প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের ভাদোদরায় ৩৫,০০০ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
শ্রী মোদী বলেন, "আমি গুজরাটের আমার ভাই ও বোনেদের স্বাগত জানাই।"
মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের এই যৌথ উৎসবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাজীবীদের অনন্য সমাগমের প্রশংসা করেন। উন্নয়নের এমন এক ঐক্যবদ্ধ উদযাপনে গভীর আনন্দ প্রকাশ করে শ্রী মোদী বলেন, "এখানে সবকিছুই যেন একই সঙ্গে ঘটছে।"
দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্প জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ভাদোদরার নাগরিকদের আয়োজিত অসাধারণ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
লালকেল্লায় ঘোষিত 'সপ্তধারা'-র সংকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী 'গতি শক্তি' উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং ২৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ করিডোরের ঐতিহাসিক সমাপ্তি উদযাপন করেন। তিনি ভাদোদরাকে 'গতি শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়'-এর প্রকৃত শহর হিসেবে অভিহিত করেন, কারণ এই বিশাল প্রকল্পের চূড়ান্ত সংযোগগুলি এখানেই সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৪ সালের পরবর্তী সময়ে উন্নয়নে যে গতি এসেছে, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পূর্ব ও পশ্চিম 'ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর'-এর সফল বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন।
শ্রী মোদী বলেন, "আমরা এতে গতি এনেছি এবং ২৮০০ কিলোমিটার করিডরের কাজ সম্পন্ন করে তা প্রমাণ করেছি।"
দেশের এই নতুন জীবনরেখার রূপান্তরমূলক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে কীভাবে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পথ আলাদা করার ফলে প্রতিদিন ৪৩০টিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে এবং এর ফলে ট্রাকে করে পণ্য পরিবহনের ৩০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথ কমে মাত্র ১০-১২ ঘণ্টায় নেমে এসেছে, তার উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যে, এখন ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে আগের সময়ের অর্ধেকেরও কম সময় লাগে, এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ হ্রাস পায় এবং পরিবেশ রক্ষা হয়।
সম্প্রসারিত পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্কের ফলে কৃষিক্ষেত্রে যে ব্যাপক সুফল পাওয়া যাচ্ছে, তা তুলে ধরে কীভাবে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের কৃষকরা এখন দ্রুত পচনশীল পণ্য বড় বাজারগুলিতে পৌঁছে দিতে পারছেন, তা তুলে ধরেন শ্রী মোদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মরশুমি ফুল, শাকসবজি ও ফলের মতো পণ্যগুলি এখন সঠিক সময়েই ভোক্তা ও পাইকারি বাজারে পৌঁছচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নতুন নতুন রেল পরিষেবা চালুর ওপর জোর দেন, যা গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত আদিবাসী অঞ্চলগুলিতেও পৌঁছে যাচ্ছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "রেল এখন ভারতের এমন সব অঞ্চলে পৌঁছচ্ছে, যেখানে কয়েক দশক ধরে তা পৌঁছয়নি।"
সড়ক, মেট্রো, বিমানবন্দর ও গ্যাস পাইপলাইনের মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ২.৭৫ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার ঐতিহাসিক রেল বাজেটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, দরিদ্রদের জন্য গৃহনির্মাণ এবং বন্দর সম্প্রসারণের ফলে স্বাভাবিকভাবেই আশেপাশের এলাকায় নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসার বিকাশ ঘটছে। নিজের 'সপ্তধারা' ভাবনার অন্যতম স্তম্ভ 'উৎপাদন ক্ষেত্রে'র প্রসঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রশিল্প থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পর্যন্ত ভাদোদরার ১৫০ বছরের শিল্প-বিবর্তনের ঐতিহ্য এবং গত দুই দশকে এমএসএমই কেন্দ্র হিসেবে এর ব্যাপক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক পরিবহন বিমান উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে শহরটির অনন্য সাফল্যের কথা তিনি গর্বের সাথে স্বীকার করেন।
গত এক দশকে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জোরালো পরিসংখ্যান পেশ করেন। কীভাবে ভারত আধুনিক রেল কোচ, ওয়াগন এবং লোকোমোটিভ ইঞ্জিনের এক প্রধান আন্তর্জাতিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তার উল্লেখ করেন তিনি। শ্রী মোদী বলেন যে, ২০১৪ সাল থেকে দেশ সফলভাবে ৫০,০০০ আধুনিক কোচ তৈরি করেছে এবং রেল নেটওয়ার্কে প্রায় ২.৫ লক্ষ ওয়াগন যুক্ত করেছে। শ্রী মোদী বলেন, "ভারত এখন রেল কোচ, মেট্রো কোচ এবং রেল ইঞ্জিনের এক বড় উৎপাদক হয়ে উঠেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলের ক্ষেত্রে পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সোলার পিভি মডিউলের দেশীয় উৎপাদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এর ফলে আমদানির অত্যধিক খরচ কমেছে এবং ২০০ গিগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। তিনি 'কাদানা ড্যাম ভাসমান সৌর প্রকল্প' এবং 'পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা'-র সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। এই যোজনা সারা দেশে ৫৫ লক্ষ পরিবারকে, যার মধ্যে গুজরাটের ১১ লক্ষ পরিবারও অন্তর্ভুক্ত, বিদ্যুৎ উৎপাদকে পরিণত করেছে এবং প্রচুর স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

সমালোচকদের মিথ্যা প্রচারকে নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবশক্তির ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেন। এই যুবসমাজ সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ এবং পারমাণবিক ক্ষেত্রের ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছে।
ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, ইউরেনিয়াম, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল খনিজ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দেশকে বিশ্বশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই অপরিহার্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, প্রথাগত ডিগ্রি এখন আর যথেষ্ট নয়; তাই ক্রমাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে 'জাতীয় শিক্ষানীতি'-র ব্যাপক পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমূল ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

লালকেল্লা থেকে ঘোষিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, প্রধানমন্ত্রী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে কোচিং প্রদানের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন; এর লক্ষ্য হল, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির ওপর থেকে বিপুল আর্থিক বোঝা লাঘব করা। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রশাসন সরাসরি দায়িত্ব গ্রহণ করবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "সরকার নিজেই আমাদের তরুণদের কোচিংয়ের বিষয়টি দেখভাল করবে।"

কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন পরিচালনায় সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশাল জাতীয় অভিযানের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী; তিনি আইটি ক্ষেত্রের গণ্ডি পেরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এক মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, "আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম এআই-এর জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠুক।" শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।"
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
The Dedicated Freight Corridor is the lifeline of a rapidly developing India. pic.twitter.com/LsJ8XDP4UD
— PMO India (@PMOIndia) September 8, 2026
From chips to ships, India is now building a new manufacturing future. pic.twitter.com/Ywh6sYbRSn
— PMO India (@PMOIndia) September 8, 2026


