শ্রী আদি শঙ্করাচার্য সমাধির উদ্বোধন এবং শ্রী আদি শঙ্করাচার্যের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
কিছু অভিজ্ঞতা এতটাই অসাধারণ এবং অপার যে সেগুলি শব্দে প্রকাশ করা যায় না, বাবা কেদারনাথ ধামে এসে আমি এটাই অনুভব করি
আদি শঙ্করাচার্যের জীবন এতটাই অসাধারণ ছিল যে, তিনি সারা জীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন
ভারতীয় দর্শন মানব কল্যাণের কথা বলে এবং এক সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে জীবনকে দেখে; এই শাশ্বত দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতেই আদি শঙ্করাচার্য কাজ করেছেন
আমাদের আস্থার সংস্কৃতির ঐতিহ্য কেন্দ্রগুলিকে ঠিক যেভাবে দেখা উচিৎ, সেই মূল্যবোধ ও যোগ্য সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়
ভগবান শ্রীরামের এক চমৎকার মন্দির অযোধ্যায় গড়ে উঠছে, অযোধ্যা তার গৌরব ফিরে পাচ্ছে
আজ ভারত নিজের জন্যই কঠিন লক্ষ্য ও সময়সীমা স্থির করে; আজ ভারতের কাছে এই সময়সীমা ও লক্ষ্য পূরণে দ্বিধাবোধের মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
উত্তরাখন্ডের মানুষের পূর্ণ আস্থা ও অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে রাজ্য সরকার উত্তরাখন্ডের উন্নয়নে ‘মহাযজ্ঞে’ যুক্ত রয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কেদারনাথে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও সেগুলি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। তিনি সেখানে আদি শঙ্করাচার্য সমাধি উদ্বোধনের পাশাপাশি, শ্রী আদি শঙ্করাচার্যের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন। চালু পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজকর্মের অগ্রগতি তিনি খতিয়ে দেখেন। কেদারনাথ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী পূজার্চনায় অংশ নেন। কেদারধামে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় উপাসনালয় সহ ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ এবং ৪টি ধামে পূজার্চনার আয়োজন করা হয়েছে। এই পূজার্চনাগুলি সবই মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

এই উপলক্ষে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ভারতের মহান আধ্যাত্মিক ঋষিদের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে কেদারনাথ ধামে আসতে পেরে তাঁর অপার খুশি প্রকাশ করেন। নওশেরা সেক্টরে গতকাল সেনা জওয়ানদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীপাবলীতে তিনি সেখানে ১৩০ কোটি ভারতীয়র শুভেচ্ছা নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ গোবর্ধন পুজোর দিন আমি সেনানীদের আরেক পবিত্র ভূমিতে উপস্থিত হয়েছি। বাবা কেদারের পবিত্র মাটিতে আমি আজ উপস্থিত হয়েছি। রামচরিতমানস থেকে একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন – কিছু অনুভূতি এতই অতিপ্রাকৃতিক ও অপার যে, তা শব্দে প্রকাশ করা যায় না। বাবা কেদারের আশ্রয়ে এসে তিনি ঠিক এটাই অনুভব করছেন বলে শ্রী মোদী অভিমত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়-স্থল, সহায়তা কেন্দ্রের মতো গড়ে ওঠা নতুন সুযোগ-সুবিধাগুলি পূজারী ও পুণ্যার্থীদের উপকারে আসবে এবং পুণ্য স্থানের পবিত্র অভিজ্ঞতা লাভে পুরোপুরি আত্মমগ্ন হতে সাহায্য করবে। কেদারনাথে ২০১৩’র বন্যার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা অভাবনীয়। তিনি আরও বলেন, যাঁরা এখানে আসেন, তাঁরা একথা নিশ্চয়ই ভাবেন যে, আমাদের কেদারধামে কয়েক বছর আগে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সেই কেদার কি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? কিন্তু, আমার অন্তরাত্মা সবসময়েই একথা বলেছে যে, এই কেদারধাম আগেরচেয়েও বেশি গৌরব নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভগবান কেদারের কৃপা এবং আদি শঙ্করাচার্যের অনুপ্রেরণা তাঁর মনে এই বিশ্বাস যুগিয়েছে যে, কঠিন সময়ে তিনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন, যেমন তিনি করেছিলেন, ভূজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা তাঁর কাছে আশীর্বাদ যে তিনি সেই স্থানের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন, যা তাঁকে জীবনের গোড়ায় প্রতিপালন করেছিল। কেদারধামে উন্নয়নমূলক কাজকর্মে নিরলস প্রয়াস গ্রহণের জন্য শ্রী মোদী সমস্ত কর্মী, পূজারী, পূজারীদের রাওয়াল পরিবার, আধিকারিক ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন। প্রাচীণ এই স্থানের চিরন্তন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ও যাবতীয় উন্নয়নমূলক প্রয়াস সবই ভগবান শঙ্করের অপার কৃপার প্রতিফলন।

আদি শঙ্করাচার্য সম্পর্কে শ্রী মোদী বলেন, সংস্কৃতে শঙ্কর শব্দের অর্থ হ’ল – একজন ব্যক্তি, যিনি অন্যের কল্যাণ করেন। স্বয়ম আচার্য শঙ্কর এই আপ্তবাক্য প্রমাণ করেছেন। তাঁর অনন্য সাধারণ জীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করে বলেন, একটা সময় ছিল, যখন আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মকে এক প্রথামাফিক সেকেলে পন্থার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ভারতীয় দর্শন মানবিক মূল্যবোধের কথা বলে এবং সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে জীবনকে দেখে। জীবনের এই সারকথা সম্পর্কে আদি শঙ্করাচার্য সমজাকে সচেতন করে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আজ আমাদের আস্থার সঙ্গে জড়িত সংস্কৃতির ঐতিহ্য কেন্দ্রগুলিকে ঠিক যেভাবে দেখা উচিৎ, সেই মূল্যবোধ ও যোগ্য সম্মানের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অযোধ্যায় ভগবান রামের এক চমৎকার মন্দির গড়ে তোলা হচ্ছে। অযোধ্যা তার কৃতগৌরব ফিরে পাচ্ছে। মাত্র দু’দিন আগেই সারা বিশ্ব অযোধ্যায় অতুলনীয় দীপোৎসব প্রত্যক্ষ করেছে। আজ আমরা কল্পনা করতে পারি যে, ভারতের প্রাচীণ ঐতিহ্যের রূপ কেমন হতে পারে। শ্রী মোদী বলেন, আজকের ভারত তাঁর ঐতিহ্য সম্পর্কে আস্থাবান। আজ ভারত তার নিজের জন্য এক কঠিন লক্ষ্য ও সময়সীমা স্থির করেছে। আজ ভারতের কাছে এই সময়সীমা ও লক্ষ্য পূরণে দ্বিধাবোধের মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ভারতের গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ও পবিত্র স্থানগুলি সাধারণ মানুষকে ঘুরে দেখার কথা বলেন। তিনি বলেন, এভাবেই ভারতের আত্মার সঙ্গে পরিচিত হওয়া সম্ভব।

শ্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক উত্তরাখন্ডের হয়ে উঠতে চলেছে। চারধাম মহাসড়কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে চারধাম সড়ক প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। কেবল তারের মাধ্যমে পুণ্যার্থীরা যাতে কেদারনাথে আসতে পারেন, সেই প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। এখানে সামনেই রয়েছে হেমকুন্ড সাহিবজী। হেমকুন্ড সাহিব দর্শনের জন্য রোপওয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। উত্তরাখন্ডের মানুষের সক্ষমতায় পূর্ণ আস্থা এবং তাঁদের অপার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে রাজ্য সরকার উত্তরাখন্ডের উন্নয়নে মহাযজ্ঞে যুক্ত রয়েছে।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উত্তরাখন্ড যে অনুশাসন দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেন। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে আজ উত্তরাখন্ড ও রাজ্যবাসী প্রথম ডোজ টিকাকরণের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ করেছে। আর এটাই উত্তরাখন্ডের সক্ষমতা ও শক্তির পরিচয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উত্তরাখন্ড অনেক উচ্চতায় অবস্থান করছে। আমার উত্তরাখন্ড অগ্রগতির নিরিখে এই উচ্চতাকেও ছাপিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।

শ্রী আদি শঙ্করাচার্যের সমাধি ২০১৩’র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এই পুনর্নির্মাণ কাজে নজরদারি ও অগ্রগতির পর্যালোচনা করেছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী সরস্বতী আস্থাপথ বরাবর চালু প্রকল্পগুলির কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন ও অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন। ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – সরস্বতী রিটেনিং ওয়াল আস্থাপথ ও ঘাট, মন্দাকিনী রিটেনিং ওয়াল আস্থাপথ, তীর্থ পুরোহিত হাউস এবং মন্দাকিনী নদীতে গড়ুর চট্টি সেতু। 

এই প্রকল্প খাতে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শ্রী মোদী আজ ১৮০ কোটি টাকা খরচে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রয়েছে – সঙ্গম ঘাটের পুনরুন্নয়ন, প্রাথমিক শুশ্রুষা ও পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র, প্রশাসনিক কার্যালয় ও হাসপাতাল, ২টি অতিথি নিবাস, পুলিশ স্টেশন, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, মন্দাকিনী অশ্বপথ কিউই ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেনশেল্টার এবং সরস্বতী সিভিক অ্যামেনিটি বিল্ডিং।

 

 



সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India remains among best-performing major economies: S&P Global

Media Coverage

India remains among best-performing major economies: S&P Global
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 19 এপ্রিল 2026
April 19, 2026

Building a Stronger Bharat: Infrastructure Revolution, Economic Resilience & Inclusive Welfare Under PM Modi