সেগুলি সরবরাহে ভারত সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
কোয়াড নেতৃবৃন্দ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রযাত্রা সংক্রান্ত একটি সচেতনতা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এরফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষে এইচএআরডি-র পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার মতো সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে।
নেতৃবৃন্দ আশিয়ান জোটের ঐক্য এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তাদের সমর্থনের কথা আবারও জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কোয়াডের ইতিবাচক ও গঠনমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন, যার সুফল এই অঞ্চলে অনুভূত হবে। কোয়াড জোটের নেতৃবৃন্দ তাঁদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।
Prime Minister Shri Narendra Modi will inaugurate the 28th Conference of Speakers and Presiding Officers of the Commonwealth (CSPOC) on 15th January 2026 at 10:30 AM at the Central Hall of Samvidhan Sadan, Parliament House Complex, New Delhi. Prime Minister will also address the gathering on the occasion.
The Conference will be chaired by the Speaker of the Lok Sabha, Shri Om Birla and will be attended by 61 Speakers and Presiding Officers of 42 Commonwealth countries and 4 semi-autonomous parliaments from different parts of the world.
The Conference will deliberate on a wide range of contemporary parliamentary issues, including the role of Speakers and Presiding Officers in maintaining strong democratic institutions, the use of artificial intelligence in parliamentary functioning, the impact of social media on Members of Parliament, innovative strategies to enhance public understanding of Parliament and citizen participation beyond voting, among others.


