রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা ইবন আল হুসেন-এর আমন্ত্রণে সাধারণতন্ত্রের দেশ ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫-১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ হাশেমি রাজতন্ত্রের দেশ জর্ডন সফর করেন।
দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে দুই দেশ।
পারস্পরিক আস্থা এবং শুভেচ্ছার ওপর আধারিত দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত।
দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে সুদৃঢ় ইতিবাচক সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। নিউ ইয়র্ক (সেপ্টেম্বর ২০১৯), রিয়াধ (অক্টোবর ২০১৯), দুবাই (ডিসেম্বর ২০২৩) এবং ইতালি (জুন ২০২৪)-তে তাঁদের আগের বৈঠকগুলির প্রসঙ্গ উঠে আসে আলোচনায়।
রাজনৈতিক সম্পর্ক
আম্মান-এ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক এবং পরিবর্ধিত পরিসরের বৈঠকে ভারত ও জর্ডনের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের যাত্রায় একযোগে পথ চলার কথা বলেন দুজনেই।
নিয়মিত রাজনৈতিক বার্তালাপ এবং বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয় বলে উভয় নেতা মনে করেন। ২০২৫-এর ২৯ এপ্রিল আম্মান-এ ভারত ও জর্ডনের বিদেশ মন্ত্রকের রাজনৈতিক আলাপচারিতার চতুর্থ পর্বের বৈঠকের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে তাঁদের অভিমত।
অত্যন্ত ইতিবাচক এই সহযোগিতাকে আরও প্রসারিত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা
২০২৪-এ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার। ভারত জর্ডনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৬-এর প্রথমার্ধে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাণিজ্য এবং অর্থনীতি সংক্রান্ত যৌথ কমিটির ১১তম বৈঠক ডাকায় দুই নেতা একমত হয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফাঁকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ জর্ডন-ভারত বাণিজ্য ফোরামের বৈঠক ডাকার বিষয়টি ইতিবাচক বলে দুই নেতার অভিমত। সেখানে দু-দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন।
শুল্ক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দুই নেতা মনে করেন। এই পরিসরে স্বাক্ষরিত চুক্তির পূর্ণ রূপায়ণ চান তাঁরা। ওই চুক্তি মোতাবেক শুল্ক আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং এ সংক্রান্ত বেনিয়ম রুখে দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া পণ্যের শুল্ক সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সরল করাও ওই চুক্তির মধ্যে পড়ে।
জর্ডনের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ওই দেশে রয়েছে উন্নত লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনা। সেকথা মাথায় রেখে দু পক্ষই পরিবহণ ও লজিস্টিক্স সংযোগ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে।
প্রযুক্তি এবং শিক্ষা
ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তিতে কাজ করবে দুই দেশ।
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়, টেলি-মেডিসিন পরিষেবা প্রভৃতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ধারাবাহিক উন্নয়নী লক্ষ্যসমূহ অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে নতুন দিল্লি ও আম্মান।
কৃষি
সার সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় দু পক্ষ। বিশেষত ফসফেট সমৃদ্ধ সারের প্রসঙ্গ উঠে আসে আলোচনায়।
জল সহযোগিতা
জল সাশ্রয়কারী কৃষি প্রযুক্তি, দক্ষতায়ন, চাষের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সীমিত রাখা ইত্যাদি নিয়েও মতবিনিময় হয়। জলাভূমি সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাও অগ্রাধিকার পায় আলোচনায়।
পরিবেশ বান্ধব বিকাশ
ধারাবাহিক বিকাশের পথে হাঁটতে চায় দুই দেশ। এই প্রেক্ষিতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া অত্যন্ত আনন্দের বলে দু পক্ষেরই অভিমত।
সাংস্কৃতিক সহযোগিতা
সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত বোঝাপড়াকে ইতিবাচক বলে মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং জর্ডনের রাজা। জর্ডনের পেট্রা এবং ভারতের ইলোরার মতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে বিশেষ আদান-প্রদান সংক্রান্ত চুক্তিকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।
সংযোগ
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও প্রসারের লক্ষ্যে দু-পক্ষই সরাসরি সংযোগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চায়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন ক্ষেত্রের প্রসারে এই বিষয়টি আবশ্যিক বলে নতুন দিল্লি ও জর্ডন মনে করে।
বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা
আন্তর্জাতিক সৌরজোট, বিশ্ব জৈব জ্বালানি জোট এবং বিপর্যয় প্রতিরোধী পরিকাঠামোর মতো বিষয়গুলিতে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জর্ডনের রাজা মনে করেন।
উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য জর্ডনের রাজাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


