শেয়ার
 
Comments
বারানসীর সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ এখন প্রত্যক্ষ করছে যে, কি করে পরবর্তী প্রজন্মের পরিকাঠামো যোগাযোগের মাধ্যমকে বদলে দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আন্তঃজলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করবে। সড়কপথে ভিড় কমাতে সহায়ক হবে, জ্বালানি খরচ কমাবে এবং যানবাহন থেকে দূষণ ছড়ায়, তার পরিমাণও কম করবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আধুনিক পরিকাঠামো ব্যবস্থা গত চার বছরে উন্নয়নে দ্রুত গতি এনেছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
দূরবর্তী এলাকায় বিমানবন্দর, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নানা সড়ক কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের পরিচয় বহন করছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী

হর হর মহাদেব!!!

 

আস্থা ও পবিত্র সূর্য উপাসনার মহান পর্ব ছট উপলক্ষে সমস্ত মা ও বোনেদের অভিনন্দন জানাই। চারদিনের এই উৎসব আপনাদের প্রত্যেকের পরিবারকে সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে তুলুক, এই কামনা করি। আপনারা ইতিমধ্যেই দীপাবলি, ভাইফোঁটা ও গোবর্ধন পূজা পালন করেছেন। এই সমস্ত উৎসবের জন্য আপনাদের সকলকে অভিনন্দন।

 

মঞ্চে উপস্থিত আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীমণ্ডলের সহযোগী নীতিন গড়করি মহোদয়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজি, উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যজি, উত্তরপ্রদেশে সরকারের মন্ত্রী সুরেশ খান্নাজি, সাংসদ ডঃ মহেন্দ্রনাথ পান্ডেজি এবং রামচরিত নিশাদজি, এখানে উপস্থিত অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং আমার প্রিয় বারাণসীর ভাই ও বোনেরা।

 

বন্ধুগণ,

 

দশোহরা এবং দীপাবলি উৎসবের পর আজ আরেকবার আমার আপনাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হল। এবার দীপাবলিতে আমার বাবা কেদারনাথকে দর্শনের সৌভাগ্য হয়েছে। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই বাবা বিশ্বনাথের নগরীতে আপনাদের আশীর্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য হল। সেদিন উত্তরাখণ্ডে মা ভাগীরথীর পূজা করে ধন্য হয়েছি, আর আজ এখানে একটু আগেই মা গঙ্গার দর্শন লাভের সৌভাগ্য হয়েছে।

 

আজ মহামতী মদনমোহন মালব্যজির মৃত্যুবার্ষিকী। আমি তাঁর মহান কর্মজীবন এবং তপস্যাকে প্রণাম জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

কাশীর জন্য, পূর্ব উত্তরপ্রদেশের জন্য, পূর্ব ভারত তথা সমগ্র দেশের জন্য আজকের এই দিন অত্যন্ত ঐতিহাসিক।

 

·         আজ বারাণসী তথা সমগ্র দেশ, উন্নয়নের এমন একটি পর্যায়ের সাক্ষী, যা কয়েক দশক আগেই হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু হয়নি।

 

·         আজ বারাণসী তথা সমগ্র দেশ, উন্নয়নের এমন একটি পর্যায়ের সাক্ষী, কোন কাজের সঙ্কল্প থেকে বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে পারলে তার চিত্র কতটা উজ্জ্বল এবং গৌরবময় হয়ে উঠতে পারে।

 

·         আজ বারাণসী তথা সমগ্র দেশ, উন্নয়নের এমন একটি পর্যায়ের সাক্ষী, যা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে, দেশের ভবিষ্যৎ পরিবহণ ব্যবস্থা কেমন হবে তার কায়াকল্প নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

দেশের প্রধান সেবক হওয়ার পাশাপাশি, বারাণসীর সাংসদ হিসেবে আমার জন্য আজকের দিনটি দ্বিগুণ খুশির। এই পবিত্র ভূমি থেকে প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তো রয়েছেই, কিন্তু আজ জল, স্থল, আকাশ – তিন পথেই এই শহরকে যুক্ত করার নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার হল।

 

বন্ধুগণ,

 

একটু আগেই আমি নদীপথে দেশের প্রথম কন্টেনার ভেসেলকে স্বাগত জানিয়েছি। এই স্বাগত অনুষ্ঠানেই ২০০ কোটি টাকা মূল্যেরও বেশি বিনিয়োগে তৈরি মাল্টি-মোডাল টার্মিনালেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন হতে কয়েক দশক লেগে গেছে। কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত, দেশের সামনে যে স্বপ্নকে মেলে ধরেছিলাম, তা আজ কাশীর মাটিতে সাকার হয়েছে। এই কন্টেনার ভেসেল নদীপথে আসা মানে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ তথা সমগ্র পূর্ব ভারতের সঙ্গে এখন বঙ্গোপসাগরের সংযোগসাধন সম্পন্ন হল।

ভাই ও বোনেরা,

 

আজ এখানে বাবতপুর বিমানবন্দর থেকে শহরে আসার প্রশস্ত সড়কপথ, রিং রোড, কাশী শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার আরও কয়েকটি প্রকল্প, মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার বিছানোর প্রকল্প, মা গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কর্মসূচির সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন কিংবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি এই প্রকল্পগুলি বারাণসীর চেহারা বদলে দেবে এবং আরও আধুনিক করে তুলবে। এই সকল প্রকল্পের জন্য আমি সমগ্র কাশীবাসী তথা পূর্ব উত্তরপ্রদেশবাসীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

স্বাধীনতার পর, এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকার নদীপথে বাণিজ্য বিস্তারের জন্য এত ব্যাপক স্তরে সাফল্য পেতে সক্ষম হয়েছে। আপনারা সাক্ষী রয়েছেন, চার বছর আগে যখন আমি কাশীবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে বারাণসীকে হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে জলপথে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তখন এই নিয়ে কত ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়েছিল, কত নেতিবাচক কথাবার্তা বলা হয়েছিল। কিন্তু একটু আগেই কলকাতা থেকে যে জাহাজটি এখানে এল, সেটি সমস্ত সমালোচকদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের জবাব দিয়ে দিল।

 

নদীপথে এতদূর কন্টেনার পৌঁছনো যা দেশে এই প্রথম, নিছকই পণ্য পরিবহণের একটি প্রক্রিয়ার অংশ নয়, এটি নতুন ভারতের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জলজ্যান্ত উদাহরণ। এটি সেই ভাবনার প্রতীক, যেখানে দেশের সম্পদ এবং সামর্থ্যকে ভরসা করা হয়।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

আজ বারাণসীতে যে কন্টেনার ভেসেল এসেছে, এতে কলকাতা থেকে শিল্প-সরঞ্জাম এসেছে। আর এখান থেকে এই জাহাজ সার নিয়ে ফিরে যাবে। অর্থাৎ, উত্তরপ্রদেশের সার কারখানা সহ আরও যে কারখানা রয়েছে, সেগুলির উৎপাদিত পণ্য এখন সরাসরি পূর্ব ভারতের প্রধান নদী ও সমুদ্র বন্দরে পৌঁছে যাবে।

 

এটা একটা উদাহরণ মাত্র। সেদিন দূরে নয়, যখন বারাণসী এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি, শস্য এবং তাঁতশিল্পীদের উৎপাদিত বস্ত্র এই জলপথে পরিবাহিত হবে। আপনারা ভাবুন, এই অঞ্চলের কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য কত বড় পথ খুলে গেছে। নিজেদের শিল্প ও কৃষির জন্য কাঁচামাল আমদানি এবং এতে মূল্য সংযোজনের পর বাজারজাত করতে কিংবা রপ্তানি করতে এই জলপথ অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে।

 

আপনাদের এই ভালোবাসা এবং উৎসাহের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমাকে বলতে দিন, সবাই শুনতে চাইছেন। আপনাদের এই প্রাণশক্তি ১৯ তারিখ অবধি একটু সঞ্চিত রাখুন। প্রয়োজন হবে। আচ্ছা আমি কি আবার বলব? আপনারা শান্ত হয়ে শুনুন। শুধু মোদী মোদী করবেন না। আমি আপনাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। নবীন প্রজন্মের মানুষজন এত ভালোবাসা, এত উৎসাহ নিয়ে এসেছেন, তাঁরা বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে চাইছেন, বুঝতে চাইছেন। সেজন্য এই পরিবর্তন কিভাবে এসেছে, কিভাবে আসবে, সেটা আমি আপনাদের বিস্তারিত বোঝানোর চেষ্টা করছি।

 

আগামীদিনে যখন বারাণসীতে নির্মিত মাল্টি-মোডাল টার্মিনাল থেকে রো-রো পরিষেবা শুরু হবে, তখন আপনাদের নদীপথে অনেক দূরত্ব সহজে অতিক্রম করার নতুন বিকল্প পাবেন। বড় বড় ট্যাঙ্কার-ট্রাক, বাস, কার সোজা জাহাজে উঠিয়ে সুলভে নদীপথে দূরবর্তী কোন শহরে নিয়ে যেতে পারবেন।

 

বন্ধুগণ, আজ এই জাহাজে যত পণ্য এসেছে সেগুলিকে সড়কপথে আনতে ১৬টা ট্রাক লাগতো। শুধু তাই নয়, জলপথে আনার ফলে কন্টেনারপ্রতি প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তার মানে, এই জাহাজে আনা পণ্যবাবদ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে অনেক সময় ও পয়সা বাঁচবে, সড়কপথে যানজট কমবে, জ্বালানি খরচ বাঁচবে, গাড়িগুলি থেকে নির্গত প্রদুষণ থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

 

বন্ধুগণ,

 

একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশের নদীগুলিতেও বড় বড় জাহাজ যাতায়াত করত। কিন্তু স্বাধীনতার পর এত বছর ধরে এই জলপথকে চালু রাখা কিংবা আরও শক্তিশালী করার দিকে লক্ষ্য রাখার স্থানে একে উপেক্ষা করা হয়েছে। দেশের লোকসান করা হয়েছে। আপনারা ভাবুন, দেশের সামর্থ্য, আমাদের নদীগুলির পরিবহণ ক্ষমতা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলি কতবড় অন্যায় করেছে।

 

দেশের সামর্থ্যের প্রতি এই অন্যায় সমাপ্ত করার কাজ আমাদের সরকার করছে। এখন দেশে ১০০টিরও বেশি জাতীয় জলপথ চালু করার কাজ চলছে। বারাণসী-হলদিয়া জলপথ এর অন্যতম। পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে বারাণসী থেকে হলদিয়ার পথে বক্সার, সাহেবগঞ্জ ও ফারাক্কায় নির্মীয়মান নদীবন্দরগুলিতে অনেক আধুনিক পরিষেবা গড়ে তোলা হচ্ছে। এই জলপথ দ্বারা শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ, অর্থাৎ, পূর্ব ভারতের একটি বড় অংশ লাভবান হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, এই জলপথে পণ্য পরিবহণ ছাড়াও আমাদের পর্যটন পূর্ব ভারতের তীর্থস্থানগুলির সঙ্গে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বারাণসী সহ পূর্ব উত্তরপ্রদেশ তথা পূর্ব ভারতের অনেক অঞ্চলের সঙ্গে আগামীদিনে ক্রুজ পর্যটনও চালু করা হবে। আর এই সবকিছু কাশীর সংস্কৃতি এবং সভ্যতার অনুরূপ হবে। কাশীর ঐতিহ্যের আধুনিক স্বরূপ উদঘাটনের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে।

 

ভাই ও বোনেরা, আধুনিক পরিষেবার পাশাপাশি, প্রাচীন যাতায়াত ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং অভিযানের সঙ্গমস্থল হয়ে উঠবে

 

বন্ধুগণ, বারাণসী, ভদোহি ও মির্জাপুর পারম্পরিকভাবেই কার্পেট শিল্পকেন্দ্র। এখন এগুলি দেশের বস্ত্র রপ্তানির গ্লোবাল হাব হয়ে উঠছে। গত মাসে প্রথমবার দীনদয়াল হস্তকলা সঙ্কুলে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া কার্পেট এক্সপো’র আয়োজন করা হয়েছিল। আমি দিল্লী থেকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই এক্সপো’র উদ্বোধন করেছিলাম। বারাণসী থেকে কলকাতা পর্যন্ত জাতীয় জলপথ উদ্বোধনের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সকলে অত্যন্ত উপকৃত হবেন, তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

 

বন্ধুগণ, সুগমতার সঙ্গে পরিষেবার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে এবং পরিষেবা কখনও গৌরবের কারণও হয়ে ওঠে। বাবতপুর বিমানবন্দরের সঙ্গে শহরের বিশ্বমানের সড়ক নির্মাণ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমাকে বলা হয়েছে যে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষে এখানে সেল্‌ফি তুলতে আসছেন। সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন বেনারসের ছবি, এই পথটির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন উৎসবের সময়। যাঁরা উৎসব উপলক্ষে বিমানে এসে বাবতপুর বিমানবন্দর হয়ে শহরে এসেছেন, তাঁদের বুক নিশ্চিতভাবেই গর্বে ভরে গেছে। আমাকে বলা হয়েছে যে যাঁরা কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরে এসে নিজের শহরটাকে চিনতে পারছেন না। আগের সেই হরহুয়া এবং তরনা-শিবপুরের পথে যেতে যেতে তাঁদের বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আগে এই পথে শহরে পৌঁছতে কয়েক ঘন্টা লাগত। খানা-খন্দে ভরা এই সড়ক আপনাদের কাঁদিয়ে দিত। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।

 

বন্ধুগণ, ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নির্মিত এই বাবতপুর বিমানবন্দর থেকে শহরের মধ্যে চারলেনের প্রশস্ত পথটি তার সৌন্দর্যের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এটি উদ্বোধনের ফলে, কাশীবাসী জনগণ এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সময় যেমন বাঁচবে, জৌনপুর, সুলতানপুর এবং লক্ষ্ণৌ-এর যাত্রাপথও সুগম হবে। শহরের রিং রোডের প্রথম পর্যায়ও কাশীবাসীকে সমর্পণ করা হয়েছে। প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই সড়কপথে গোরক্ষপুর, লক্ষ্ণৌ, আজমগড় এবং অযোধ্যায় যাতায়াতকারী যানবাহনগুলিকে আর শহরের ভিড়ে ঢুকতে হবে না।

 

বন্ধুগণ, এই দুটি সড়ক প্রকল্প বেনারস শহরে কয়েক দশক পুরনো দাবি ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই এই দুটি প্রকল্প দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার কাজ শুরু করেছি। আপনাদের সহযোগিতায় এই দুটি প্রকল্পই সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন রিং রোডের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সেটিও শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে।

 

এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে একদিকে যেমন বেনারস শহরের যানজটের সমস্যা লাঘব হবে, তেমনই দূষণও কমবে। আপনাদের সময়ও বাঁচবে। এর ফলে পর্যটকদের সারনাথ ভ্রমণ আরও সহজ হবে। রামনগরে যে হেলিপোর্ট গড়ে উঠবে, সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একটু আগেই সম্পূর্ণ হল। এর মাধ্যমে এখানকার পর্যটন অনেক লাভবান হবে।

 

বন্ধুগণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হলে পর্যটন ক্ষেত্র আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশের প্রতি বিশ্বাস, ব্যবস্থার প্রতি আস্থা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আজই বারাণসীতে যতগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস হয়েছে, সেগুলির মাধ্যমেও এখানকার নবীন প্রজন্মের মানুষের কর্মসংস্থানের অনেক নতুন পথ খুলেছে।

 

ভাই ও বোনেরা, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলির উন্নয়নকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এখন দেশ শুধু এবং শুধুউন্নয়নের রাজনীতি চায়। জনগণ নিজেদের সিদ্ধান্ত উন্নয়ন দেখে নেয়, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি দেখে নয়

 

বিগত চার বছরে কত দ্রুত আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দুর্গম স্থানগুলিতে নতুন নতুন বিমানবন্দর, দেশের বিভিন্ন জনজাতি অধ্যুষিত ক্ষেত্র, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে প্রথমবার রেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক এবং উন্নতমানের জাতীয় সড়ক ও  এক্সপ্রেসওয়ের জাল আমাদের সরকারের পরিচিতি হয়ে উঠেছে।

 

বন্ধুগণ, আমরা শুধুই সম্পদ উন্নয়নে জোর দিইনি, সাধারণ মানুষের ছোট ছোট প্রয়োজন যেমন, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। গ্রামীণ পরিচ্ছন্নতার যে মান ২০১৪ সালে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ৪০ শতাংশেরও কম ছিল, সেটি এখন ৯৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার ফলে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিও কঠিন অসুখের ক্ষেত্রে উন্নতমানের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে পারছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষেরও বেশি দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা হয়েছে। এখনও এই প্রকল্পের ৪০ দিন পার হয়নি।

 

বন্ধুগণ, আমরা শুধুই মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবিনি। তাঁদের জীবনধারা, আমাদের নদীগুলিকে সুস্থ রাখার সঙ্কল্প গ্রহণ করেছি। এই ভাবনা নিয়ে মা গঙ্গার সাফাই অভিযান ‘নমামি গঙ্গে’ আজ এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে।

গঙ্গা নদীর দূষিত জল পরিশোধনের জন্য ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে চারটি প্রকল্প উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করার সৌভাগ্য আমার একটু আগেই হয়েছে। দীনাপুরে পয়ঃপ্রণালী পরিশোধন সংক্রান্ত তিনটি প্ল্যান্ট আগামী অনেক বছর ধরে শহরের বর্জ্য নিষ্কাশন থেকে মা গঙ্গাকে রক্ষা করবে। তেমনই রামনগরের প্ল্যান্টটি দ্রুত মা গঙ্গাকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়ে যাবে।

 

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার জনগণের টাকা গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে না। তার জায়গায় প্রদূষণের ফলে গঙ্গার বুকে যে নোংরা জল প্রবাহিত হচ্ছে, তাকে পরিষ্কার করার জন্য অর্থ ব্যয় করছে। ‘নমামি গঙ্গে’ অভিযানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ২৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে। পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে কয়েকটি প্রকল্প দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে। গঙ্গার দুই পাড়ের প্রায় সমস্ত গ্রামকে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কর্মমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি আমাদের গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গঙ্গা মা’কে বাধাহীন পূণ্যতোয়া, স্বচ্ছতোয়া করে তোলার সঙ্কল্পের অংশ।

 

আজ এই অভিযান দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলার পিছনে সাধারণ মানুষের ভূমিকা, নদীর প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের মনে দায়িত্ব ভাবনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নাহলে, মা গঙ্গা সাফাইয়ের নামে কিভাবে পুরনো সরকারগুলি হাজার হাজার কোটি টাকা ভাসিয়ে দিয়েছে, তা আমরা ভালোভাবেই জানি।

 

বন্ধুগণ, আজ এখানে বারাণসীর কয়েকটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। পুরাতন কাশীর অতিরিক্ত কিছু অঞ্চলে আইপিডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে, শহরের পথে যে বিদ্যুতের তারের জাল ঝুলত, সেগুলি এখন মাটির নিচে সুবিন্যস্ত হয়েছে। এটাও আমার উন্নত কাশী স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামীদিনে শহরের অন্যান্য অঞ্চলেও এই মাটির নিচের বিদ্যুৎ পরিবহণের ব্যবস্থা বিস্তার লাভ করবে।

 

বন্ধুগণ, আপনাদের প্রচেষ্টা এবং প্রেরণায় আজ চির পুরাতন কাশীর একটি নতুন চিত্র দেশ ও বিশ্বের সামনে প্রস্ফুটিত হচ্ছে। এখন আমাদের একে অলঙ্কৃত করতে হবে, সুরক্ষিত রাখতে হবে যাতে আমাদের গৌরবময় শহরের গৌরবগাথা গোটা বিশ্বকে মোহিত করে রাখে।

 

আগামী বছর জানুয়ারি মাসে কাশীর পবিত্র ভূমিতে প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালন করা হবে। এই আয়োজনের জন্য আমিও আপনাদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত সমাগত অতিথিদের স্বাগত জানানোর জন্য বারাণসীতে উপস্থিত থাকব। সেই সময় প্রয়াগরাজে অর্ধ কুম্ভেরও আয়োজন শুরু হবে। সেখান থেকেও অনেকে বারাণসী আসবেন।

 

আমাদের সকলের ইচ্ছা যে বিশ্বের সর্বাধিক প্রাচীন শহর কাশীর গরিমা এবং সর্বাধুনিক পরিষেবার এমন সঙ্গম হোক যা পর্যটকদের স্মৃতিতে সারা জীবন অক্ষয় হয়ে থেকে যাবে। পর্যটকদের মনে বারবার এখানে আসার চাহিদা তৈরি হবে।

 

অবশেষে, আরেকবার আপনাদের সকলকে এই সমস্ত পরিষেবার জন্য, উন্নয়নের নতুন নতুন প্রকল্পের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের সবাইকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ তথা পূর্ব ভারতের বন্ধুদের আরেকবার ছট পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

জয় ছঠী মাইয়া!!!

হর হর মহাদেব!

Pariksha Pe Charcha with PM Modi
Explore More
আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় ভাষণ

আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
Rs 49,965 Crore Transferred Directly Into Farmers’ Account Across India

Media Coverage

Rs 49,965 Crore Transferred Directly Into Farmers’ Account Across India
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Telephonic conversation between PM Modi and PM Lotay Tshering of Bhutan
May 11, 2021
শেয়ার
 
Comments

Prime Minister Shri Narendra Modi had a telephone conversation today with the Prime Minister of Bhutan, Lyonchhen Dr. Lotay Tshering.

The Bhutan Prime Minister expressed solidarity with the Government and the people of India in their efforts against the recent wave of COVID-19 pandemic. Prime Minister conveyed his sincere thanks to the people and Government of Bhutan for their good wishes and support.

He also appreciated the leadership of His Majesty the King in managing Bhutan's fight against the pandemic, and extended his best wishes to Lyonchhen for the continuing efforts.

The leaders noted that the present crisis situation has served to further highlight the special friendship between India and Bhutan, anchored in mutual understanding and respect, shared cultural heritage, and strong people to people links.